ঢাকা, মঙ্গলবার 09 May 2017, ২৬ বৈশাখ ১৪২৩, ১২ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সংসদ সদস্যদরে প্লট দেবে সরকার

সংসদ রিপোর্টার: গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, যেসব সংসদ সদস্যের নিজ নামে বা পরিবারের কোন সদস্যের নামে ঢাকা শহরে কোন ফ্ল্যাট বা প্লট নেই, তাদেরকে ভবিষ্যতে প্লট দেয়া হবে।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন।
আব্দুল মুনিম চৌধুরীর এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোন আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী তাদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ করা হবে। তিনি আরো জানান, রাজধানীর অবাসন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাজউক কয়েকটি নতুন আবাসিক প্রকল্প গড়ে তোলার সম্ভাবতা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। এসব হয়ে গেলে আবাসন সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে।
ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে মোশাররফ হোসেন জানান, রাজধানীর পাশ্ববর্তী এলাকায় পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে নতুন শহর সৃষ্টিকল্পে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় গৃহায়ণ কতৃপক্ষ বসিলায় সাড়ে ১৬ একর জমিতে ১৪১ টি প্লট উন্নয়ন ও জেনেভাক্যাম্পে বসবাসকারী বিহারীদের পূনবাসনের জন্য ৪৫ একর জমিতে ১৪ তলা বিশিষ্ট ৫৮ টি ভবনে ৬ হাজার ৩২ টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অনুমোদন পেলে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলবে বলে তিনি জানান।
দেশ ভিক্ষুকমুক্ত হচ্ছে : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেছেন, ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহর সমূহে ভিক্ষাবৃত্তি নিরুৎসাহিতকরণ ও ভিক্ষুকদের আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যে দেশকে ভিক্ষুকমুক্ত করা হবে। সফুরা বেগমের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সংসদে দেয়া তথ্যানুযায়ী, জেলা পর্যায়ে ভিক্ষুকদের স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নড়াইল ও জামালপুর জেলায় ২৫২ জনকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে খুলনা জেলায় ১২০ জনকে (৪৮ জনকে চায়ের দোকানের সরঞ্জাম, ৩৫ জনকে ভ্যানগাড়ী, ৩৭ জনকে সেলাই মেশিন) পুনর্বাসন করা হয়েছে। বরিশাল জেলায় ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর ১৪০জনকে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা শহরকে ভিক্ষুকমুক্ত করার জন্য ৩টি জোনে বিভক্ত করে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
তনি কোটি মানুষকে বয়ষ্ক ভাতা : ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর থেকে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত বিগত ২০ বছরে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৩০ হাজার ১৪০ জন লোক বয়ষ্ক ভাতার সুবিধা ভোগ করেছেন বলে জানান সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। তিনি বলেন, এ সময়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ৩৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বয়ষ্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩১ লাখ ৫০ হাজার জন বলেও জানান প্রতমিন্ত্রী।
নুরুন্নবী চৌধুরীর (শাওন) এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আরও বলনে, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বয়ষ্ক ভাতাভোগী ৩১ লাখ ৫০ হাজার জনের মধ্যে ১৬ লাখ ৬ হাজার ৫শ’ জন পুরুষ এবং ১৫ লাখ ৪৩ হাজার ৫শ’ জন নারী। প্রতিজনের ৫শ’ টাকা হারে এ খাতে এ বছর এক হাজার ৮৯০ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।
বিগত ২০ বছরের বয়ষ্ক ভাতা প্রদানের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রথম বয়ষ্ক ভাতা প্রদান শুরু হয়। ওই বছর ৪ লাখ ৩ হাজার ১১০ জনকে একশ’ টাকা হারে মোট ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। এরপর বয়ষ্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি জনপ্রতি মাসিক বরাদ্ধ একশ’ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে বর্তমানে ৫শ’ টাকা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ