ঢাকা, সোমবার 08 May 2017, ২৫ বৈশাখ ১৪২৩, ১১ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আজ পঁচিশে বৈশাখ

স্টাফ রিপোর্টার : আজ সোমবার পঁচিশে বৈশাখ। বহুমাত্রিক সাহিত্যপুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে তিনি কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। প্রতি বছরের মতো নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নোবেল বিজয়ী এই বাঙালি কবিকে স্মরণ করবে তার অগণিত ভক্তরা। বাংলা সাহিত্যের এই নক্ষত্র কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো: আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। 

রবীন্দ্রনাথের জন্ম ভারতে হলেও পূর্বপুরুষের আদি নিবাস খুলনার রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ গ্রামে। নানা বাড়ি ও শ্বশুর বাড়ি ফুলতলার দক্ষিণডিহি। এছাড়া পিতার জমিদারী দেখা ও নিমগ্ন কাব্যচর্চার জন্য কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, নওগাঁর পতিসর ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গড়ে তুলেছিলেন দ্বিতীয় আলয়।

সাহিত্য সমালোচকরা বলে থাকেন, বাংলাদেশে না এলে রবীন্দ্রনাথ ‘পূর্ণ স্বরূপ’ পেতেন না, থেকে যেতেন একাংশ এক কবি। তার অন্যতম অমরকীর্তি ‘সোনারতরী’ কাব্যগ্রন্থের সূচনাতে নিজেই লিখেছেন, “বাংলাদেশের নদীতে, গ্রামে গ্রামে তখন ঘুরে বেড়াচ্ছি। এর নতুনত্ব চলন্ত বৈচিত্র্যের নতুনত্ব।... ক্ষণে ক্ষণে যতটুকু গোচরে এসেছিল তার চেয়ে অনেকখানি প্রবেশ করেছিল মনের অন্দরমহলে আপন বিচিত্র রূপ নিয়ে।” রবি কবি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের বাইশে শ্রাবণ জোড়াসাঁকোর বাড়িতে বিবর্ণ অস্তরাগ ছড়িয়ে ইহলোক ত্যাগ করেন।

জন্মের ১৫৫ বছর পেরিয়ে এবং মৃত্যুর প্রায় ৭৫ বছর পরেও রবীন্দ্রনাথ এখনও কেন প্রাসঙ্গিক-এ ব্যাপারে রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এমিরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বাঙালির এই কবি এমন এক সময় জন্মগ্রহণ করেছিলেন যখন রাষ্ট্র ছিল পরাধীন, চিন্তা ছিল প্রথাগত ও অনগ্রসর, বাংলাভাষা ছিল অপরিণত। রবীন্দ্রনাথ একাধারে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বমানে উন্নীত করার পাশাপাশি জাতির চিন্তা জগতে আলোড়ন ঘটিয়েছেন।

রবীন্দ্রনাথ প্রথম নোবেল বিজয়ী বাঙ্গালী কবি । ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলী কাব্য গ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। তার লেখা ‘আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায় ভালোবাসি’ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও প্রেরণা যুগিয়েছিল তার অনেক গান।

কর্মসূচি : রবি ঠাকুরের ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। এ বছর জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান হবে রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত নওগাঁর পতিসরে। আজ বিকেল ২টা ৩০ মিনিটে পতিসরে রবীন্দ্র কাচারি বাড়ির দেবেন্দ্র মঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। 

এবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মানুষের ধর্ম: রবীন্দ্রনাথ ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা’। এ বিষয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তব্য দেবেন অধ্যাপক ড. হায়াৎ মামুদ। আলোচনার পর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়াও কবির স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এবং খুলনার দক্ষিণডিহি ও পিঠাভোগসহ ঢাকায় যথাযোগ্য মর্যাদায় তার ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে রবীন্দ্রমেলা, রবীন্দ্রবিষয়ক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করবে স্থানীয় প্রশাসন।

এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তিন দিনব্যাপী কবির চিত্রশিল্প প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলা একাডেমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সহযোগিতায় পতিসরের আলোকে কবির জন্মবার্ষিকীর স্মরণিকা ও পোস্টার মুদ্রণ করবে। বাংলা একাডেমিতে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে বাংলা একাডেমি। ঢাকাসহ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলাদা কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহ এ উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ করবে। জাতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও অন্যান্য অনুষ্ঠানমালা বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি গণমাধ্যমসমূহ সম্প্রচার করবে।

দক্ষিণডিহিতে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী’র তিনদিনের অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন আজ

খুলনা অফিস : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৬ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহিস্থ ‘রবীন্দ্র কমপ্লেক্স’-এ খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী আলোচনা সভা, লোকমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন আজ (সোমবার)। 

বিকেল ৪টায় মৃণালিনী মঞ্চে জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। বিশেষ অতিথি থাকবেন কবি কাজী রোজী এম,পি, কুয়েট’র উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর, পুলিশের খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. দিদার আহম্মদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেন। দ্বিতীয় দিন (মঙ্গলবার) ইউএনও মাশরুবা ফেরদৌসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি থাকবেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ। বিশেষ অতিথি থাকবেন খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনার রশিদ, পুলিশ সুপার মো. নিজামুল হক মোল্যা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অসিত বরণ ঘোষ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের খুলনা মহানগর ইউনিট কমান্ডার অধ্যাপক মো. আলমগীর কবির। সমাপনি দিন (বুধবার) জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। বিশেষ অতিথি থাকবেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, খুলনা প্রেসক্লাব সভাপতি এস এম হাবিব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের খুলনা জেলা ইউনিট কমান্ডার সরদার মাহাবুবার রহমান। এয়াড়াও প্রতিদিন থাকছে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকমেলা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ