ঢাকা, সোমবার 08 May 2017, ২৫ বৈশাখ ১৪২৩, ১১ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এরশাদের সম্মিলিত জাতীয় জোটের আত্মপ্রকাশ

 

স্টাফ রিপোর্টার : দুটি দল ও দুটি রাজনৈতিক জোটের সমন্বয়ে সম্মিলিত জাতীয় জোট ইউএনএ নামের জোটের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে নতুন এই জোটের ঘোষণা দেন সাবেক এই স্বৈরশাসক। নিজেকে জোটের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেন এরশাদ। 

এরশাদ জানান, এই জোটে আছে দুটি দল জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট এবং দুটি জোট জাতীয় ইসলামী মহাজোট ও বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ)। এর মধ্যে প্রথম দুটি দল নিবন্ধিত। ইসলামী মহাজোটে আছে ৩৪টি ইসলামী দল আর বিএনএতে আছে ২২টি দল। সব মিলিয়ে এরশাদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত দল হচ্ছে ৫৮টি। জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার জোটের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়।

নতুন জোটের ঘোষণা দিয়ে এরশাদ বলেন, রাজনৈতিক নীতি ও আদর্শের দিক থেকে আমরা সবাই স্বাধীনতার চেতনা, ইসলামী মূল্যবোধ তথা সব ধর্মের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ আদর্শের অনুসারী এবং ধারক ও বাহক। 

এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টির পক্ষে তিনি, ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান, জাতীয় ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাছের ওয়াহেদ ও বিএনএর চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী নতুন জোটের ঘোষণাপত্রে সই করেছি।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়ে এরশাদ জানান, আমরা মহাজোটে নেই। আগামীতে সরকার গঠন করতে পারলে আমরা সরকারে থাকব। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে এখন আমরা বিরোধী দলে আছি, প্রয়োজনে বিরোধী দলে থাকব। 

সাবেক এই স্বৈরশাসকের দাবি, ইউনাইটেড ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স তিনটি মৌলিক আদর্শের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। ১. ইসলামী মূল্যবোধ তথা সকল ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সমান মর্যাদা প্রদর্শণ। ২. স্বাধীনতার চেতনা। ৩. বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনবোধ নিশ্চিত করা।

 ঘোষণাপত্রে বলা হয়, এই জোট নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেবে। ফল যা-ই হোক না কেন, জোট বহাল থাকবে। জোটের স্থায়ীত্বের জন্য রাজনৈতিক বিপদে-আপদে, সুদিনে-দুর্দিনে শরিকরা একে-অপরের পাশে থাকবে। স্বার্থের কারণে কোনো দল জোট ছেড়ে যাবে না- এই অঙ্গীকার থাকবে।

নতুন জোট গঠনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে এরশাদ বলেন, বর্তমানে সংসদীয় গণতান্ত্রিক বিশ্বে জোটগত রাজনৈতিক প্রবণতা বিরাজ করছে। বাংলাদেশেও এই ধারা অব্যাহত আছে। জোটের রাজনীতির মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সৌহার্দ স্থাপনের সুযোগ থাকে, যা সংঘাতের রাজনীতির বিপরীতে সম্প্রীতির রাজনীতি প্রবর্তন করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ দূত জানান, জোট গঠনের জন্য আমরা দুইভাবে জোটের শরিক নির্বাচনের নীতি গ্রহণ করেছি। যে সকল দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত আছে- সেই দল সরাসরি জোটের শরিক হিসেবে থাকবে এবং যেসকল দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে কিংবা নিবন্ধিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে, তাদের সমন্বয়ে মোর্চা বা জোট গঠন করে সেই জোটকে আমরা শরিক হিসেবে বৃহত্তর জোটে অন্তর্ভুক্ত করেছি। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, আমরা এখন মহাজোটে নেই। রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মান্নান, জাতীয় ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুক, বাংলাদেশ জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মনি, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ