ঢাকা, রোববার 07 May 2017, ২৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভাগ্য রজনী শবেবরাত

-হোসেন মোতালেব
ছোট্ট বন্ধুরা আজ তোমাদেরকে একটি ভিন্ন বিষয়ে ধারনা দিতে চাই। তোমরাতো জান মহান
আল্লাহর অমোঘ নিয়মে দিবা রাত্রির আগমন ঘটে। কালের পাখায় ভর করে বর্ষ পরিক্রমায় আসে বেশ কয়েকটি পুণ্য রজনী। এমনি একটি রাত নিয়ে আজকের আলোচনা। হ্যাঁ বন্ধুরা, বলছি শবে বরাতের  কথা। এটি ফারসী ভাষার একটি যৌগিক শব্দ। শব অর্থ রাত আর বরাত অর্থ ভাগ্য। সুতরাং শবে বরাত
অর্থ ভাগ্য রজনী বা মহিমান্বিত রাত। এ মহিমান্বিত রজনীর ফজিলত সম্পর্কে হযরত রাসুলে মাকবুল (সাঃ) বলেছেন-এ বছর যত আদম সন্তান জন্ম নেবে ও মৃত্যু বরণ করবে তাদের সংখ্যা লিপিবদ্ধ করা হয় এ রাতে । এ রাতে সমস্ত মানুষের আমল উঠিয়ে নেওয়া হয় ও সকল জীবের রিজিক বন্টন করা হয় ।
বন্ধুরা একটি কথা কিন্তু খোলাসা করে বলা হয়নি, এত ফজিলত পূর্ণ রাত আসলে কোন রাত । শোন তাহলে, রাতটি হল শাবান মাসের ১৪-ই দিবাগত রাত।
এ রাত সম্পর্কে রাসুলে কারীম (সাঃ) আরো বলেছেন- তোমরা এ রাতে জাগরণ করবে এবং রোজা রাখবে ।তবে হ্যাঁ বন্ধুরা, তোমরা যারা একদম-ই 
ছোট্ট, তারাতো আর রোজা রাখতে পারবেনা, তবে একটা কাজ অবশ্য করতে পার। তোমাদের মা-বাবা, চাচা-চাচী, খালা-খালু সহ বড়দেরকে স্মরণ করিয়ে দিতে পার এ বিষয়টি। কারণ মা, খালা, চাচী, ফুপুরা
রোজা রাখতে একটু বেশি-ই অভ্যস্ত। এ রাতে আল্লাহ পাক সূর্যাস্তের সাথে সাথে প্রথম আসমানে তাসরিফ আনয়ন করেন। অতঃপর বলতে থাকেন-কে আছ ক্ষমা প্রার্থনাকারী ? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।
কে আছ রিজিক প্রার্থী? আমি তাকে রিজিক প্রদান করব। কে আছ বিপদগ্রস্থ? আমি তাকে বিপদ মুক্ত করে দেব। আল্লাহ পাক এ ভাবে অন্যান্য বিষয়েরও প্রার্থনা কামনা করেন। যাতে আল্লাহ পাক সকল অপরাধিকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। আর এ ভাবে চলতে থাকে ফজর পর্যন্ত। আসলে বান্দার প্রতি আল্লাহর অগণিত করুণার প্রেক্ষিতেই বিশেষ নিয়ামত পূর্ণ এই রাত। একটি ছোট্ট ঘটনা না বললেই নয় ।
কালইউবি কিতাবে উল্লেখ আছে, হযরত মুসা (আঃ) এ অভিপ্রায় বুকে নিয়ে পথ চলতে ছিলেন যে, আল্লাহর নিকট আমার চেয়ে মাহবুব বান্দা আর কেউ আছে কি ? আল্লাহ বলেন- হে মুসা (আঃ) তুমি পথ চলতে থাক। কিছু দূর চলার পর পথিমধ্যে একটি প্রকা- পাথর দেখতে পেয়ে হতভম্ভ হয়ে থমকে দাঁড়ালেন  মুসা (আঃ)। আল্লাহ মুসা (আঃ) কে অভয় দিয়ে বললেন- হে মুসা, তোমার হাতের লাঠি দিয়ে পাথরের উপর সজোড়ে আঘাত কর। বলাবাহুল্য, আল্লাহ পাক মুসা (আঃ) কে মুযেজা স্বরূপ একটি লাঠি দান করেছিলেন। মুসা (আঃ) পাথরের উপর লাঠি দ্বারা সজোড়ে আঘাত করতেই পাথরটি ফেটে চৌচির হয়ে গেল। কি আজব কা-, ভেতরে এক বৃদ্ধ তাসবীহ হাতে আল্লাহর জিকিরে মশগুল।
পাশে কিছু বেমৌসুমী ফল পরে আছে। মুসা (আঃ) আশ্চর্যম্বিত হয়ে বৃদ্ধকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কত বছর যাবৎ এভাবে আল্লাহর ইবাদত করছেন? তিনি উত্তর দিলেন,সাড়েচার শত বছর যাবৎ। মুসা পুনরায় জানতে চাইলেন-
আপনার পাশের ফল গুলো কোথা হতে এসেছে ? তিনি বললেন- মহান আল্লাহ পাক নিজ কুদরতে প্রতিদিন বেহেস্ত হতে আমার জন্য পাঠিয়ে দেন। মুসা (আঃ) শেষবারের মত জান্তে চাইলেন, আপনি এত বড় বুজুর্গি কিভাবে অর্জন করেছেন? বৃদ্ধ হাস্যোজ্জল মুখে উত্তর দেন, মায়ের দোয়ার বদৌলতে আমি এ
মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। মুসা (আঃ) এর বুঝতে বাকি রলোনা। প্রকৃত পক্ষে বৃদ্ধ অনেক বড় বুজুর্গি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে যে ব্যক্তি ১৪ই শাবানের দিবাগত রাতে আল্লাহর ইবাদতে মসগুল থাকবে আল্লাহ পাক তাকে এই ব্যক্তির চেয়েও বেশী বুজুর্গি দান করবেন।
তাই আমাদের উচিৎ এই রাতে অধিক পরিমানে আল্লাহর ইবাদত করা। কিন্তু বন্ধুরা কোন ক্রমেই যেন এ উপলক্ষে আতশবাজি, ফুটকা ফুটানো, হৈ হুল্লোর, বাতি জালান এবং হালুয়া রুটি তৈরি বাধ্যতা মূলক মনে না করি। আমরা আরো একটি কাজ করতে পারি।
তা হল বাসায় উন্নত মানের খাবার তৈরি করে তাতে,এতিম অনাথ, অসহায় দের মাঝে পরিবেশন করতে পারি। তাহলে ওরা যেমন আমাদের উপর ভীষণ খুসী হবে তেমনি আল্লাহ পাকও।  মূলতঃ শবে বরাত আমাদের জন্য মাহে রমজানের আগমনি বার্তা বহন করে নিয়ে আসে যা, অত্যন্ত মহিমান্বিত মাস। তাই সকলেই শবে বরাতের ইবাদতের মাধ্যমে মাহে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ