ঢাকা, রোববার 07 May 2017, ২৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী করা হবে

কামাল হোসেন আজাদ, কক্সবাজার : মাদক পাচারের বদনাম থেকে পর্যটন শহর কক্সবাজারকে বের করে আনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আমি শুনেছি কক্সবাজারের বদনাম রয়েছে, এখান থেকে নাকি ইয়াবা সাপ্লাই হয়। এটা বন্ধ করতে হবে। যেই এরসাথে জড়িত তাকে শাস্তি পেতেই হবে।” গতকাল শনিবার কক্সবাজার জেলায় একযোগে ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৯টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পরবর্তী জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা একটা জিনিসই চাই। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষক জনগণ সবার কাছে চাই... সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।” কক্সবাজারের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, “খালি হাতে আমি আসিনি, উপহারও নিয়ে এসেছি।” 

শেখ হাসিনা বলেন, কক্সবাজার গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে। এসময় কক্সবাজার বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে আরও পরিকল্পনার কথা জানান সরকার প্রধান। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন এবং চার লেইনের সড়ক করার আশ্বাস দেন তিনি। এ ছাড়াও মহেশখালীতে চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এই দ্বীপটিকে ডিজিটাল উপজেলা ঘোষণার কথাও বলেন তিনি। সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তিনি বলেন।   

শনিবার সকাল ১০টায় বোয়িং বিমান যোগে কক্সবাজার পৌঁছে পর্যটন শহরটিতে সুপরিসর বিমান চলাচল উদ্বোধন করেন এবং পরে ইনানীতে গিয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেলে কক্সবাজার শহরে ফিরে জনসভাস্থল শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাঁচটি প্রকল্প উদ্বোধন এবং আটটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য কক্সবাজারে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পগুলো হলো- দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কক্সবাজার আইটি পার্ক, নাফ ট্যুরিজম প্রকল্প এবং মহেশখালিতে দুইটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল সম্প্রসারণ। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকৃত বাকি প্রকল্পগুলো হলো- কক্সবাজার গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজের ১শ’ আসনের ডরমেটরি, কক্সবাজার গভর্নমেন্ট কলেজের একাডেমিক ভবন-কাম-পরীক্ষা হল, কক্সবাজার গভর্নমেন্ট কলেজের ১শ’ আসনের ছাত্রীনিবাস, বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা মুজিব কলেজের দুইতলা একাডেমিক ভবন, উখিয়া এবং মহেশখালি-আনোয়ারা গ্যাস সরবরাহ লাইন। একই স্থানে শেখ হাসিনা কক্সবাজার সদর উপজেলার বাকখালি নদীর ওপর খুরুশকুল ঘাটে ৫৯৫ মিটার পিসি বক্স-গার্ডার সেতু, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কক্সবাজার আইটি পার্ক, মহেশখালিতে এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেডের অধীনে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, মহেশখালিতে সামিট এলএনজি’র ভাসমান দ্বিতীয় এলএনজি টার্মিনাল, মহেশখালিতে সিঙ্গেল পয়েন্ট মরিন্ট (এসপিএম) প্রকল্প, নাফ ট্যুারিজম প্রকল্প, কুতুবদিয়া কলেজের একাডেমিক ভবন এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ