ঢাকা, রোববার 07 May 2017, ২৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অলী আউলিয়ার স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক শিল্প জনপদ শাহজাদপুর

শাহজাদপুর : হযরত মখদুম শাহদ্দৌলা (রহ.) মাজার ও মসজিদ

অলি আউলিয়া স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক জনপদ শাহজাদপুর। যমুনা,করতোয়া,  হুরাসাগর ও বড়াল নদীর কখনও রাক্ষুসী রুপ আবার কখনও শান্ত স্নিগ্ধ নিরবতায় প্রস্ফুঠিত হয় শাহজাদপুর নামের রক্তিম আভা। আর এই শাহজাদপুরের গৌরবজ্জল ইতিহাস জানতে চোখ ফিরাতে হবে পিছনের দিকে। তাই এ জনপদের লাখো মানুষের হৃদয়ের মনিকোটায় জিজ্ঞাসিত হয় কোন সাধকের পূণ্যপাদষ্পর্শে ধন্য হয়েছে এ জনপদের মাটি আর ইতিহাস সৃষ্টির এক সোনালী অধ্যায়। ইসলাম প্রচারক হযরত মখদুম শাহদ্দৌলা (রহ:), শামসুদ্দিন তাবরেজী (রহ:), শাহবদর (র:), শাহহাবিবুল¬াহ (র:),মোঘল সুবেদার ইসলাম খান চিস্তী, বাংলা সাহিত্যের নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর এর  স্মৃতি নিয়ে স্বগৌরবে মাথা উঁচু করে আছে দেশের অন্যতম প্রধান উপজেলা শাহজাদপুর। তাঁত শিল্প, দুগ্ধ শিল্প, কৃষি ক্ষেত্রে শাহজাদপুরের সুনাম দেশ -বিদেশে। ইসলাম প্রচারক হযরত মখদুম শাহদ্দৌলা (রহ:) এর নামানুসারেই নামকরণ হয় শাহজাদপুরের। “শাহজাদপুর” একটি যুগ্ন শব্দ। “শাহজাদা” ফারসী শব্দ যার অর্থ : বাদশাহ’র সন্তান। আর পুর” সংস্কৃতি শব্দ যার অর্থ: গ্রাম এ দুটি শব্দের সন্বয়ে শাহজাদপুর নাম হয়েছে। ১৭৮৩ সালে  শাহজাদপুৃর একটি থানা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমেই গুরুত্ব বাড়ে এ জনপদের। ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে স্বাধীন সুলতানী আমলে সীমান্ত ঘাটিকে থানা এবং রাজস্ব অঞ্চলকে “ডিহি নামে অবহিত করা হত। ১৮২৮ সালে যে কয়টি থানা নিয়ে পাবনা জেলা গঠিত হয় তার মধ্যে শাহজাদপুর ছিল অন্যতম। ১৮৫৪ সালে শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ, উল¬াপাড়া রায়গঞ্জের সমন্বয়ে সিরাজগঞ্জ মহকুমা গঠিত হয়। এবং উনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে শাহজাদপুর থানায় মুন্সেফ ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে ইংরেজ মুন্সেফ এন্থনি ডি লোমাস দ্বায়িত্বপালন করেন। সে সময় শাহজাদপুর থানার আয়াতন ছিল বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলা নিয়ে। অনেক উত্থান-পতন, আবর্তন-বিবর্তন, সম্প্রসারণ- সঙ্কোচনের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ইতিহাসের সাক্ষি হয়ে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে ৩২৮ বর্গকিলোমিটার বা ৮০.১৮২ একর জায়গা নিয়ে।
জন গোষ্ঠি
এখানকার সবাই বাংলায় কথা বলায় জাতীতে সবাই বাঙ্গালী। বাংলার অন্যান্য অঞ্চলের মত এ জনপদেও প্রভাব বর্তেছে অষ্ট্রিক জাতি গোষ্ঠির। এখানে রয়েছে “বাগদী ও পাটনী সম্প্রদায়” যাদের ভাষা ও খাদ্যভাস আলাদা।  এ ছাড়াও নৃ গোষ্ঠির মধ্যে আল-পাইন নৃ গোষ্ঠির  উত্তরসূরী শাহজাদপুরের হিন্দু ও মুসলিম আভিজাত পরিবারের মধ্যে বেশ লক্ষনীয়। এক সময়ের হিন্দু অধ্যষিত এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারকগণ সম্মুখ যুদ্ধে হিন্দু রাজাদের পরাজিত করে অনেক মুবালি¬গের শাহাদতের মধ্য দিয়ে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন হয়। তবুও হাজার বছর ধরে জাতি,গোষ্ঠি ও ধর্মীয় আদর্শের ভিন্নতার পরও সবাই শান্তিপূর্ণ সহবস্থান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে।
প্রাচীনকাল থেকেই এ জনপদের মানুষ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে গৌরবজ্জল ভূমিকা রেখে আসছে। ১৬০৯ সালে মোঘল সেনাপতি শায়েস্তা খানের বিরুদ্ধে জেহাদ, ১৭০০ শতাব্দীতে নীলকর বাবুদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, ১৮৭২-৭৪ সালে হিন্দু জমিদারদের বিরুদ্ধে প্রজা বিদ্রোহ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৬৯ সালের গণ আন্দোলন, এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহজাদপুর বাসী সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করে।
উলে¬খযোগ্য স্থানসমুহ : মখদুমীয়া জামে মসজিদ, শাহ বদর মসজিদ, রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি, নীলকুটির, জমিদারবাড়ি, বাদলবাড়ি, নবরতœ মন্দির, দয়ামাধব মন্দির, এন্থনি ডি লোমাসের সমাধী,বাঘাবাড়ি মিল্কভিটা, বাঘাবাড়ি নদীবন্দর, বাঘাবাড়ি ভাসমান বিদ্যুৎ প¬ান্ট, অন্যতম।
উলে¬খযোগ্য ব্যক্তিবর্গ : বাংলা সাহিত্যের অমর কৃতিপুরুষ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন, সাহিত্যিক বরকাতুুল¬াহ,  ব্যারিষ্টার কোরবান আলী, মাও: সাইফুদ্দীন এহিয়া,  ডা: এম এ মতিন, ড. মযহারুল ইসলাম, ডা.এম ইদ্রীস আলী,অধ্যাপক মুহাম্মদ মতিউর রহমান প্রমুখ। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ