ঢাকা, শনিবার 06 May 2017, ২৩ বৈশাখ ১৪২৩, ০৯ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রসঙ্গ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা

আশিকুল হামিদ : শুরুতে দুটি খবরের উল্লেখ করা যাক। প্রথম খবরটি পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন এক দাবি সংক্রান্ত। বহুল আলোচিত তিস্তা চুক্তিবিরোধী প্রধান ফ্যাক্টর হিসেবে পরিচিত নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার  বাংলাদেশের কাছে আত্রাই নদীর পানির হিস্যা চেয়ে বসেছেন। রাজ্য বিধান সভায় এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে মমতা বলেছেন, আত্রাই একটি আন্তর্জাতিক নদী। কারণ, বাংলাদেশ থেকে বেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম দিনাজপুর জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে নদীটি। কিন্তু পশ্চিম বঙ্গকে না জানিয়ে বাংলাদেশ আত্রাইয়ের ওপর বাঁধ নির্মাণ করে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে পশ্চিম বঙ্গ তার পানির হিস্যা পাচ্ছে না এবং ভারতের অংশে আত্রাই শুকিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ নাকি মাঝেমধ্যে আবার হঠাৎ বাঁধ খুলে দেয় আর তখন প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা। এসব কারণেই বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য মমতা বিষয়টিতে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ও দাবি বিশেষ করে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। এর কারণ নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখে না।
ওদিকে দ্বিতীয় খবরটিও কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। এতে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের কাশ্মীর অংশের ভেতরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানো হতে পারে বলে ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত ঘোষণা করেছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জম্মু-কাশ্মীরের উরি সেক্টরে কথিত সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত প্রথমবারের মতো পাকিস্তানে ঢুকে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানোর দাবি করেছিল। এখন নাকি কাশ্মীরে আবারও কথিত জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের ভয়ংকর তৎপরতা শুরু হয়েছে। ক’দিন আগে জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা নাকি দু’জন ভারতীয় সেনার ‘মুন্ডু’ পাঠিয়েছে। এর জবাবেই জেনারেল বিপিন রাওয়াত ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তারা অর্থাৎ ভারতের সেনাবাহিনী বলে-কয়ে সব কাজ করেন না। কাজ করে তারপর জানান দেন। প্রসঙ্গক্রমে তিনি ভারতে বিদেশী তথা পাকিস্তানী জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের কর্মকা- বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারেও কিছু কথা বলেছেন। তার আঙুল উঠেছে বাংলাদেশের কথিত জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের দিকেও।
প্রসঙ্গক্রমে সঙ্গত কারণেই ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে কথা উঠছে। কারণ, স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামরত কাশ্মীরে শুধু নয়, আসাম ও মনিপুরসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্য সব রাজ্যেও বহু বছর ধরে বিশেষ ক্ষমতা আইনের যথেচ্ছ প্রয়োগ ঘটছে। আইনটির অধীনে নির্যাতিত হচ্ছে ভারতের সাধারণ মানুষ। রাজ্যগুলোকে ‘উপদ্রুত অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। আইনের আড়াল নিয়ে ক্রসফ্রায়ারে হত্যা থেকে ধর্ষণ পর্যন্ত সব ধরনের অপরাধই করে চলেছে ভারতের সেনাবাহিনী। প্রতিবাদে সময়ে সময়ে আন্দোলন গড়ে উঠলেও এবং সেসব আন্দোলনে পৃথিবী জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে গেলেও ভারত আইনটি বাতিল করেনি। উল্লেখ্য, চরম নিবর্তনমূলক বিশেষ ক্ষমতা আইনটি তৈরি করেছিলেন ‘গণতান্ত্রিক’ ভারতের প্রতিষ্ঠাতা-প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওয়াহেরলাল নেহরু। বলা হচ্ছে, ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানোর ইঙ্গিত দেয়ার আড়ালে কুখ্যাত সে আইনটি প্রয়োগেরও পরোক্ষ হুমকি দিয়েছেন জেনারেল বিপিন রাওয়াত। তেমন অবস্থায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরে শুধু নয়, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও নতুন পর্যায়ে দমন-নির্যাতন মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
শুরুতে দুটি পৃথক ধরনের খবর উল্লেখের উদ্দেশ্য আসলে ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃবৃন্দের মনোভাবের পাশাপাশি দেশটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও কিছুটা ধারণা দেয়া। এ আর মোটেও নতুন খবর নয় যে, ভারতের অনেক রাজ্যেই সশস্ত্র সংঘাত চলছে। পাশাপাশি আছে ভয়ঙ্কর ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। কিছুদিন আগের এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, ভারতের ৬০৮টি জেলার মধ্যে ২৩১টি জেলায় অর্থাৎ দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকাতেই সশস্ত্র যুদ্ধ ও সন্ত্রাসী কর্মকা- চলছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হিসাবে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংখ্যা ২৭০টি। রয়েছে ‘নকশাল’ ধরনের বিপ্লবী ও মাওবাদী এবং ‘ডিফেন্স’ ও ‘কমান্ডো ফোর্স’ ধরনের সংগঠন। এসব সংগঠন পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার সদস্যকে হত্যা করেছে। সশস্ত্র তৎপরতার কারণে ভারতের প্রধান আটটি রাজ্যকে ‘লাল’ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করতে হয়েছে (পশ্চিমবঙ্গ, মধ্য প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার, উড়িষ্যা, ঝাড়খ-, ছত্তিশগড়, অন্ধ্র প্রদেশ)। ভারতে সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যুর সংখ্যাও যে কাউকে ভীত-আতংকিত করবে। ১৯৯৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মোট ৫৪ হাজার ৯৬৯ জন সন্ত্রাসী হামলায় মারা গেছে। এত মৃত্যু বাংলাদেশে তো বটেই, বিশ্বের অন্য কোনো দেশেও কল্পনা করা যায় না। ‘অসাম্প্রদায়িক’ রাষ্ট্র ভারতে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সংখ্যাও কম নয়। সরকারি দল বিজেপির মাতৃসংগঠন আরএসএস-এরই ৪৫ হাজার শাখা সংগঠন রয়েছে। ‘ভারত কেবলই হিন্দুদের দেশ’- এই উগ্র হিন্দুত্ববাদী স্লোগানমুখে ভয়ংকর তৎপরতা চালাচ্ছে তারা। খোদ ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী রিপোর্টে জানা গেছে, সন্ত্রাসী সংগঠন শুধু গড়েই ওঠেনি, কোনো কোনো সংগঠন কয়েক দশক ধরেও তৎপরতা চালিয়ে আসছে। এসব সংগঠনের সঙ্গে ভারতের সেনা অফিসাররাও নানাভাবে জড়িত রয়েছেন। সবকিছুর পেছনে রয়েছে শিব সেনা, বজরঙ্গ দল, আরএসএস বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বা ভিএসপির মতো কয়েকটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চলমান স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সন্ত্রাসী কর্মকা- সম্পর্কে উল্লেখের কারণ ও উদ্দেশ্য একথাই জানানো যে, বাংলাদেশে নয়, জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে আসলে ভারতে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম থেকে  ভারতের সাহায্যে বাংলাদেশের কথিত জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের দমনের নামে উঠে-পড়ে লেগে আছে। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে, ভারতের তুলনায় জঙ্গিই যেখানে নেই সেখানে কোন জঙ্গিদের দমনের নামে ভারতের সাহায্য নেয়ার জন্য সরকার এত উতলা হয়ে পড়েছে? এর একটিমাত্র উত্তরই হতে পারেÑ আসলে দেশ বিশেষের সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার অজুহাত সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। এর পেছনেও রয়েছে ওই দেশটির প্ররোচনা। অন্যদিকে ভারতের পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞরাও কিন্তু নয়াদিল্লীর কৌশল ও মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করেছেন। অনেক উপলক্ষেই তারা বলেছেন, সন্ত্রাসের প্রশ্নে পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশকে টেনে আনার প্রকৃত কারণ হচ্ছে, নয়াদিল্লী কখনো নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা ও অক্ষমতার কথা স্বীকার করতে চায় না।
প্রশ্ন হলো, যে দেশ নিজের সন্ত্রাসই দমন করতে পারে না, সে দেশ কিভাবে অন্য দেশের কথিত জঙ্গিদের দমন করবে? এজন্যই এ আশংকা শক্তি অর্জন করেছে যে, ভারত এবং আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্দেশ্য আসলে বাংলাদেশের কথিত জঙ্গিদের দমন করা নয়। জঙ্গি দমনের আড়াল নিয়ে ভারত একদিকে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত রাজ্যের সংঘাত দমন করতে চায়, অন্যদিকে চায় বাংলাদেশকে নিজের সন্ত্রাসের ভাগাড়ে পরিণত করতে। উল্লেখ্য, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর পাঁচ লাখের বেশি সেনা সাত রাজ্যের সংঘাত দমনে নিয়োজিত রয়েছে। জঙ্গি দমনের নামে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে চলাচলের সুযোগ দেয়া হলে বাংলাদেশ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সংগ্রামীদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত হবে। তেমন অবস্থায় ভারতের বিদ্রোহীরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও সংঘাত শুরু করতে পারে। তেমনটি ঘটলে ভারতের রণাঙ্গন চলে আসবে বাংলাদেশে এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী এদেশে শুধু স্থায়ীভাবে আসনই গেড়ে বসবে না, বাংলাদেশকেও ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যা তথা সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে হবে।
মূলত এখান থেকেই বাংলাদেশের নিরাপত্তার প্রশ্নটি প্রাধান্যে এসেছে। বর্তমান পর্যায়ে বিশেষ কারণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে ভারতকে ট্রানজিট ও করিডোর দেয়ার সিদ্ধান্ত। কারণ, রাষ্ট্রের অস্তিত্ব জড়িত থাকলেও এ ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গোপনে। জনগণকে জানানো দূরে থাকুক, সরকার এসব বিষয় নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা করেনি। অথচ প্রমাণিত সত্য হলো, বাংলাদেশের প্রতি ভারতের নীতি ও মনোভাব মোটেও বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। তাছাড়া পৃথিবীর কোনো ছোট দেশই প্রতিবেশী বড় দেশকে তার ভূমি, সড়ক ও সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করতে দেয় না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি সব দিক থেকেই বিপজ্জনক। চট্টগ্রাম বন্দরের কথাই ধরা যাক। ধারণ ও পরিবহণ ক্ষমতা খুব কম বলে শুধু বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনকারী জাহাজগুলোকেই বন্দরে ও বহির্নোঙ্গরে দিনের পর দিন, এমনকি মাসেরও বেশি পর্যন্ত আটকে থাকতে হয়। কন্টেইনার জটও সেখানে নিয়মিত বিষয়। ভারতকে যদি ওই বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হয় তাহলে এখনকার চাইতে কয়েকশ’ গুণ বেশি জাহাজ যাতায়াত করবে। ফলে জাহাজ ও কন্টেইনার জটও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। চুক্তি থাকায় ভারত ক্ষয়ক্ষতি মানবে না। তখন ভারতীয় জাহাজকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে প্রথমে বাংলাদেশের জাহাজকে বন্দরে ভিড়তে দেয়া হবে না। সৃষ্টি হবে ভয়াবহ সমস্যা। ভারত একই সঙ্গে তার পণ্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে চাইবে। সড়ক পাহারা দেয়ার এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে পণ্য আনা-নেয়া নিশ্চিত করার জন্য পর্যায়ক্রমে সারা দেশে অবস্থান নেবে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
বাংলাদেশের সড়ক পথের দিকটিকেও বিবেচনায় রাখা দরকার। আমাদের অপ্রশস্ত সড়ক ও হাইওয়েগুলো এমনিতেই সব সময় থাকে জীর্ণ দশায়। সেতুগুলোর অবস্থা নড়বড়ে। ভারতের ভারি যানবাহন চলাচল শুরু করলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কগুলো এবড়ো-থেবড়ো হয়ে ডেবে যাবে, অনেক সেতু ভেঙেও পড়বে। ফলে দেশের যাতায়াত ব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়বে। তেমন অবস্থায় নির্মাণ ও মেরামতের ঠিকাদারিও ভারতীয়রাই আদায় করে নেবে। তাছাড়া ভারতকে জাহাজ, ট্রেন ও যানবাহন চলাচল করার সুবিধা দেয়া হলে কলকাতা থেকে আগরতলা পর্যন্ত সরাসরি রেল চলাচল শুরু হবে। এর ফলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘিœত হবে। ভারত বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে তার উপদ্রুত সেভেন সিস্টারে সেনা পাঠাতে চাইবে।
সব মিলিয়ে কোনো বিবেচনাতেই ভারতকে উপযুক্ত শর্ত ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছাড়া ট্রানজিট-ট্রানশিপমেন্ট বা করিডোর দেয়া এবং সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করতে দেয়ার সিদ্ধান্ত সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। এই আশংকাকে প্রথম থেকে ‘জুজুর ভয়’ হিসেবে ব্যঙ্গ করে আসা হয়েছে এবং দেশপ্রেমিকদের বিরোধিতাকে নাকচ করে দেয়া হয়েছে। ভারতের জন্য বাংলাদেশের দরজা খুলে দেয়ার ঘোষণাও জোরেশোরেই দেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক দিল্লী চুক্তিকালেও শুধু ভারতকে দিয়েই আসা হয়েছে। অথচ বাণিজ্য, পানি আগ্রাসন, ছিটমহল ও সীমান্ত সমস্যা এবং সমুদ্রসীমাসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যে কোনো পর্যালোচনায় দেখা যাবে, ভারত শুধু নিতেই জানে, দিতে নয়। চুক্তি লংঘন করা এবং প্রতিটি বিষয়ে প্রতারণা ও চাতুরির আশ্রয় নেয়ার ব্যাপারেও ভারতের কোনো জুড়ি নেই। এজন্যই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এসেছে। বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতীয়দের নীতিতে পরিবর্তন ঘটবারও কোনো সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না। তা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপস করে চলেছে।
ভারতীয়রা বরং অনেক উপলক্ষেই তাদের প্রকৃত মনোভাবের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এ ব্যাপারে সর্বশেষ উদাহরণ দেয়ার জন্য পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা উল্লেখ করা যায়। তিস্তার পানি না দিয়ে বরং এখন আত্রাই নদীর পানির জন্য বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। এভাবে উদাহরণের সংখ্যা না বড়িয়ে বলা দরকার, সরকারের উচিত সবকিছুর আগে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ব্যাপারে সতর্ক হওয়া।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ