ঢাকা, শনিবার 06 May 2017, ২৩ বৈশাখ ১৪২৩, ০৯ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মাধবদীর নিম্নাঞ্চলে ১২’শ হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে

মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা : মাধবদীর নিম্নাঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে কাঁচা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেই সাথে নষ্ট হয়েছে উঠতি পাটের চারা ও মৌসুমী রবি শস্য। পূর্বাঞ্চলীয় ইউনিয়ন মহিষাশুড়া, পাইকারচর, সদাসদীর অধিকাংশ গ্রাম বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয় ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। থানা কৃষি কর্মকর্তার দেয়া তথ্যমতে মাধবদীর নিম্নাঞ্চলীয় এলাকায় প্রায় ১২’শ হেক্টর জমিতে বোরা আবাদ হয়েছে। ফলনও ভাল হবার আশা ছিল। কিন্তু বৈশাখী ঝড় আর অস্বাভাবিক বৃষ্টির ফলে কাঁচা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হতাশা সৃষ্টি হয়েছে এখানকার কৃষিজীবী মানুষের মাঝে। শুধু ধান আর পাটই নয় তলিয়ে গেছে তিল-তিশি সরিষা সহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত। বসত ভিটায় পানি উঠায় ছোট ছোট খামারির ও চাষবাসের জন্য পালন করা গবাদী পশু পালনে সমস্যা এবং তীব্র পশু খাদ্য সঙ্কটে পড়ে পানির মূল্যে সেই সব গবাদী পশু বিক্রি করতে শুরু করেছেন। গত সোমবার মাধবদী বাজারের গরুর হাটে কোরবানীর পশুর হাটের মতো প্রচুর গরু-ছাগল আমদানি হতে দেখা গেছে। এরই মধ্যে অনেক কৃষক অধা পাকা ধান কাটতেও দেখা গেছে। এখনও মেঘনা নদী থেকে খাল বেয়ে আসা পানি বাড়ছে বলে আগাম বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। আর তাই পূর্বাঞ্চলীয় মানুষ ফসল রক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই বলে কাঁচা ধান কেটে নিচ্ছেন। এ অঞ্চলের কৃষিজীবী মানুষ এবার খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা করছেন।
দেখা দিয়েছে চর্মরোগ ও ডায়রিয়া 
মাধবদীর পূর্বাঞ্চলীয় ৩টি ইউনিয়নে জলাবদ্ধতায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সাথে দেখা দিয়েছে চর্মরোগ ও ডায়রিয়া। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিক নিচে নেমে যাওয়ায় ডিপ টিউবওয়েল, সেলু ও সাধারণ টিউবওয়েল গুলোতে খুব সামান্য পানি উঠছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প। অপর দিকে থেমে থেমে বৃষ্টি ও খাল-বিল নালা গুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় মেঘনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে এ এলাকায় প্রবাহিত হয়ে অকাল বর্ষায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে নোংরা আবর্জনায় মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে। ফলে পুরো এলাকায় দেখা দিয়েছে চর্মরোগ ও ডায়রিয়ার প্রকোপ। গতকাল এ তিনটি ইউনিয়ন মহিষাশুড়া, পাইকারচর, সদাসদি’র প্রায় সব ক’টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি ক্লিনিক ঘুরে দেখা গেছে শিশু সহ সব বয়সের রোগীর ভিড়। তাদের সাথে কথা বলে জানাগেছে কোনটাতে চিকিৎসক নেই আবার কোনটাতে সহকারী চিকিৎসক চিকিৎসা দিচ্ছে অথবা কোনটাতে ওষুধ নেই। বিনামূল্যের স্যালাইন পাচ্ছেনা কেউ। চিকিৎসা কেন্দ্র গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানাযায় গত এক সপ্তাহ যাবৎ প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রোগী বাড়লেও ওষুধ ও চিকিৎসা পণ্যের স্বল্পতা প্রতিদিনই কমছে। এমতাবস্থায় নরসিংদীর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে বলা হয় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোতে প্রয়োজনীয় সব কিছুই সময় মতো প্রেরণ করা হয়। তবে অনেকে ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেন না। এ ব্যাপারে সঠিক তদারকি জরুরি হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভুগী নিম্নাঞ্চলের লোকজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ