ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 May 2017, ২৮ বৈশাখ ১৪২৩, ১৪ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সুন্দরবনের করমজলে কুমির জুলিয়েট এবার ৪৩টি ডিম দিয়েছে

 

খুলনা অফিস : পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের কুমির জুলিয়েট এবার ৪৩টি ডিম দিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে প্রজনন কেন্দ্রের পুকুর পাড় থেকে ডিমগুলো সংগ্রহ করে তা ইনকিউবেটরে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) রাখা হয়েছে।

করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির জানান, কেন্দ্রের পুকুর পাড়ে মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ৪৩টি ডিম দেয় জুলিয়েট। পরে ডিমগুলো পুকুর পাড় থেকে তুলে কেন্দ্রের প্রজনন কাজে ব্যবহৃত ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছে। ইনকিউবেটরে নির্দিষ্ট আলো, বাতাস ও তাপমাত্রায় রাখা ডিমগুলো ৮৮ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে বাচ্চা ফুটে বের হবে। এ নিয়ে জুলিয়েট করমজলে ১১ বার ডিম দিয়েছে। এর আগে জুলিয়েট গত বছরের ১৪ আগস্ট ৫১টি ডিম দেয়। যার মধ্যে ৩৬টি ডিম থেকে কুমিরের বাচ্চা ফোটে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে দেশের একমাত্র এ বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে ৬২টি কুমির ছানা নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তিতে বনবিড়ালে কুমির ছানা খেয়েছে বলে বন বিভাগের তদন্ত রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে তিন প্রজাতির কুমিরের অস্তিত্ব ছিল। লবণ পানির কুমির, মিঠা পানির কুমির ও গঙ্গোত্রীয় কুমির বা ঘড়িয়াল। এর মধ্যে মিঠা পানির কুমির ও ঘড়িয়ালের বিলুপ্তি ঘটেছে। এখন শুধু লবণ পানির কুমিরের অস্তিত্বই আছে। এরা সাধারণত ৬০-৬৫ বছর পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। আর ৮০-১০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

উল্লেখ্য, বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির নোনা পানির কুমিরের প্রজনন বৃদ্ধি ও তা সংরক্ষণের জন্য ২০০২ সালে পূর্ব সুন্দরবনের করমজল পর্যটনকেন্দ্র বন বিভাগের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় দেশের একমাত্র সরকারি এ কুমির প্রজননকেন্দ্রটি। বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন প্রকল্পের আওতায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮ একর জায়গার উপর গড়ে তোলা হয় কেন্দ্রটি। শুরুতেই জেলেদের জালে ধরা পড়া ছোট-বড় পাঁচটি কুমির দিয়ে কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে নোনা পানির দুটি নারী কুমির জুলিয়েট-পিলপিল ও একটি পুরুষ কুমির রোমিওসহ বিভিন্ন বয়সী ২১১টি কুমির রয়েছে। এখান থেকে কুমিরগুলো ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, পটুয়াখালী বন বিভাগ ও সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালে অবমুক্ত করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ