ঢাকা, রোববার 07 May 2017, ২৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আমলানির্ভর বাজেটে সুফল পাচ্ছে না জনগণ

 

স্টাফ রিপোর্টার : রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্যই হচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। কিন্তু উন্নয়নের জন্য বাজেটে যেসব প্রকল্প নেয়া হয় তাতে সাধারণ মানুষের কোন মতামত নেয়া হয় না। এমনকি জনপ্রতিনিধিরাও এতে সম্পৃক্ত নয়। পুরো বাজেট প্রক্রিয়াটি আমলা নির্ভর। আমলা নির্ভরতা কমিয়ে এনে গণমানুষের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাজেটকে গণমুখী করতে হবে।

গতকাল শনিবার ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিকসের গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মজিবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবদুল হক বক্তব্য রাখেন। রাজধানীর ইস্কাটনে অবস্থিত ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিকস মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের শুল্ক কাঠামো ও বাজেটে খাত ভিত্তিক বরাদ্দ’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে ‘বাজেট প্রস্তুতি ও খাতভিত্তিক ইস্যু’ শীর্ষক ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্র্যাটিজিক স্টাডিজের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (রিসার্স) মাহফুজ কবির। এছাড়া ‘বাংলাদেশের শুল্ক কাঠামো : একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন মির্জা এ এফ এম তৌহিদুর রহমান ও এস এম সুমাইয়া জেবিন। ইআরএফ’র সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন আইক্যাবের প্রেসিডেন্ট মসিহ মালিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমির সাবেক প্রিন্সিপাল কে এম জামসেদ উজ জামান, ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিকসের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুব আলী।

খলীকুজ্জামান বলেন, সব শ্রেণীর, পেশার মানুষদের নিয়ে আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, মানুষের চেয়ে প্রকল্পই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে কিন্তু মানুষের কোন কাজে লাগেনি। বাজেট বাস্তবায়নে সমন্বয়ের অভাব দেখা যায়, এটি বাড়াতে হবে। প্রশাসনকে গণমুখী করতে হবে। তিনি আরও বলেন, গত ৫-৬ বছরে আমাদের অনেক উন্নয়ন হয়েছে, প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, দারিদ্র্য কমেছে। এখন আমাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণের উপর জোর দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ, এদিকেও আমাদের নজর দিতে হবে।

 আবদুল মজিদ বলেন, আমাদের বাজেটের আকার বাড়ছে কিন্তু বাস্তবায়নের কোন পরিকল্পনা নেই। এ জন্য বছর শেষে তা বাস্তবায়ন হয় না। বাজেটে সবকিছু উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া হয়। এ জন্য বাজেট বাস্তবায়ন না হলেও কোন ধরনের জবাবদিহি করতে হয় না।

 মজিবুর রহমান বলেন, আমাদের সুস্পষ্ট কোন ট্যারিফ নীতি নেই। একটি সুস্পষ্ট ট্যারিফ পলিসি গ্রহণ করতে হবে। আমরা রফতানি বাড়ানোর কথা বলছি। অথচ আমরা এক্সচেঞ্জ রেটকে ধরে রেখেছি। আমাদের ট্যারিফ পলিসি ও এক্সচেঞ্জ রেটের পলিসি কোনটিই রফতানির জন্য সহায়ক নয়।

তিনি আরও বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পকে আমাদের রফতানির প্রধান উৎস হিসেবে বলে আসছি, এ জন্য আমরা গর্ববোধ করছি। কিন্তু বর্তমানে ২৬ হাজার বিদেশি ম্যানেজার পোশাক শিল্পে কাজ করছে। তারা ৭ বিলিয়ন ডলার নিয়ে গেছে। আমরা কেন এসব জায়গায় যেতে পারিনি? কারণ, আমাদের শিক্ষায় গলদ রয়েছে। আমাদের শিক্ষা ও সক্ষমতার দিকে জোর দিতে হবে।

 আবদুল হক বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি ও সুশাসনের অভাব। এগুলো যদি একটি মিনিমাম লেভেলে নিয়ে আসা যায় তাহলে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। সরকার জনগণের কাছ থেকে কর আদায় করছে। কিন্তু জনগণের সে করের টাকা ব্যয়ে কোন জবাবদিহিতা নেই। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যয়ে আমাদের দেশে রাস্তা নির্মিত হয় কিন্তু মানের দিক থেকে সেগুলো একেবারে নিম্নমানের। উন্নয়নের জন্য সরকারের কর লাগবেই। কিন্তু যেকোন মূল্যে কর আদায়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের প্রবণতাকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে তুলনা করা চলে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ