ঢাকা, শনিবার 06 May 2017, ২৩ বৈশাখ ১৪২৩, ০৯ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অপসারণে ৯৯ ব্যবসায়ীকে জেলা প্রশাসনের নোটিশ

খুলনা অফিস : ভৈরব নদের তীরে অবস্থিত খুলনার বড় বাজারে অবৈধভাবে নির্মিত আড়ৎ, গুদাম ও দোকান অপসারণের জন্য স্থানীয় ৯৯ ব্যবসায়ীকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ও বিআইডব্লিউটিএ অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠায়। ভৈরব নদের গতি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে কর্তৃপক্ষ এসব ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে। ১৯৩৯ সালে খুলনার বড় বাজারের যাত্রা শুরু থেকে ভৈরব নদের তীরে অবৈধ স্থাপনা ও দোকান পাট নির্মাণ শুরু হয়। গত ৭৮ বছরে এসব স্থাপনা কয়েকবার হাত বদল হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসন কর্তৃক নোটিশ প্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন-অরুণ কুমার সাহার মালিকানাধীন জয় দুর্গা বস্ত্রালয়, শ্যামাপদ মন্ডলের মালিকানাধীন মা মনি হার্ডওয়ার, সজীব কুমার সাহার মালিকানাধীন জনকল্যাণ বস্ত্রালয়, লুৎফর রহমানের মালিকানাধীন গাজী এনামেল, ফল ব্যবসায়ী সমিতির কর্মকর্তা আবুল বাসার পাটোয়ারির মোহাম্মদী ভান্ডার, আজাহারুল ইসলামের মালিকানাধীন আল করিম এজেন্সী, বাগদাদ ট্রেডিং, ওলিউল্লাহ পাটোয়ারির মালিকানাধীন আজমীর ভান্ডার, শামীম মোল্লার মালিকানাধীন নিউ পাক ভান্ডার, তাজুল ইসলাম পাটোয়ারির মালিকানাধীন সোহেল ট্রেডার্স, আবু তাহের পাটোয়ারির মালিকানাধীন সোহেল ট্রেডার্স, কামরুল ইসলামের মালিকানাধীন নিউ আব্দুল্লাহ ভান্ডার, বেলায়েত হোসেন সুমনের মালিকানাধীন গাউছিয়া ভান্ডার, শাহাদাত হোসেন সুমনের মালিকানাধীন মদীনা ট্রেডিং, কালীবাড়িস্থ বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স, ওহেদ গাজীর মালিকানাধীন ঘোষ ট্রেডার্স, সুমিত্রা হার্ডওয়ার, মদীনা হার্ডওয়ার, বিসমিল্লাহ স্টোর, ইউনাইটেড হার্ডওয়ার, জেকে স্টোর, বাগদাদ হার্ডওয়ার, হাবিব ভান্ডার, আশা বাণিজ্য ভান্ডার, খুলনা আয়রণ স্টোর, বিক্রমপুর এলুমিনিয়াম, নিউ কংস বনিক ভান্ডার, আপন ক্রোকারিজ, লোকনাথ ভান্ডার, তারা হার্ডওয়ার, শহীদ এন্ড সন্স, ভৈরব হোশিয়ারি স্টোর, শততা এলুমিনিয়াম স্টোর, আমিন হার্ডওয়ার, রূপালী হার্ডওয়ার ইত্যাদি।
খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করেছেন, নদী রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য রাখার স্বার্থে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা প্রয়োজন। ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন ১৩ ফেব্রুয়ারি এ নির্দেশ দেন।
বিআইডব্লিউটিএ’র স্থানীয় উপ-পরিচালক একেএম কায়সারুল ইসলাম জানান, বড় বাজারের ৯৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, গেল বছরের ১৭ জুলাই জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আজাহারুল ইসলাম সরেজমিনে পরিদর্শন করে যুগীহাটি মৌজায় দু’টি ইটভাটা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। নদী রক্ষা কমিশনের পরিচালক (পরীবিক্ষণ-১) ইকরামুল হক সংশ্লিষ্ট এলাকার অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে গত ১৩ মার্চ খুলনা জেলা প্রশাসকের কাছে দাপ্তরিক পত্র পাঠান।
মানববন্ধনে ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারী
খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি ভবনের সামনে ভ্যাটের হার কমানোর দাবিতে খুলনা সম্মিলিত ব্যবসায়ী সংগঠন সমন্বয় পরিষদ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সৈয়দ মাছুদ আলী নিলুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজি আমিনুল হক। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন খুলনা চেম্বারের নব নির্বাচিত পরিচালক পরিষদের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি শরীফ আতিয়ার রহমান, সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বিশ্বাস বুলু, সহ-সভাপতি  মো. মোস্তফা জেসান ভুট্টো, পরিচালকবৃন্দ শেখ আসাদুর রহমান, গোপী কিষান মুন্ধড়া, মো. মফিদুল ইসলাম টুটুল, মো. মোশাররফ হোসেন, এম এ মতিন পান্না, কাজী মাসুদুল ইসলাম, জেড এ মাহামুদ ডন,  জোবায়ের আহমেদ খান জবা, মো. আবুল হাসান, মো. বদরুল আলম মার্কিন, মো. মোস্তফা কামাল পাশা, ফকির মো. সাইফুল ইসলাম, মো. সিরাজুল হক, শেখ আল্লামা ইকবাল তুহিন, শেখ মো. গাউসুল আজম, মো. মনিরুল ইসলাম মাসুম, খান সাইফুল ইসলাম, শেখ মনিরুল ইসলাম, মো. মাহবুব আলম, সাবেক পরিচালক এস এম ওবায়দুল্লাহ, কাজী ফেরদৌস হোসেন তোতা, মো. তোফাজ্বল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, বাবু শ্যামল হালদার, কামরুল ইসলাম, দিদারুল ইসলাম বাচ্চু, আতাউর রহমান সিকদার রাজু, মো. ইসলাম খান,  চ. ম মুজিবর রহমান,  মো. এনায়েত হোসেন, এনায়েত কবির ডন, আবু জাফর, মাসুদুর রহমান গোরা, হুমায়ন কবির বাবু, মাফুজুল ইসলাম বাবু, মো. মোজাফফর মোল্লা, সলেমান তৈয়ব, আব্দুস সাত্তার মাস্টার প্রমুখ।
প্রধান অতিথি বলেন, সরকার আসন্ন বাজেটের যে নতুন ভ্যাট পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন তা আমাদের সাধারণ ব্যবসায়ীদের পক্ষ কোনভাবেই দেয়া সম্ভব নয়। ভ্যাট ৭শতাংশের অধিক ধার্য্য করা চলবে না ও প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, নতুন ১৫শতাংশ ভ্যাট কার্যকরী হলে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা অচল হয়ে পড়বে। তিনি আরও উল্লেখ করেন মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে ১০শতাংশ করে ভ্যাট ধার্য্য আছে। সরকারের প্রতি তিনি সহনীয় পর্যায় প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখার আহবান জানান এবং তিনি বিশেষ ভাবে আরও উল্লেখ করেন যে সরকার ইতিমধ্যে ট্রেড লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি করেছে এবং ব্যবসায়ীদের সে মোতাবেক ট্রেড লাইসেন্স ফি প্রদান করতে হচ্ছে তথাপি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সমুহের সাইনবোর্ড এর উপর আলাদা ভাবে ফি ধার্য্য করা হয়েছে যা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। উপরোক্ত দাবিসমূহ কর্তৃপক্ষ যদি না মানেন তা হলে আগামীতে ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার কথা। খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পরিষদ এর পক্ষ থেকে এ মানববন্ধন কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ