ঢাকা, মঙ্গলবার 09 May 2017, ২৬ বৈশাখ ১৪২৩, ১২ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মোহামেডানকে শীর্ষে দেখতে চান কোচ সৈয়দ নাইমুদ্দিন

স্পোর্টস রিপোর্টার: ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডানের ফুটবল কোচের দায়িত্ব নিলেন ভারতীয় জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কোচ নাইমুদ্দিন। এর আগে কয়েক মৌসুম ব্রাদার্স ইউনিয়নে কাজ করা ছাড়া ও মাঝে বাংলাদেশ জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে বর্ষিয়ান এই কোচের। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মাঝে-মধ্যেই বাংলাদেশের মিডিয়ায় জায়গা করে নিয়েছেন নাইমুদ্দিন। ব্রাদার্সে আসছেন, কখনো মোহামেডানে আসছেন। আবার কখনো অমুক দিন আসছেন-তাকে নিয়ে এ ধরনের খবর হয়েছে বাংলাদেশের মিডিয়ায়। অবশেষে গত রোববার রাতে কলকাতা থেকে ঢাকায় এসেই মোহামেডান ক্লাবে যোগ দেন। ভ্রমনক্লান্তি আর কম ঘুমানোটা পত্তাই পায়নি ৭৩ বছরের এ কোচের কাছে। সকালে ক্লাবে তার কক্ষে গিয়েই দেখা গেলো তিন ফুটবলার মিঠুন চৌধুরী, এনামুল হক শরীফ ও ফয়সাল মাহমুদকে নিয়ে খোশগল্পে মগ্ন ভারতের এ বর্ষিয়ান কোচ। মাঝে মাঝে অন্য ফুটবলাররা আসছেন এবং কোচের সাথে সালাম বিনিময় করে পরিচয় পর্ব সেরে নিচ্ছেন। সল্প সময়েই কোচ ফুটবলারদের প্রয়োজনীয় টিপস দিয়েছেন। ফুটবলার মনির চুল বড় দেখে তৎক্ষনাথ সেলুনে পাঠিয়ে দিলেন। প্রথম দিনেই প্রশিক্ষনের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছাড়াও নিজের ব্যবহারের জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়েছেন।
এই ক্লাবে একেবারেই নতুন নাইমুদ্দিন। এর অগে বাংলাদেশের ফুটবলে সৈয়দ নাইমুদ্দিনের এতদিন ছিল দুটি পরিচয়-বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক আর ব্রাদার্সের কোচ। তার সে পরিচয়ের বাইয়ে যোগ হলো এখন তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডানের কোচ। সেই সঙ্গে গোপীবাগের ক্লাব ব্রাদার্সের সঙ্গে নাইমুদ্দিনের সম্পর্কটা আপাতত ছিন্ন হলো।এব্যাপারে আলোচনায় তেমন আগ্রহ ছিল না মোহামেডানের নতুন এ কোচের। ‘অতীত অতীতই। ওই বিতর্ক শেষ। আমি এখন মোহামেডানের কোচ, এটাই সত্য’-এভাবে ব্রাদার্সপর্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা ছিল তার। কিন্তু ব্রাদার্সের কর্মকর্তারাতো অভিযোগ করছেন আপনি কথা রাখেননি।‘হাতি যখন চলে তখন সে ভাবেনা, পেছনে কে কি বলে। আমি সামনে চলতেই পছন্দ করি। অন্যদের কথাগুলো অন্যদের কাছেই থাক’-এমন জবাবে আরেকবার বোঝালেন তিনি ব্রাদার্স নিয়ে কথা বলতে কম আগ্রহী।তারপরও ব্রাদার্স ছেড়ে মোহামেডানে আসার প্রধান কারণ কি তা জানার চেষ্টা ছিল। এ প্রসঙ্গে নাইমুদ্দিনের সোজা-সাপ্টা জবাব ‘মোহামেডান বিখ্যাত ক্লাব। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের সঙ্গে এ ক্লাবের নামটি জড়িয়ে আছে। বড় ক্লাব, বড় নাম, কোটি কোটি সমর্থক,অফিসিয়ালদের আন্তরিকতা ও পরিবেশ-এ সবই আমাকে টেনেছে মোহামেডানে।’দায়িত্ব নেয়ার আগে নিশ্চয়ই মোহামেডানের দল কেমন হয়েছে তার খোঁজ নিয়েছিলেন। তো কেমন হয়েছে সাদা-কালোদের এবারের দল? ‘দল ভালো হয়েছে। খেলোয়াড় যারা আছে তারা আমাকে অনেক সম্মান করে। তারা ফুটবল ভালোবাসে। তারা জানে কি করতে হবে’ বলেছেন মোহামেডানের নতুন কোচ।
মোহামেডানের এ দলটি নিয়ে আপনার লক্ষ্যই কি? সৈয়দ নাইমুদ্দিন মোহামেডানকে চ্যাম্পিয়নই দেখতে চান ‘আমি যখন যে দলেরই দায়িত্বে থাকি, সে দলটিকে শীর্ষেই দেখতে চাই। কেবল আসলাম, দেখি কোথায় কি সমস্যা আছে। সেগুলো আগে সমাধান করতে হবে। আমার কথা পরিস্কার-কে কোথা থেকে এসেছে, কে সিনিয়র কে জুনিয়র তা দেখার সুযোগ নেই। ক্লাবের জার্সি যে পড়েছে তাকে মাঠে শতভাব দিতে হবে। ভালো পারফরমাররাই দলে জায়গা পাবে-এটাই ফুটবলের নিয়ম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ