ঢাকা, সোমবার 08 May 2017, ২৫ বৈশাখ ১৪২৩, ১১ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শিগগির হাইকোর্টে শুরু হচ্ছে সাত খুন মামলার শুনানি

স্টাফ রিপোর্টার : শিগগির হাইকোর্টে শুরু হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি। শুনানির জন্য এ মামলার পেপারবুক বিজি প্রেস থেকে সুপ্রিম কোর্টে এসে পৌঁছেছে। গতকাল রোববার দুপুরের দিকে হাই কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।

সাব্বির ফয়েজ বলেন, আগামী সপ্তাহে প্রধান বিচারপতির কাছে পেপারবুক প্রস্তুতের বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। পরে প্রধান বিচারপতি সাত খুন মামলার আপিল শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করবেন। এরপরই শুনানি শুরু হবে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে যারা কারাগারে আটক রয়েছেন তারা হাইকোর্টে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন দায়ের করেন। এছাড়া নিম্ন (বিচারিক) আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য নথি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপরই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেন। পরে হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা থেকে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য মামলার সকল নথি বিজি প্রেসে পাঠায়। এরপর বিজি প্রেস পেপারবুক প্রস্তুতির কাজ শেষ করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠিয়েছে।

এর আগে, ২২ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার বিচারিক আদালতের রায় ও নথিপত্র সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। এরমধ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও মেজর (বরখাস্ত) আরিফ হোসেনসহ ১৫ আসামীর করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি তাদের জরিমানার আদেশ স্থগিত করা হয়।

গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন আলোচিত সাত খুন মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন ও র‌্যাবের বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এ ছাড়া নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৬ জন হলেন- নূর হোসেন, চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, চাকরিচ্যুত মেজর মো. আরিফ হোসেন, চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম এম রানা, মো. মিজানুর রহমান দীপু, মো. মোখলেছুর রহমান, মো. মহিউদ্দিন মুন্সী, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, সিপাহি আবু তৈয়ব, সেলিম, সানাউল্লাহ সানা, শাহ জাহান, জামাল উদ্দিন, আসাদুজ্জামান নূর, পুর্ণেন্দু বালা, আরওজি আরিফ হোসেন, সৈনিক আল আমিন, তাজুল ইসলাম, সার্জেন্ট এনামুল কবির, বেলাল হোসেন, শিহাব উদ্দিন, মোর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, আবুল বাশার, রহম আলী ও এমদাদুল হক। 

মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৩৫ আসামীর মধ্যে ১২ জন পলাতক রয়েছেন। গ্রেফতার ২৩ জনের মধ্যে ১৮ জনকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে এবং পাঁচজন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ১ ও ২-এ রাখা হয়েছে।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডের খানসাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তার সহযোগী সিরাজুল ইসলাম লিটন, মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিমকে অপহরণ করে র‌্যাব-১১। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের এবং ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি মামলা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ