ঢাকা, রোববার 07 May 2017, ২৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যশোর বোর্ডে ফল খারাপের নেপথ্যে তিন কারণ

 

­খুলনা অফিস : এবারের এসএসসি পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার গতবছরের তুলনায় কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হারও কমেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। আর গত সাত বছরের তুলনায় এবার সর্বনিম্ন পাসের হার দাঁড়িয়েছে। একই অবস্থা জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে। গত পাঁচ মধ্যে সর্বনিম্ন জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এবার। তবে গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানের প্রশ্নপত্র ‘কঠিন’ ও নতুন পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়ন করায় এমন ফলাফল হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে ৮০ দশমিক ৪ ভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। ২০১০ সালে এর চেয়ে কম ৭৯ দশমিক ১৮ ভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিল। আর এবছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৪৬০ জন শিক্ষার্থী। চলতি বছর ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ২২ হাজার ৯৯৫ জন পাস করেছে। এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৪৬০ জন। গতবার পাসের হার ছিল ৯১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৪৪৪ জন।

পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি কম প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়ন এবং গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন কঠিন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সার্বিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।

যশোর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক একেএম গোলাম আযম বলেন, সার্বিক বিচারে স্কুলের ফলাফলে তিনি খুশি। নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির কারণে গতবারের চেয়ে ফল কিছুটা খারাপ হলেও শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়েছে। যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিখিল রঞ্জন চক্রবর্তী জানান, এবছর নতুন পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্তি কমলেও শিক্ষার্থীদের জন্য ভাল। এতে মেধার মূল্যায়ন হবে, মেধাবীরা ভাল করবে। তিনি শুধু এসএসসি নয়, সকল পরীক্ষায় এই প্রক্রিয়ায় উত্তরপত্র মূল্যায়নের তাগিদ দেন।

যশোর পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল আজিজ বলেন, নিয়মিত পাঠদান ও শৃঙ্খলার কারণে প্রতিবছরের মত এবারও শিক্ষার্থীরা ভাল ফলাফল করেছে। তবে পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে পদ্ধতি পরিবর্তন করায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তি তুলনামূলক কমেছে।

জানতে চাইলে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, এবার গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্ন কঠিন হয়েছে। তবে ফেল করার মত প্রশ্নপত্র ছিল না। এই দুটি বিষয় সার্বিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে খাতা মূল্যায়নে নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এতে মানসম্মতভাবে খাতা মূল্যায়ন হয়েছে। এজন্য পরীক্ষার ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছর যশোর বোর্ডে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ২২ হাজার ৯৯৫ জন পাস করেছে। গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক শূন্য চার শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়ে ৬ হাজার ৪৬০ জন। বোর্ডে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পাসের হার বেশি। তবে জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে ছেলেরা। বোর্ডে ৭৮ দশমিক শূন্য এক শতাংশ ছেলে ও ৮২ দশমিক ১৪ শতাংশ মেয়ে পাস করেছে। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৫২৪ জন ছেলে এবং ২ হাজার ৯৩৬ জন মেয়ে। ২০১৫ সালে যশোর বোর্ডে পাসের হার বেশ কমে গিয়েছিল। ওই বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ৭ হাজার ৯০৮ জন। পাসের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৫১ ভাগ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৭ হাজার ১৯৮ জন শিক্ষার্থী। এর আগে ২০১৪ সালে এই বোর্ড থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ২২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ২২৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল। পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ২৬ ভাগ। ২০১৪ জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১০ হাজার ৯৬৯ জন শিক্ষার্থী। আর ২০১৩ সালে যশোর বোর্ড থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৩২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৯ হাজার ৬১৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল। পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৬৪ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ১০১ জন শিক্ষার্থী। 

স্মরণকালের মধ্যে ২০১৩ সালেই যশোর বোর্ড শ্রেষ্ঠ ফলাফল অর্জন করেছিল। তবে জিপিএ-৫ সবচেয়ে বেশি পেয়েছিল ২০১৪ সালে। এর আগে যশোর বোর্ডে ২০১২ সালে ৮৭ দশমিক ১৬ ভাগ, ১১ সালে ৮৪ দশমিক ০৪ ভাগ এবং ২০১০ সালে ৭৯ দশমিক ১৮ ভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিল। এ অনুযায়ী ২০১০ সালের পর এবারই শতকরা অনুযায়ী সবচেয়ে কম সংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হলো। আর ২০১২ সালের পর এবারই সবচেয়ে কম সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ২০১২ সালে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৮২৫।

যশোর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, শুধু যশোর বোর্ড নয়। সারাদেশের পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে। নির্ভরযোগ্য নম্বর প্রাপ্তি কর্মসূচির আওতায় এবার প্রধান পরীক্ষকদের খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খাতা মূল্যায়নের সম্ভাব্য উত্তরমালা ও গাইডলাইন দেয়া হয়। নিয়মিত মনিটরিং করা হয়েছে। খাতা মূল্যায়নে যার যার প্রাপ্য নম্বর প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এটা চলমান থাকলে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ