ঢাকা, রোববার 07 May 2017, ২৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে জাতিসংঘে ভারতের তীব্র সমালোচনা

৬ মে, ইন্টারনেট : ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে তীব্র ভাষায় ভারত সরকারের সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। পাশাপাশি, নারী নির্যাতন, লিঙ্গবৈষম্য, বিশেষভাবে কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
শুক্রবার জেনেভায় প্রকাশিত জাতিসংঘের ‘ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউ রিপোর্ট’-এ তীব্র ভাষায় ভারত সরকারের সমালোচনা করা হয়। প্রতি চার বছর অন্তর এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদন যে চার বছর নিয়ে তৈরি হয়েছে, তার বেশির ভাগটাই মোদী সরকারের আমলে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সুপারিশ মেনে ভারত দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষদের আরো বেশি আইনি সহায়তা দিতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ভারতে বেড়ে চলেছে বিনা বিচারে জেলবন্দি রাখার ঘটনা। দলিত, আদিবাসী এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এটা বেশি হচ্ছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, গত চার বছরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হিংসা এবং বৈষম্য কমাতে কোনো পদক্ষেপই নেয় নি ভারত।
লিঙ্গ বৈষম্যের প্রসঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন মনে করছে, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ কমানো এবং এই ধরনের ঘটনার তদন্তের প্রশ্নে কোনো অগ্রগতি হয় নি।
যদিও জাতিসংঘের তোপের মুখে দাঁড়িয়ে ‘ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউ ওয়ার্কিং গ্রুপ’-এর বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধি অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগি বলার চেষ্টা করেছেন যে, ‘ভারত একটি ‘ধর্মনিরপেক্ষ দেশ’। ভারতের কোনো রাষ্ট্রীয় ধর্ম নেই। ধর্মনিরপেক্ষ দেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার সুনিশ্চিত করাটা দেশের মৌলিক নীতির মধ্যেই পড়ে। ভারতের ঐতিহ্য সহিষ্ণুতার, সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলার।’
ভারতের পক্ষ থেকে এই সহিষ্ণুতার দাবি অবশ্য ধুলোর মত উড়ে গেছে।
এই প্রতিবেদন নিয়ে মতামত দিতে দেরি করেনি পাকিস্তান। জেনেভার ওই সম্মেলনেই ইসলামাবাদের প্রতিনিধি ভারতকে আক্রমণ করে বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল অবিলম্বে কাশ্মীর সফর করে পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখুক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ