ঢাকা, রোববার 07 May 2017, ২৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যমুনা চরের শিশুরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত

গাইবান্ধা সংবাদদাতা: ‘সবার জন্য শিক্ষা চলো স্কুলে যাই’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রাথমিক শিক্ষা সবার জন্য বাধ্যতামূলক হলেও  শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা চর ও যমুনা নদীতীরবর্তী  সিংহভাগ শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। দরিদ্র্যতা, অসচেতনতার ফলে এসব শিশুদের সময়কাটে খেলাধুলা, নদীতে মাছ ধরে। সরজমিন ঘুরে শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী, গালা, সোনাতুনী ইউনিয়নের যমুনার দুর্গম চরের গ্রাম এবং যমুনা নদী তীরবর্তী জগতলা, ভাটপাড়া, চরগুধিবাড়ী, ভেকা, পাঁচিল, গালা, বেনুটিয়াবাঁধ, ফকিরপাড়া গ্রামের অধিকাংশ শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। যে বয়সে এসব শিশুর হাতে খাতা, কলম, বই শোভা পাওয়ার কথা ছিল সেই সময় শিশুদের সিংহভাগ এখনও স্কুলে যায় না। এসব বিষয় নিয়ে শিশুদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দরিদ্রতা ও অসেচতনতা। যমুনা নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো পরিবারগুলো মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে কেউ যমুনার দুর্গম চরে কেউ নদী তীরের বাঁধে বসবাস করছে। দিনমজুর এসব ব্যক্তিদের বেশির ভাগ জীবনজীবিকা চালায় দুঃখ কষ্টের ভিতর দিয়ে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দূরে হওয়ায় শিশুরা স্কুলে যায় না। কারণ মাইলের পর মাইল ধূ ধূ বালুচর পাড়ি দিয়ে এসব শিমুদের স্কুলে যেতে হয়। বর্ষা হলে সাগরের মত ভাসতে থাকে ডেরা বেঁধে বসবাস করা এসব পরিবারের শিশুদের ঘরেই আটকে থাকতে হয় দিনের পর দিন। আবার কোন কোন স্কুল নিকটে হলেও সচেতনতার অভাবে শিশুরা নদীতে মাছ ধরে সময় কাটায়।
আবার কেউ আশেপাশের বাজারে চায়ের স্টলে সিডি, ভিসিডি দেখে কাটিয়ে দেয় দিন। ৫ বছর ও তাঁর চেয়ে বেশি বয়সী এ এলাকার সিংহভাগ শিশুরা এখনও বিদ্যালয়বিমুখ। কোন অভিভাবক যুক্তি দেখালেন, লেখাপড়া করতে টাকা লাগে। টাকা পাবো কোথায়? আবার কেউ বললেন, লেখাপড়া শেষ করলে টাকা ছাড়া চাকুরী মেলেনা। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করতে তো কোন টাকা লাগেনা বরং নিয়মিত স্কুলে গেলে সরকার উপবৃত্তি প্রদান করে। এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেও যমুনা তীরের অসচেতন অভিভাবকদের নিকট থেকে আশানুরূপ উত্তর মেলেনি। এখন যমুনা নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি হয়ে অনেকটা টইটুম্বুর আর নতুন পানি দেখে যেন সাধ মেটেনা তাঁদের। তাই দলবেঁধে শিশুরা পোষাক ছেড়ে পানিতে ঝাপুরি খেলে পাড় করছে সময়। এতে যেন সামান্য শাসন কিম্বা বাঁধা নেই। নদীর সাথে বসবাস যাদের তাঁদের সন্তানরা শিশুবেলা থেকেই সাঁতার কাটবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নদীতীরের এসব শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি কিম্বা এনজিও সংগঠনের পক্ষ থেকে যথার্থ পদক্ষেপ নেয়া এখন সময়ের দাবী। তা নাহলে নদী তীরের বিশাল জনগোষ্ঠী নিরক্ষর থেকে যাবে।
শিক্ষার পাশাপাশি যমুনা চর ও তীরবর্তী এলাকার শিশুরাও স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত। যথার্থ স্বাস্থ্যসেবা না থাকায় বেড়ে উঠছে নানা পুষ্টিহীনতায়।
তীরবর্তী এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও তাঁতে ঔষধ সরবরাহ ঠিকমত থাকেনা। আর যমুনা চরে ক্লিনিক ও চিকিৎসা কেন্দ্র তো নেই বললেই চলে। তাই ছোট বেলা থেকেই নানা স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হয়ে বেড়ে উঠছে হাজার হাজার শিশু-কিশোর।  এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথার্থ পদক্ষেপ চান যমুনা চর ও তীরের মানুষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ