ঢাকা, মঙ্গলবার 09 May 2017, ২৬ বৈশাখ ১৪২৩, ১২ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চলতি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে সাড়ে ৬ শতাংশ

স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্ব ব্যাংকের পর এবার জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে মন্তব্য করলো এসকাপ। বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য সংরক্ষণ নীতি ও রেমিটেন্স প্রবাহে ভাটার কারণে আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে প্রক্ষেপণ করেছে জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন-এসকাপ।
গতকাল সোমবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে আইডিবি ভবনে এক অনুষ্ঠানে এ প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ইউএন এসকাপের ব্যাংকক কার্যালয়ের অর্থনীতি বিষয়ক কর্মকর্তা সুদীপ রঞ্জন বসু। ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়াটকিন্স এবং বিআইডিএস এর মহাপরিচালক কেএএস মুর্শিদও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।
এ কমিশন বলছে, চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশ মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে। এসকাপের ‘ইকোনমিক এন্ড সোশাল সার্ভে অব এশিয়া এন্ড প্যাসিফিক’ প্রতিবেদনে প্রবৃদ্ধির এ পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে।
প্রায় এক দশক ৬ শতাংশের বৃত্তে ‘আটকে’ থাকার পর গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয় ৭ দশমিক ১১ শতাংশ।
সরকার এবারের বাজেটে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করেছে। আর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বিশ্বাস, এবার প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হবে।
এসকাপের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে সামগ্রিকভাবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫ শতাংশ হাতে পারে। আর আগামী অর্থবছরে তা আরও খানিকটা বেড়ে ৫ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।
আর বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি কমার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামীতে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য সংরক্ষণ নীতি আরও কঠোর হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। এছাড়া বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রবাহের ধারাবাহিক পতনের বিষয়টি প্রবৃদ্ধি কমার একটি অভ্যন্তরীণ কারণ হতে পারে বলে মনে করছে এসকাপ।
সুদীপ রঞ্জন বসু বলেন, প্রতিবছরই এসকাপের এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। কার্যকর সুশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় এ প্রতিবেদনে। যে দেশে সুশাসনের মাত্রা যত বেশি, সে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা তত ভালো।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ধরে রাখতে কয়েকটি পরামর্শ রাখা হয়েছে এসকাপের প্রতিবেদনে। মানসম্মত চাকরির সুযোগ সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়া, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে শিল্পবান্ধব নীতি গ্রহণ, মানবসম্পদের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের বাধা চিহ্নিত করে তা সরিয়ে ফেলা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য ব্যাপক মাত্রায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে সেখানে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিধারার প্রশংসা করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের উপরে থাকা স্থিতিশীল ও শক্তিশালী অর্থনীতির পরিচায়ক।
বাংলাদেশে সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ই-প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থা চালু এবং রাজস্ব আদায় বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছে এসকাপ।
রবার্ট ওয়াটকিন্স বলেন, এ প্রতিবেদন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ভাল করে বুঝতে এবং এসডিজি অর্জনে করণীয় ঠিক করতে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।
বিআইডিএস এর মহাপরিচালক কেএএস মুর্শিদ বলেন, আসন্ন নতুন অর্থবছর থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করা হলে অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়দী কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই তিনি মনে করেন। মাত্র ৩২ হাজার রেজিস্টার্ড ভ্যাটদাতা ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিলে এটা দেশের অর্থনীতিতে বা দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ