ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 May 2017, ২৮ বৈশাখ ১৪২৩, ১৪ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী মহাসড়কে থ্রি হুইলারের জন্য পৃথক বাইলেন দাবি

 

স্টাফ রিপোর্টার : মহাসড়কে থ্রি হুইলার চলাচলের জন্য পৃথক বাইলেনের দাবি জানিয়েছেন অটোরিকশা-অটোটেম্পো পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ। সরকার পুর্বেকার অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। বিশেষ করে ২০১৫ সালের আগস্টে যখন অটোরিকশা ও অটোটেম্পো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তখন এ খাতের মালিক, চালক ও শ্রমিকদের আশ্বাস দেয়া হয়েছিল এই বলে যে, তাদের যানবাহনের জন্য মহাসড়কে পৃথক বাইলেন করা হবে। কিন্তু গত দেড় বছরেও তা করা হয়নি। এদিকে অভিযোগ রয়েছে জ্বালানি তেল সংগ্রহ কিংবা বিআরটিএ অফিসে যাওয়ার জন্য মহাসড়কে উঠলেই পুলিশ বেআইনিভাবে এসব গাড়ি ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা ঘুষ হিসেবে খরচ না করলে সেই গাড়ি ছাড়ানো সম্ভব হয় না।

এই প্রেক্ষিতে দেশের মহাসড়কগুলোতে পৃথক বাইলেনের দাবিতে আন্দোলনে নামতে যাচ্ছে অটোরিকশা-অটোটেম্পোর চালকরা। দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ২০১৫ সালের আগস্ট থেকে দেশের মহাসড়কগুলোতে সব ধরনের অটোরিকশা ও অটোটেম্পো চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে পুরো সেক্টরের উপরই এখন বিরূপ প্রভাব পড়ছে। 

এ খাতের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ অটোরিকশা-অটোটেম্পো পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক দৈনিক সংগ্রামকে জানান, সারা দেশে প্রায় ৩ লাখ অটোরিকশা ও অটোটেম্পো চলাচল করছে। এ খাতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ১০ লাখ মানুষের। এই ১০ লাখ উপার্জনক্ষম লোকের ওপর প্রায় ৬০ লাখ মানুষ নির্ভরশীল। মহাসড়কে অটোরিকশা-অটোটেম্পো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এর পুরো প্রভাব পড়েছে এ ৬০ লাখ লোকের ওপর।

 গোলাম ফারুক আরো বলেন, এসব গাড়ির মালিক বেশিরভাগই ব্যাংক, এনজিও বা ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এ ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। আয় কমে যাওয়ায় এসব ঋণ পরিশোধ করা যাচ্ছে না। ফলে অনেকেই এখন ঋণগ্রস্থ।

বাংলাদেশ অটোরিকশা-অটোটেম্পো পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রেজাউল ইসলাম বলেন, তাদের পক্ষ থেকে এ খাতের চালক-শ্রমিকদের এসব দুর্দশার বিষয়গুলো তুলে ধরে গত ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে চার লেন সংবলিত ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এখনই এ ব্যবস্থা করা সম্ভব।

 নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, পুলিশের সদর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাই আমরা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ