ঢাকা, রোববার 07 May 2017, ২৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ওয়াসার পানি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী ॥ নাগরিক দুর্ভোগ চরমে

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর তিনটি ওয়ার্ডে ওয়াসার পানি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানিতে ড্রেনের পচা ময়লার দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ওয়াসার সরবরাহ করা পানি বাসা বাড়ীতে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। নাগরিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে ।

নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডের ইসলামপুর রোড, রায়পাড়া, মুসলমানপাড়া, নিরালা, ছবেদাতলা, শেরে বাংলা রোড ও কাশেম নগর এবং ২০ নং ওয়ার্ডের শেখ পাড়া, বাগানবাড়ী ও দেবেনবাবু রোডের মানুষ গত তিন দিন ধরে ওয়াসার পানি ব্যবহার করতে পারছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । ২৬ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা থেকে একই অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী বলছে, এলাকার প্রধান সড়ক ও  গলিতে ইতোমধ্যেই খুঁড়ে খুঁড়ে পাইপ বসানো হয়েছে। অনেক জায়গায় এখনও খুঁড়াখুড়ির কাজ চলছে। ধারণা করা হচ্ছে ব্যাপক খুঁড়াখুড়ির কারণে পানির পাইপ ছিদ্র হয়ে ড্রেনের পানি প্রবেশ করেছে। ওয়াসার পানির গ্রাহকদের বাড়ীতে এ পানিই সরবরাহ করা হচ্ছে ।

এ ব্যাপারে খুলনা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের  কাছে পানির গ্রাহকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেয়া হলেও  গতকাল পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি পাইপ ছিদ্র হয়েছে কি না সেটি চিহ্নিত করা যায়নি।

এ ব্যাপারে ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শমসের আলী মিন্টু জানান, তার ওয়ার্ডে প্রায় লক্ষাধিক লোকের বসবাস। গত কয়েক দিন ধরে তিনি ওয়ার্ড বাসীর কাছ থেকে প্রায় অর্ধশত অভিযোগ পেয়েছেন। সকলের একই অভিযোগ ওয়াসার পানিতে ড্রেনের দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। খাওয়া ও গোসল বন্ধ হয়ে গেছে। কাউন্সিলর অভিযোগ করেন তার নিজের বাড়ীতে ও ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিতে দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, ওয়াসার সাথে কথা বলেও কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি।  তিনি জনগুরুত্বপূর্ণ এ সমস্যাটির দ্রুত সমাধান করার দাবি জানান। এ ব্যাপারে খুলনা ওয়াসার ডি এম ডি কামাল আহমেদ বলেন, অভিযোগ প্রাপ্তির পর গত দু’দিন ধরে চেষ্টা করা হচ্ছে সমস্যাটা কোথায় হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সমস্যা চিহ্নিত কর সম্ভব হয়নি। ওয়াসার পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

তেরখাদায় শিশুপার্ক না থাকায়

দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে খুলনার তেরখাদা উপজেলায় সরকারিভাবে শিশুপার্ক গড়ে না ওঠায় কোমলমতি শিশুরা শরীরচর্চা মনন বিকাশ ও চিত্ত বিনোদন থেকে বঞ্চিত রয়েছে। শিশুপার্ক নির্মাণে সরকারি উদ্যোগ না থাকায় শিশুরা ঘরে বসেই সময় কাটায়। ১৯৮৪ সালের দিকে উপজেলা পরিষদের চত্বরে (বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যানের অফিস কাম বাসভবন) কোমলমতি শিশুদের চিত্তবিনোদনের জন্যে একটি শিশুপার্ক নির্মাণ করা হয়েছিল। শিশুদের অবসর সময় কাটানোর জন্য এ পার্কে নির্মাণ করা হয়েছিল নানা ধরনের খেলাধূলা ও শরীরচর্চার সরঞ্জাম। পড়ন্ত বিকেলে শিশুরা পার্কটিতে শরীরচর্চা, মনন বিকাশ এবং চিত্তবিনোদনের মধ্যে দিয়ে সময় কাটাতো। শিশুদের কলরবে মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা উপজেলা পরিষদ ও পার্শ্ববর্তী এলাকা। কিছুদিন পার হবার পর পার্কের চারপাশের বেষ্টনী ধ্বংসে নিপতিত হয়। এলাকার মানুষ শিশুপার্কের মধ্যে গরু, ছাগল এবং ঘোড়া পালন শুরু করে। ওই সময় শিশুপার্কটির নামকরণ  হয়েছিল গো-চারণভূমিতে। গরু ছাগল চারণ্যের কারণে শিশুপার্কের ভিতরে সরকারিভাবে নির্মিত শরীরচর্চার সরঞ্জামগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। মুছে গেছে শিশুপার্কের স্মৃতিটুকু। শিশুপার্কটি সচল থাকলে এখানকার শত শত শিশুরা বিকেল বেলায় নানারকম শারীরিক কসরত করে শরীর গঠন করতে সক্ষম হতো। এক সময় এ পার্কে এসে শিশুদের অভিভাবক বিশেষ করে তাদের মায়েরা শিশুদের শরীরচর্চার পাশাপাশি গল্পগুজব করেও শিশুদের মননের পরিবর্তন ঘটাতো। তেরখাদার সচেতন মহল উপজেলার পাশেই আবারও সরকারি উদ্যোগে একটি শিশুপার্ক নির্মাণের দাবি জানান।  এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, উপজেলা সদরে একটি শিশুপার্ক প্রতিষ্ঠার জন্যে আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে জায়গা নির্বাচনের কাজও চলছে। শিশুদের মনন বিকাশের জন্যে যত দ্রুত সম্ভব একটি আধুনিক শিশুপার্ক প্রতিষ্ঠা করা হবে।

কেসিসির জমিতে পাঠদান 

খুলনা মহানগরীর আবু বক্কর খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেই নিজস্ব জমি। কেসিসির জমিতে তাদের ভবন। এখানেই চলে পাঠদান।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি ১৯৮৫ সালে অবহেলিত জনগোষ্ঠী হরিজন ও ডোমের জন্য স্থানীয় লোকজনের উদ্যেগে প্রতিষ্ঠিত। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে স্কুলটি রেজিস্ট্রেশন হয়। রেজিস্ট্রেশন করার সময়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ কেসিসির ১৮ শতক জমি বিদ্যালয়ের জমি বলে দেখায়। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নূর ইসলাম জানান, জমিটি কেসিসির ছিলো। ওটা উদ্ধারের ব্যাপারে কেসিসির উদ্যোগ নেয়ার কথা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউসুফ হোসেন হাওলাদার বলেন, বিদ্যালয়ের জমি কম থাকায় নানা উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প আসলেও তা আর বাস্তবায়নের সুযোগ হয়নি।

জমিতে বসবাসকারী গৃহবধূ হাসি আক্তার জানান, এটা স্কুলের জমি নয়, এটা কেসিসির জমি। এখানে আমরা প্রথম থেকেই বাস করে আসছি। আর টয়লেটটা এনজিও করে দিয়েছে। ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, ওখানে বিদ্যালয়ের কোন জমি দখল নেই। যে জমিটার ব্যাপারে অভিযোগ এসছে তা কেসিসির। যা গরিবদের থাকার জন্য দেয়া হয়েছে। এর কোন কাগজপত্রও নেই।

কেসিসির এস্টেট অফিসার মো. নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, সম্পূর্ণ জমিটাই কেসিসির। স্কুলটিও কেসিসির জমিতে রয়েছে। এছাড়া কেসিসির জমিতেই বস্তির গরিব হরিজন ডোমরা বাস করছে।

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, শহরের কোন বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশনের জন্য নূন্যতম জমির পরিমাণ ৮ শতক। আবুবক্কর খান বিদ্যালয়ের ব্যাপারটা আমি সঠিক জানি না। এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষপ গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ