ঢাকা, রোববার 07 May 2017, ২৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে ‘ইগো’ সমস্যায় আ’লীগ

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল: মুখে বিরোধিতা করলেও নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে ‘ইগো’ সমস্যায় ভুগছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দেশী-বিদেশী চাপের পাশাপাশি সরকার পরিচালিত বিভিন্ন মাঠ পর্যায়র জরিপেও নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের পক্ষেই মত দিয়েছেন সবাই। এছাড়া সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার নিয়মিত প্রতিবেদনেও একই চিত্র ফুটে উঠেছে। এমনকি আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাও সবার অংশ গ্রহণে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন চাইছেন। তবে কিভাবে সেই নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে সেটি নিয়ে ভাবছেন তারা। এদিকে সরকার পরিচালিত জরিপের পর  েেথকে ক্ষমতাসীনদের কথাবার্তায়ও নমনীয়তার সুর লক্ষ করা যাচ্ছে। সম্প্রতি সুনামগঞ্জের হাওর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেছেন, আমি যদি ক্ষমতায় নাও থাকি তার পরও আপনাদের পাশে থাকবো। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রামে একটি অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, অবৈধ টাকা উপার্জন করে কি করবেন। ক্ষমতায় না থাকলে দেশেও থাকতে পারবেন না। পালিয়ে বেড়াতে হবে। অন্যদিকে বিএনপিও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ৩০০ আসনে তাদের ৯০০ জন প্রার্থী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সহায়ক সরকার হলেই তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন। একইসাথে তিনি এ বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন, এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে একা খেলতে দেয়া হবেনা। এছাড়া খুব শিগগিরই বিএনপি চেয়ারপার্সন নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষণা করবেন। সেখানে বেগম জিয়া তার দল ও জোট ক্ষমতায় গেলে কি করবেন তার একটি রুপরেখা তুলে ধরবেন। তৃণমূলে দলটির সিনিয়র নেতারা এখন সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন। 

সহায়ক সরকার প্রসঙ্গে গতকাল শনিবার আলাপচারিতায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, সরকার প্রধান থেকে শুরু করে দলের সিনিয়র অনেক নেতাই নির্বাচনকালীন সরকারের বিরোধীতা করে বক্তব্য দিচ্ছেন ঠিকই। তবে দলের ভেতরে সহায়ক সরকারের রূপরেখা ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কেন সরকারি দল সহায়ক সরকারের কথা ভাবছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে যে বিতর্ক আছে সেটি কোনভাবেই অস্বীকার করা যাবেনা। দেশে-বিদেশে সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেন গতবারের পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেই দিকেই লক্ষ্য দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিদেশীদের চাপ প্রকট। এছাড়া দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিও সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন দেখতে চায়। তিনি বলেন, দেশের সার্বিক অবস্থা নিয়ে সরকার মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালিয়েছে। তাতে তৃণমূল থেকে শুরু করে সবাই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথাই বলেছে। যদিও জরিপে সরকারের বিভ্ন্ িউন্নয়নমূলক কাজেরও প্রশংসা করা হয়েছে। ছাত্র রাজনীতিতে এক সময় সক্রিয় থাকা এই নেতা জানান, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবিটি যেহেতু সবার তাই এটির বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা ‘ইগো’ সমস্যায় ভুগছে আওয়ামী লীগ।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন, নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে। বর্তমান সরকারকে ‘অনির্বাচিত’ উল্লেখ করে ২০ দলীয় জোটের এই শীর্ষনেতা বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনে এ দেশের মানুষ ভোট দেয়নি। সুতরাং এই সরকারের অধীনে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। এজন্য এখন থেকেই সারা দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডসহ নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে জনগণ নির্বিঘেœ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে বলে বিএনপি ও দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আরেকটি বিভ্রান্তি হচ্ছে নির্বাচনে না গেলে নিবন্ধন বাতিল হবে তাই নিবন্ধন বাঁচাতে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। কিন্তু বিএনপি মনে করে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষ ও বিদেশি বন্ধুদের নিয়ম রক্ষার নির্বাচন বলে ধোঁকা দিয়েছেন। নির্বাচনের নামে নাটক করেছেন। কথা রাখেননি। তাই একটি কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই- ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন বাংলাদেশে আর হবে না। বরং খালেদা জিয়া শিগগিরই নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে রূপরেখা দেবেন। আর সেই রূপরেখা মোতাবেক নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা করেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জমান দুদু বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই। আওয়ামী লীগের নেতারা যে যাই বলুক না কেন, সহায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, এই দাবি শুধু বিরোধী রাজনৈতি জোটের নয়। দেশের ব রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এমনকি বিদেশীরা পর্যন্ত নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিরোধী জোট এবং বিদেশীদের আস্থায় নিতে হলে একাদশ সংসদের আগে অবশ্যই একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে হবে। তারা বলছেন, জনমতকে উপক্ষো করে এবারো একটি একতরফা নির্বাচন আয়োজন করা আওয়ামী লীগের জন্য খুবই কঠিন হবে। যদি তারা জোর করে আবারো একতরফা নির্বাচন করে, তাহলে সেটি সেটি তাদের জন্য ‘বুমেরাং’ হবে। তাদের মতে, দেশে-বিদেশে কেউই চায়না ২০ দলীয় জোটসহ অন্যদের বাদ দিয়ে আবারো একটি একতরফা নির্বাচন হোক। এছাড়া বর্তমান সরকারও চায় আগামী নির্বাচনে বিএনপিসহ বিরোধীজোট অংশ নিক। পরপর দুটো নির্বাচনে বিএনপি যদি অংশ না নেয়, তাতে সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হবে না সত্য, কিন্তু বিদেশে দেশ ও সরকারের ভাবমূর্তি চরম প্রশ্নের মুখে থাকবে। রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, অতীতে আওয়ামী লীগই সোচ্চার ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা  প্রবর্তনে এবং বিএনপি ‘বাধ্য’ হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে। আর এখন আওয়ামী লীগই এর বিরুদ্ধে। তবে যেহেতু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সর্বজন সমালোচিত নির্বাচন কারো কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি তাই এবার ক্ষমতাসীনদের অবশ্যই দাম্ভিকতা বর্জন করে একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দেশের জনপ্রিয় দলগুলোকে বাদ দিয়ে, বা বিএনপি অথবা ২০ দলীয় জোটকে ভেঙ্গে আরেকটি নির্বাচনের আয়োজন করা হলে সেটি অতীতের চাইতেও বেশী বিতর্কিত হবে। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, রাজনৈতিক সংকট নিরসন এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতায় যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন সরকার যদি উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে না আসে তাহলে আন্দোলনের আর কোনো বিকল্প থাকবে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে দেশে কখনোই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবেনা। দেশবাসী আরেকটি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন দেখতে চায়না। আমরা আশা করবো, সরকার জনগণের মনের ভাষা বুঝে দ্রুত নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে সংলাপের আয়োজন করবে। 

সূত্র মতে, সংবিধান অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আছে বিশ মাসের মতো। যদিও ২০১৪ সালের নির্বাচনকে ক্ষমতাসীনরা বলেছিল নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। বিদেশীরা সেই নির্বাচনকে সমর্থন করেনি। কিন্তু তারা জনমতকে উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা করছে। আ’লীগের হিসেব মতে, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে শেষ হয়ে যাবে বর্তমান সংসদের মেয়াদ। সরকার মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস আগেও নির্বাচন দিতে পারে। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের কথাবার্তায় মনে হচ্ছে, একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন ২০১৮ সালের শেষের দিকে অথবা ২০১৯ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু এর আগেই দেশে একটি নির্বাচনী আমেজ দেখা যাচ্ছে। বিরোধী জোট হামলা-মামলা, গ্রেফতারসহ ক্ষমতাসীনদের রোষানলে থেকে দিন পার করলেও আওয়ামী লীগ ঠিকই নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। দলটির সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এখন বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন। বিএনপিও ভেতরে ভেতরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 

সূত্র মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যতই সামনে আসছে তাতে ঘুরেফিরে আবারো আসছে একটা কথাÑ নির্বাচনকালীন সরকার। কাদের অধীনে হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যদি অন্তবর্তীকালীন সরকার হয় তাহলে কেমন হবে এই সরকার? এক সময় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আওয়ামী লীগ সহ অন্যদের দাবির মুখে সংবিধানে সংশোধনী এনে বিএনপি ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিল। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে। অতীতে আওয়ামী লীগই সোচ্চার ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনে এবং বিএনপি বাধ্য হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে। আর এখন আওয়ামী লীগই এর বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগই এখন বলছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে নেই। তবে ক্ষমতাসীনদের এবার সবাইকে না নিয়ে নির্বাচন করাটা কষ্টকর হয়ে যাবে। 

সূত্র মতে, দেশের বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে অন্তবর্তীকালীন সরকারের দাবিকে ক্ষমতাসীনরা সভা-সমাবেশে প্রত্যাখান করলেও ভেতরে ভেতরে তারা নানা দিক বিবেচনা করছে। সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করার যে দাবি উঠেছে সেটি কেবল বিএনপি বা বিরোধী জোটেরই নয়। বিদেশীরাও বলছেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই একটি নির্বাচন দিতে হবে। যে নির্বাচনে সবাই অংশগ্রহণ করবে। দলটির শীর্ষ নেতারা ভাবছে, ২০১৪ সালের নির্বাচন যেভাবে দেশে-বিদেশে প্রত্যাখাত হয়েছে তাতে অতীতের পুনরাবৃত্তি আর ঘটানো যাবেনা। সবাইকে নিয়েই নির্বাচন করতে হবে। সেক্ষেত্রে তাদের কিছুতো ছাড় দিতেই হবে। যে নামেই হোক, একটা অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করে বিরোধী জোট ও বিদেশীদের আস্থায় আনতে হবে। আ’লীগের সিনিয়র অনেক নেতাই মনে করছে, ২০১৪ সালে যেভাবে ১৫৪টি আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তাতে দল ও দেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। এবার তাদের সেই নির্বাচন থেকে সরে আসতে হবে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ২০১৪-পূর্ববর্তী পরিস্থিতি ও আজকের পরিস্থিতির মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। বিএনপি সংসদের বাইরে বড় দল। দেশে ও বিদেশে দলটির ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা আছে। দাতাগোষ্ঠী বারবার ‘সকল দলের অংশগ্রহণে’ যে নির্বাচনের কথা বলছে, তাতে তারা পরোক্ষভাবে বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে আসার কথাই বলে আসছে। এখন বিএনপিকে আস্থায় নিতে হলে একটি অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন ছাড়া কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, এ দেশে সুস্থ গণতান্ত্রিকচর্চার জন্য দুটো বড় দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মানসিকতায় পরিবর্তন দরকার। বিশেষ করে ক্ষমতাসীনদের। মানসিকতায় যদি পরিবর্তন না আসে, তাহলে এ দেশে গণতন্ত্রের হাওয়া বইবে না। আর বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে যদি বিভেদ-অসন্তোষ থাকে, তাহলে এ থেকে ফায়দা নেবে অসাংবিধানিক শক্তিগুলো, যা গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গল নয়। তিনি বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৫ বছর আমরা পার করেছি। আমাদের অনেক অর্জন আছে। অনেক সেক্টরে আমরা বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রাখি। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রচিন্তক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন,  আগামী নির্বাচনকে ঘিরে দেশের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তা নির্ভর করছে। সবার দাবি মেনে সরকারকেই একটি নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী করতে হবে। এর আগে রাজনৈতিক চিন্তার সুস্থতা ও স্বাভাবিকতা দরকার। রাজনীতির বিষয়, কার্যক্রম এবং প্রচারমাধ্যমের ভূমিকায়ও পরিবর্তন দরকার। রাজনৈতিক দল, সরকার, সংবিধান নিয়েও চিন্তা-ভাবনা ও নতুন নীতি-বিধি দরকার।  নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ব্রতির নির্বাহী পরিচালক শারমিন মোরশেদ বলেন, আমি এ দেশের একজন নাগরিক হিসেবে চাইব, এমনভাবে একটি নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হোক যেখানে দেশের সব রাজনৈতিক দল অংশ নিতে পারে। জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংকট সম্পর্কে নিশ্চয় সরকার ওয়াকিবহাল। তারা চাইবে না আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেটা আরো ঘনীভূত হোক। 

সার্বিক বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যেভাবে একতরফা নির্বাচন করেছে তা দেশে বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। বিএনপিসহ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই সেই নির্বাচন বর্জন করেছিল। সবার একটাই দাবি, নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার। তিনি বলেন, চলমান সঙ্কট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায়ই হচ্ছে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন। কিভাবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, ইনক্লুসিভ একটা নির্বাচন হতে পারে, সে জন্য আলোচনা হওয়া উচিত। আমরা আলোচনাই চাই। বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার সংলাপের আহবান জানানো হয়েছে। বিদেশীরা চান একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। তবে সরকার যদি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মেনে না নেয় তাহলে আন্দোলনের কোনো বিকল্প থাকবে না। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ