ঢাকা, রোববার 07 May 2017, ২৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এই সরকারের অধীনে দেশে আর কোন জাতীয় নির্বাচন হবে না -প্রধান

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাগপা ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে এ দেশে আর কোন জাতীয় নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে।
গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর জাগপা আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। ঢাকা মহানগর জাগপার সভাপতি আসাদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপ-ভাসানীর চেয়ারম্যান এডভোকেট আজাহারুল ইসলাম, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) মহাসচিব শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাইদ আহমেদ, লেবার পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জাগপার যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, নগর জাগপার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন ফিরোজ, যুব জাগপার সভাপতি ফাইজুর রহমান, জাগপা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান ফারুকী প্রমুখ।
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে শফিউল আলম প্রধান বলেন, এই দেশের মাটিতে কোনো রক্ত বৃথা যায় নাই। প্রতি ফোঁটা রক্তের জবাব দিতে হবে। এই দেশের মানুষ প্রতি ফোঁটা রক্তের জবাব নেবে। শাপলা চত্বর ভবিষ্যতে ‘শহীদ চত্বর’ হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
বর্তমান সরকারকে ‘অনির্বাচিত’ উল্লেখ করে ২০ দলীয় জোটের এই শীর্ষনেতা বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনে এ দেশের মানুষ ভোট দেয়নি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী ভোটারবিহীন নির্বাচনে দিল্লীর হাত ধরে গদিতে বসেছেন। সুতরাং এই সরকারের অধীনে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে। এজন্য এখন থেকেই সারা দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডসহ নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে জনগণ নির্বিঘেœ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
সকল রাজবন্দীর মুক্তি দাবি করে জাগপা সভাপতি বলেন, আমাদের হাজার হাজার নেতা-কর্মী আজ কারাগারে, এখনো গ্রেফতার চলছে। নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে অবিলম্বে প্রতিটি নেতাকর্মীর মুক্তি দিতে হবে। একজন রাজবন্দীকেও জেলে রেখে এই দেশের মাটিতে কোনো নির্বাচন হওয়া উচিত নয়।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে ধন্যবাদ জানিয়ে শফিউল আলম প্রধান বলেন, দীর্ঘদিন পরে আমরা একজন স্বাধীনচেতা প্রধান বিচারপতি পেয়েছি, যিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সংগ্রাম করছেন। এ জন্য তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই।
জেবেল রহমান গানি বলেন, প্রধান বিচারপতির ব্যতিক্রমী সত্য উচ্চারণের কারণে সরকারের শাসন বিভাগের সবার গায়ে জ্বালা ধরেছে। দেশে যে আইনের শাসন নেই, সরকার যে আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে তা প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে প্রতিনিয়তই ফুটে উঠছে।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে জেবেল রহমান গানি বলেন, বিরোধীদলগুলোকে সভা-সমাবেশ করার সুযোগ দিন, পুলিশি গুন্ডামি বন্ধ করুন। না হলে অশুভ পরিণতির জন্য সরকারকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, দেশব্যাপী খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি সীমাহীন। সবচেয়ে নিম্নমানের চালের কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। মাঝারি মানের চালের মূল্য লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। পাহাড়ী ঢলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চলের অর্ধকোটিরও বেশি মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। দেশব্যাপী দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। মহাদুর্যোগের এ সময়ে সরকারের ভিত যখন নড়বড়ে ঠিক তখনই জনদৃষ্টিকে ভিন্নখাতে নিতে আওয়ামী সরকার নির্বাচন নির্বাচন নাটক করছে। সরকারকে মনে রাখতে হবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর মত আর কোন নির্বাচন এই দেশে হতে দেয়া হবে না।
 জেবেল রহমান গানি বলেন, আগামী নির্বাচনে একতরফা খেলা হবে না এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছাড়া নির্বাচন হবে না। এ অবস্থায় অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু নির্বাচনের নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার গঠনে নিবন্ধিত দলগুলোর সাথে সংলাপে বসতে সরকারকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ