ঢাকা, রোববার 07 May 2017, ২৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মুরাদনগরে সেই মরণফাঁদ বেইলি সেতুটিতে ট্রাক আটকে জনদুর্ভোগ

 

মুরাদনগর সংবাদদাতা : কুমিল্লার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরাবাজার থানার মেটঙ্গর বেইলি সেতুর লোহার পাটাতন (স্লিপার) ভেঙে পণ্যবাহী ট্রাক আটকে গেলে নবীনগর-মুরাদনগর-কুমিল্লা-ঢাকা-চট্টগ্রাম যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল শনিবার দুপুরে ওই দুর্ঘটনা ঘটলে সেতুটির এপার ওপারের অনেক যাত্রীবাহী বাস-ট্রাকও অন্যান্য যান আটকে গেলে শতশত যাত্রী চড়ম দুর্ভোগে পরে।

বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকের মালামাল নামানোর ব্যবস্থা নিয়েছি। কর্তৃপক্ষকে ফোনে দুঘটনার বিষয়টি জানিয়েছি। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। অনেক যাত্রী দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়েছে।

ভেঙ্গে যাওয়া সেতুটি ছাড়াও আরো ২৮টি বেইলি সেতু মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। জরাজীর্ণ এসব সেতুর লোহার পাটাতন (স্লিপার) ভেঙে যাত্রী ও পণ্যবাহী বাস-ট্রাক আটকে যাচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। জানতে চাইলে সওজের কুমিল্লা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কান্দি পাল বলেন, ‘কুমিল্লা সড়ক সার্কেলের আওতায় থাকা মুরাদনগরের ২৯টি বেইলি মধ্যে অনেক সেতু পুরোনো হয়ে যাওয়ায় সেগুলো ঝুঁকির মধ্যে আছে। এর মধ্যে মুরাদনগর-ঢাকা সড়কের অধিকাংশ সেতু বেশি ঝুঁকিতে আছে। এই বেইলি সেতুগুলো স্থায়ী বা পাকা (আর.সি.সি গ্যাডার ব্রিজ) সেতু করার জন্য আমরা অনুমোদন চেয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠিয়েছি। 

মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়কে ৬টি বেইলি সেতু রয়েছে। প্রত্যেকটি সেতুর পাটাতন (স্লিপার) ভেঙ্গে গেছে। গত সপ্তাহে সকালে পাটাতন ভেঙে বিটুমিনবোঝাই একটি লরি আটকে যায়। এতে ব্যস্ততম এই সড়কে চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। একইভাবে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর মাসে ছালিয়াকান্দি বাজার-সংলগ্ন এলাকার বেইলি সেতুটি চালবোঝাই ট্রাকসহ ভেঙে পড়ে। এতে মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ-ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ তিন-চার দিন বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে সেতুটি মেরামত করা হলেও ঝুঁকি কমেনি।

সওজ সূত্র বলছে, একইভাবে মুরাদনগর সদরে গোমতি নদীর উপর বেইলি সেতুটি খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। পিলারের মাটি সরে গিয়ে মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে বেইলি সেতুটি। এই সেতুতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। নয় বছর ধরে এটি একই অবস্থায় আছে। ছয় বছর আগে সেতুটির ওপর দিয়ে ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ করে সওজ। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা মানছে না কেউ। এ ছাড়া রামচন্দ্রপুর রোডে করিমপুরের সেতুটির অবস্থাও বেহাল। দীর্ঘদিন সংস্কার করা হয়নি। চুরি হয়ে গেছে সেতুটির লোহার কাঠামোর বিভিন্ন সরঞ্জাম। নাজুক সেতুটির ওপর দিয়ে বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যান। এ ছাড়া নবীনগর রোডে ৬টি, রামচন্দ্রপুর ২টি, বাঙ্গরা-সংচাইল রোডে ৬টা, মেটাঙ্গর-শ্রীকাইল রোডে ৪টা, সংচাইল-কোরবানপুর রোডে ৩টা, ডুমরিয়া ও পাঁচকিত্তা রোডে ২টা, চাপিতলা রোডে ১টা বেইলি সেতুগুলোরও কম-বেশি একই অবস্থা। যানবাহনচালকদের অভিযোগ, সওজ কর্তৃপক্ষ এসব সেতুর দুই প্রান্তে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সেতু’ লেখা সাইনবোর্ড লাগিয়েই বছরের পর বছর দায় এড়িয়ে চলছে। মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ-ঢাকার পথের ইলিয়টগঞ্জ পরিবহনের চালক মো. কালাম হোসেন ও নবীনগর-মুরাদনগর জনতা পরিবহনের চালক দুলাল মিয়া বলেন, যুগ যুগ ধরে তাদের জরাজীর্ণ বেইলি সেতুগুলোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কান্দি পাল বলেন, এসব সেতু পাঁচ টনের ওপরে পণ্যবাহী কোনো যানবাহন চলাচলের উপযোগী নয়। কিন্তু ব্যস্ততম এসব সড়কে তার চেয়ে বেশি বোঝাইয়ের গাড়ি অহরহ চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ