ঢাকা, রোববার 07 May 2017, ২৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ছড়া/কবিতা

বোশেখের ঝড়
খালীদ শাহাদাৎ হোসেন

আমরা যখন ছোট্ট ছিলাম আসলে ধেয়ে ঝড়
কাল বোশেখীর প্রমোদ দেখে লাগতো মনে ডর।
ঈশাণ কোণে মেঘের ঘটা সাদা বকের সারি
ঝড় তুফানের আভাস পেয়ে ফিরতো বাসা-বাড়ি।

ঝড়ের সাথে দানব চলে বলতো আমার বাজান
হাওয়ার গতি তীব্র হলে দিতেন জোরে আজান।
উড়তো ঝড়ে ঘরের চালা ভাংতো গাছের ডাল
নদীর বুকে ডুবতো তরী ছিঁড়তো মাঝির পাল।

বোশের শেষে নানা বাড়ি নিয়ে যেতেন মামা
ঝড়ের মাঝে আম কুড়াতাম মাথায় দিয়ে ধামা।
হারিয়ে গেছে আমের বাগান দামাল শিশুকাল
স্মৃতি ঘেরা নাম ঠিকানা সবিতো পয়মাল।

গাঁও গেরামে নাইতো এখন খড়ের কুঁড়ে ঘর
বসতবাড়ি শক্ত বেজায় কমছে ঝড়ের ডর।
নদীর বুকে বালুর চরা শুকিয়ে গেছে খাল
গাঁয়ের মাঝি নাও ছাড়ে না তুলে রঙিন পাল।

কেনা আমে পাইনা এখন ঝড়ে কুড়ান সুখ
বিষ্টি ভেজার পরে আরাম কাঁতা মুড়ায় মুখ।
আগের মতো ঈশাণ কোণে আজও সাজে ঝড়
ঝড়-তুফানের চেয়ে ভীষণ বজ্রপাতের ডর।


বৈশাখের পদ্য
মোস্তফা কামাল সোহাগ

দুঃখ ব্যথা দিলাম ছুটি
বাধন এবার নতুন জুটি
বৈশাখ মেলায় যাই
অনেক মজা পাই।

মন অভিমান যাই যে ভুলে
হাসি আমরা হৃদয় খুলে
পান্না ভাতে ইলিশ ভাজা
খেলে লাগে অনেক মজা।

একতারা হাতে নিয়ে বাউল গান গাই
মনে যত ক্ষত আছে সব ভুলে যাই
বৈশাখের তাপদাহে তুলে রাখি জাম্পার
বৈশাখে ফলমূল হয় খুব বাম্পার।


এই বোশেখে
মুহাম্মাদ আলী মজুমদার

এই বোশেখে কালবোশেখী ঝড়ে
ধপাস-ধপাস কাঁচা আম যে পড়ে।
ঝড়-তুফানে ভয় পায়না
দুষ্ট ছেলের দল
আম কুড়িয়ে বেড়ায় তারা
 মেখে কাদা-জল।

এই বোশেখে দস্যি ছেলের দল
তীব্র রোদেও খেলে যে ফুটবল।
খেলা শেষে ঝাঁপিয়ে পড়ে
ঠা-া পুকুর-জলে
এবার সেথায় হল্লা করে
ছোঁয়াছুঁয়ি চলে।
এই বোশেখে সূর্যমামা রাগী
তাইতো সবাই বিষ্টি-বাদল মাগি।
তীব্র তাপে হাঁপিয়ে ওঠে
মানুষ-পশু-পাখি
এই বোশেখে বিষ্টি ছাড়া
ক্যামনে বলো থাকি!

এই বোশেখে বসে বোশেখে মেলা
পল্লী গাঁয়ে হয় যে কত খেলা।
দোকানীরা করে থাকে
হালখাতা উৎসব
এই বোশেখে পল্লীগাঁয়ে
খুশির কলরব।


বৈশাখী মেলা
আলতাফ হোসেন রায়হান

নব বর্ষের প্রথম মাস
আনন্দ আমেঝে আসে
বৈশাখী জামা পোশাক পরে
শিশুর দল হাসে।

নাগর দোলায় চড়বে আজ
খুশি সবার মনে তাড়াতাড়ি যাবে মেলায়
নিয়ে আপন জনে।

খুকু কিবনে খেলনা পুতুল
হরেক রকম চুড়ি
খোকা কিনবে বাঁশি ঢোল
মিলে না তার জুড়ি।

মেলায় গিয়ে ঘুরে সবাই
বৈশাখ মেলা প্রাণের মেলা
সব মেলার চেয়ে।


তুমি শুধু তুমি নও
মেহেদী হাসান জামশেদ

তুমি শুধু তুমি নও
সাগরের সৈকতে মিলনের সুর তুমি
পাহাড়ি ঝর্ণাতে মায়াবী হরিণী,
 তুমি শুধু তুমি নও,
গ্রীস্মের খরতায় বৈশাখী ঝড় তুমি,
শীতের কুয়াশায় ভোরের শিশির
ফাগুনের ফুল বনে তোমাকে দেখেছি।
রূপালি জোৎস্মায় একাকী নিবিড়।

 তুমি শুধু তুমি নও
পাখির কলতান সে-তারের সুর তুমি।
বর্ণালীর সাত রং এ অপরূপ শোভা,
নুপুরের ঝংকারে তোমারই প্রতিধ্বনি।

 তুমি শুধু তুমি নও
স্বপ্নের দরজায় দাঁড়িয়ে আছো তুমি
জীবন প্রদীপ সুখের তরুলতা,
বর্তমান, অতীত, ভবিষ্যৎ যেন
আমার লেখা সকল কবিতা।



দু’টি ছড়া
বাতেন বাহার

মা ও মাটির সুরে

চাষীর মেয়ে গভীর রাতে ঘুমিয়ে ছিলো ঘরে
স্বপ্নে দেখে বৃষ্টি নামের মিষ্টি মেয়ে ঝড়ে
ঢুকে কুকুর পাতার ঘরে বলছে খুকু-উঠো
আমার মতো বৃষ্টি সেজে খইয়ের মতো ফুটো।

আকাশ পাড়ে উড়ে উড়ে শীতল করো প্রাণ
রপ্ত করো আকাশ নদী-ঝরনা ধারার গান।
তুমি আমি পাখির মতো আকাশ পাড়ে ঘুরে
মন হারাবো শস্য ক্ষেতে, মা ও মাটির সুরে।


সুরের জাদু
রাইশা মনি হীরের খনি প্রশ্ন করে-দাদু
বলতে পারো কেমনে আসে কণ্ঠে সুরের জাদু?
কি কি জিনিস খাইলে পরে কণ্ঠ থাকে ভালো
 কি কি জিনিস না খেলেই কণ্ঠ ছড়ায় আলো?
বললো দাদু-সুরের জাদু শিখতে যদি চাও
এখন থেকে সুর সাধনার শপথ তুমি নাও!
শপথ নিলে-একাগ্রতায় মিলবে সুরের জাদু
তুমি সুরের পাখি হবে- আমার সোনা দাদু।


বায়না
মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী

খোকা সোনার বায়না
কোন কিছু চাইনা
দিতে হবে কিনে আমায়
হাতি,ঘোড়া,রাইফেল-
এই তিন খেলনা!

হাতি ঘোড়ায় চড়ে খোকা
বনে যাবে শিকারে
প্রজাপতি,ব্যাঙ,ফড়িং
মারবে গুলি করে।

মনে মনে খোকা তাই
দিন ক্ষণ গুণছে
বাবার কাছে এই নিয়ে
তুমুল ঝড় তুলছে!

ইচ্ছেগুলো করতে পূরণ
অপেক্ষায় সে অধীর
শিকার শেষে ফিরবে বাড়ী
খেতাব নিয়ে, শ্রেষ্ঠ শিকারির!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ