ঢাকা, মঙ্গলবার 09 May 2017, ২৬ বৈশাখ ১৪২৩, ১২ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সংসদে উত্থাপনের এক বছর পর ইপিজেড বিল প্রত্যাহার

সংসদ রিপোর্টার : ইপিজেড শ্রমিকদের ইউনিয়ন করার অধিকার, মজুরি বোর্ড, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির সুবিধা দিতে ‘বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিল-২০১৬’ সংসদে উত্থাপনের এক বছর পর তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বিলটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করলে কন্ঠভোটে তা পাশ (প্রত্যাহার) হয়ে যায়। এর ফলে গত বছরে বিলটি সংসদে পাশের লক্ষে উত্থাপিত হলেও তা প্রত্যাহার করে নিল সংসদ। এর আগে গত রোববার বিলটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি।
গত রোববার সংসদের ১৫তম অধিবেশনে গত বছরের (২০১৬) এপ্রিলে উত্থাপিত বিলটির বিষয়ে সংসদে প্রতিবেদন দেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন খসরু। বিলটি সংসদে ওঠার পর ১৫ কার্যদিবসের সময় দিয়ে সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটি পরে কয়েকদফা সময় বাড়িয়ে নেয়। এই বিলটি পরীক্ষার জন্য একটি উপ-কমিটিও গঠন করা হয়।
গত রোববার আবদুল মতিন খসরু বলেন, আইএলও কনভেনশনের সঙ্গে যতটুকু সম্ভব সামঞ্জস্যপূর্ণ করে বিলটি সংসদে আবার উত্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত আইনটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করছি। এ কারণে সংসদীয় কমিটির সুপারিশের পর গতকাল বিলটি সংসদে উত্থাপনকারী সংসদ কাজে সংগঠনের সহযোগিতায় ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষণা কর্মসূচি গ্রহণ করবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবেলায় ইনস্টিটিউট ধান গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলেও বিলে বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে ইনস্টিটিউটের কাজ পরিচালনার জন্য বোর্ড গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সরকার কর্তৃক নিযুক্ত মহাপরিচালক বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বিল পাস 
কৃষি খাতে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় গবেষণা কার্যক্রমের সুযোগ সৃষ্টি করতে ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বিল- ২০১৭’ সংসদে পাস হয়। বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় ১৯৭৬ সালে অধ্যাদেশ জারির পর ১৯৮৪ ও ১৯৯৬ সালে দুই দফা তা সংশোধন করা হয়।
উচ্চ আদালতে সংবিধানের পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিল হওয়ায় সামরিক আমলের জারি করা অধ্যাদেশগুলোও বাতিল হয়ে যায়। ওই আইনগুলোর কার্যকারিতা রক্ষা করতে পরে নতুন আইন করার উদ্যোগ নেয় আওয়ামী লীগ সরকার, যার অংশ হিসেবে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বিল পাস করা হল। কৃষি গবেষণাকে আরও আধুনিক ও যুযোপযোগী করতে আইনটি করার হয়েছে।
বিলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ, ইনস্টিটিউটে নতুন জাতের বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা, কৃষিতে আইসিটির প্রয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শস্য উৎপাদনের জন্য পঞ্জিকা তৈরি ও প্রকাশের বিধান রাখা হয়েছে। বিলে বলা হয়, প্রয়োজনীয় দেশি ও বিদেশী প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষা প্রদানে ইনস্টিটিউট ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) চলমান কাজের বর্ণনা করে বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে মতিয়া চৌধুরী বলেন, “দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষি গবেষণা অপরিহার্য বিবেচনায় কৃষি ক্ষেত্রে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ‘দ্যা বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসার্চ ইনস্টিটিউট অর্ডিন্যান্স-১৯৭৬’ অধ্যাদেশটি রহিত করে বাংলা ভাষায় নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ