ঢাকা, রোববার 07 May 2017, ২৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সিরিয়ায় নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার চুক্তি কার্যকর হয়েছে

৬ মে, বিবিসি, এএফপি : কাজাখস্তানের রাজধানী আসতানায় অনুষ্ঠিত সিরিয়া বিষয়ক শান্তি আলোচনায় সিরিয়ার চারটি এলাকায় ‘নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার চুক্তি কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।
গত শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতের পর শনিবার থেকে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জানিয়েছে রাশিয়ার বার্তা সংস্থাগুলো।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার আসতানার বৈঠকে রাশিয়ার প্রস্তাবিত সিরিয়ার চারটি এলাকায় ‘নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সম্মতি জানায় ইরান ও তুরস্ক।
সিরিয়ার আটটি প্রদেশজুড়ে বিস্তৃত এই চারটি নিরাপদ অঞ্চল। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত।
এর মধ্যে রয়েছে সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ও সংলগ্ন লাতাকিয়া প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলো, হামার মধ্য পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলো এবং উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো প্রদেশ। এই এলাকাগুলোর মোট জনসংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি বলে জানিয়েছে রুশ মন্ত্রণালয়টি।
হামা প্রদেশের উত্তরাংশজুড়ে দ্বিতীয় ‘নিরাপদ অঞ্চল’। তৃতীয় ‘নিরাপদ অঞ্চলের’ অবস্থান রাজধানী দামেস্কেরকাছে ঘৌতা এলাকায়।
দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা ও কুনেইত্রা প্রদেশের অধিকাংশ জেলা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে চতুর্থ ‘নিরাপদ অঞ্চল’।
এসব এলাকায় সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর লড়াই বন্ধ রাখার জন্য এই ‘নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এসব এলাকার শান্তি নিশ্চিত করার জন্য বিদেশি সেনারা পুলিশি ভূমিকা পালন করবে।
এই ‘নিরাপদ অঞ্চল’ চুক্তিটির প্রতি জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব সমর্থন জানিয়েছে এবং এটি বাস্তাবায়নে তারা সহযোগিতা করবে বলে রাশিয়ার ডেপুটি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলেক্সান্দর ফোমিনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আরআইএ ও ইন্টারফ্যাক্স।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে পেন্টাগনের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন জেফ ড্যাভিস ‘নিরাপদ অঞ্চলের’ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও জানিয়েছেন, সিরিয়ায় অভিযানরত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী তাদের অভিযানে কোনো পরিবর্তন আনবে না।
সিরিয়ার সরকারও ‘নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিতে সমর্থন জানিয়েছে, তবে ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও জাবহাত ফাতেহ আল শামের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে।
অপরদিকে বিদ্রোহীরা ‘নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ইরানকে তারা কোনো অস্ত্রবিরতির নিশ্চয়তাদানকারী পক্ষ হিসেবে মেনে নেবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ