ঢাকা, শনিবার 06 May 2017, ২৩ বৈশাখ ১৪২৩, ০৯ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নৈরাজ্য বন্ধের পরিবর্তে আত্মসমর্পণ কোনো বিবেচনাতেই কাম্য নয়

গণপরিবহন ইংরেজি Public Transport যা দিয়ে সাধারণ জনগণ একস্থান থেকে অন্য স্থানে তথা গন্তব্যস্থানে পৌঁছেন। গণ শব্দটি দিয়ে আমাদের দেশের নামটি লিখা হয় অর্থাৎ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ যার ইংরেজি People’s Ripublic of Bangladesh. গণতন্ত্র বা Democracy এখানেও ‘গণ’ শব্দটি রয়েছে যা নিয়ে এত বিড়ম্বনা।
গত ৪এপ্রিল গনপরিবহনের নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্গলা ঠেকাতে রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস বন্ধের ঘোষণা দেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। সে অনুযায়ী ১৬ এপ্রিল থেকে সিটিং সার্ভিস বন্ধ হওয়ার কথা থাকলেও কার্যত তা হয়নি। বরং উল্টো লোকাল বাসে সিটিং ভাড়া আদায় করতে মালিক পক্ষে একদল গুন্ডা প্রকৃতির লোক যারা যাত্রীদেরকে করছে হ্যানস্তা ও অপমান। রাজধানীতে চলমান জন ভোগন্তির পেছনে শাসক দলের নেতাদের প্রধান ভূমিকা রয়েছে বলে পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়। রাজধানী ঢাকায় সড়ক পথে বিরাজমান নৈরাজ্য ও দেশের সন্তান তুল্য নাগরিকদের ভোগন্তি দেখেও দেখছে না সংশ্লিষ্টরা। পরিবহনে নৈরাজ্য বন্ধের পরিবর্তে মালিক পক্ষ বা প্রভাশালী মহলের কাছে আত্মসমর্পণ কোনো বিবেচনাতেই কাম্য নয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই তারা জনগণের ভোগন্তি দেখেও দেখছে না।
 দেশের পরিবহন সেক্টর বিদেশীদের হাতে চলে যাওয়ার মত পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ভারত ৪টি রুটের এগ্রিমেন্ট রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে ১। ঢাকা- যশোর- কলকাতা, ২। ঢাকা-আগরতলা  ৩। কলকাতা- ঢাকা- আগরতলা ৪। ঢাকা-সিলেট-গোয়াহাটি। ৭ এপ্রিল/২০১৭ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে দেশটির সঙ্গে বাস সার্ভিস চালুর চুক্তি করে ঢাকা-খুলনা-কলকাতা বাস চলাচলের প্রস্তুতি চলছে।
ঢাকা-কলকাতা রুটে বাস সার্ভিস চালু হয় ১৯৯৯ সালে। যশোর হয়ে বেনাপোল-পেট্রোপোল দিয়ে কলকাতা যাতায়াত করে এ রুটের বাস। আর ২০১৫ সালে উদ্ধোধন করা হয় আগরতলা ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিস। এ ক্ষেত্রেও যশোর হয়ে কলকাতা যাতায়াত করে বাস। এবার ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কলকাতা বাস সার্ভিস চালু করা হচ্ছে।
পরিবহন ব্যবস্থা ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিরাট অবদান রেখে চলেছে। বিশেষ করে ভারত প্রতি বছর ১৬ লক্ষ মেট্রিক টন কয়লা বিদেশে রপ্তানী করে। রপ্তানির প্রায় শতকরা ৬৫ ভাগেই বাংলাদেশে আসে। দিন দিন ভারতের পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। ভারতের পরিবহন মন্ত্রণালয় এ ব্যবস্থার নীতি নির্ধারণ করে থাকেন।
বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার চরম দূরবস্থা নিরসনের জন্য স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারকেই যথাযথ ভূমিকা নেয়া দরকার। আর এজন্য দরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনদরদী সরকার। তবেই সম্ভব গণপরিবহনে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা এবং পরিবহনের সর্বক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।
-আবু মুনীর

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ