ঢাকা, শনিবার 06 May 2017, ২৩ বৈশাখ ১৪২৩, ০৯ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বড়াইগ্রামে কাউন্সিলরের নেতৃত্বে হোটেল ভাংচুর-মারপিট ॥ ব্যবসায়ীদের মহাসড়ক অবরোধ-আলটিমেটাম

বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা : বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় পুলিশের উপস্থিতিতে মদ্যপ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড মেম্বারের নেতৃত্বে একটি হোটেল ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালে এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রায় সহস্রাধিক ব্যবসায়ী দোকানপাট বন্ধ রেখে দেড় ঘন্টাব্যাপী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ প্রশাসন দোষীদের আটকের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন তারা। তবে শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে অভিযুক্তরা আটক না হলে শনিবার থেকে লাগাতার ধর্মঘট ও অবরোধের হুমকি দেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে বনপাড়া পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ঈমান আলী, মাঝগাঁও ইউপি’র ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল আজিজ ও বনপাড়া মহল্লার ডিবি সোর্স সুরুজ আলী মদ্যপ অবস্থায় বনপাড়া বাজারের সেলিম হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে আকস্মিক হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও হোটেলের কর্মচারী সোহরাব ও লোকমানকে মারপিট করে। এ সময় হোটেল মালিক সেলিম হোসেনকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। ঘটনার সময় ফোর্সসহ সাব-ইন্সপেক্টর দয়াল কুমার ব্যানার্জি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তাদেরকে নিবৃত্ত দেয়ার চেষ্টা করেননি বলে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল মালিক দাবী করেছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে নাটোর-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে দায়ীদের আটকের দাবীতে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এ সময় মহাসড়ক দখল করে বিক্ষোভ সমাবেশে উপজেলা বণিক সমিতির সভাপতি ফজলুর রহমান তারেক, সাবেক সভাপতি ধীরেন্দ্রনাথ সাহা, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়েজউদ্দিন ও শহীদুল ইসলাম, ফুলবার হোসেন ফকির বক্তব্য রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শুক্রবার সন্ধ্যার আগে দায়ীদের আটকের আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা তাদের অবরোধ তুলে নেন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর ঈমান আলীর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় শুনেই তিনি কল কেটে দেন। বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে। এছাড়া ঘটনার সময় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বড়াইগ্রামে জমি নিয়ে সংঘর্ষে মহিলাসহ ১০ জন আহত
বড়াইগ্রামের গোপালপুর ইউনিয়নের মৃধা কচুয়া গ্রামে শুক্রবার সকালে বিবাদমান জমির দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মহিলাসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় একটি বাড়ি ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানান, মৃধা কচুয়া গ্রামের শাহ আলমের সাথে ৬ বিঘা ২৪ শতাংশ জমি নিয়ে একই গ্রামের জিনাত আলী মেম্বারের আদালতে মামলা চলছিল। সম্প্রতি উচ্চ আদালতের রায়ে জমির মালিকানা ফিরে পেয়ে শুক্রবার সকালে শাহ আলমের লোকজন জমিতে যায়। এ সময় জিনাত মেম্বার ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করলে তারা বাড়িতে এসে আশ্রয় নেয়। কিন্তু জিনাত মেম্বারের লোকজন শাহআলমের বাড়িতে হামলা করলে উভয় পক্ষে সংঘর্ষ বাধে। এতে শাহ আলমের স্ত্রী ফিরোজা বেগম, ছেলে সাদ্দাম হোসেন, ভাতিজা সেলিম হোসেন ও উজ্জল হোসেন এবং অপর পক্ষের হাফিজুল ইসলাম, আব্দুল মজিদ, এনামুল ইসলাম ও মোয়াজ্জেম হোসেন, জব্বার আলী, শরীফুল আহত হন। আহতদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বড়াইগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয়পক্ষে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এ ব্যাপারে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ