ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 May 2017, ২৮ বৈশাখ ১৪২৩, ১৪ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

৭২ ঘণ্টার মধ্যে চাকরিচ্যুত সাংবাদিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধের দাবী

স্টাফ রিপোর্টার : দৈনিক ইনকিলাব থেকে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করতে পত্রিকাটির সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিনকে ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সভাপতি শাবান মাহমুদ। এ সময়ের মধ্যে পাওনা বুঝে না দিলে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর মতিঝিলে ইনকিলাব ভবনের সামনে গতকাল বুধবার দুপুরে ইনকিলাব থেকে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত এবং তাদের প্রাপ্ত বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনাদি পরিশোধের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশেন আয়োজন করে ডিইউজে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাবান মাহমুদ ইনকিলাব সম্পাদকের উদ্দেশে বলেন, ইনকিলাব বন্ধ করে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হোক আমরা সে জায়গায় যেতে চাই না। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চাকরিচ্যুত সাংবাদিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনাদি পরিশোধ করুন। তা না হলে আজ ইনকিলাবের সামনে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, আগামিতে প্রয়োজনে আপনার বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি দাবি মেনে না নেওয়া হলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হলে দায় আপনাকেই নিতে হবে।

ডিইউজে সভাপতি বলেন, শুধু ইনকিলাব নয়, অন্য যেসব পত্রিকায় সাংবাদিকদের অবৈধ ছাটাই করা হয়েছে, বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে না সেসব সম্পাদক, মালিকদের বিরুদ্ধেও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন কর্মসূচি দেবে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা ইনকিলাব সম্পাদককে একজন প্রতারক, ভন্ড উল্লেখ করে বলেন, আপনি হেফাজতে ইসলামকে অর্থায়ন করেন। বিদেশে টাকা পাচার করে বাড়ি ও সম্পদের পাহাড় জমিয়েছেন। দুদককে বলবো তা তদন্ত করার জন্য। দৈনিক ইনকিলাব ৯-১০ হাজার ছাপা হলেও সার্কুলার ১ লাখের উপরে দেখিয়ে সুযোগ সুবিধাদি নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে তথ্য মন্ত্রণালয় পুন:তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে তা বলতে চাই না। আমরা শুধু চাই আমাদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হোক। নইলে প্রত্যেক সাংবাদিক-কর্মচারী একটি করে আপনার বিরুদ্ধে ফৌজদারী ও প্রতারণার মামলা করবে।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার আমরা সবাই পাওনার জন্য ইনকিলাবে যাব। যদি পাওনা বুঝে না দেওয়া হয় তাহলে শনিবার নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে। দৈনিক ইনকিলাব বন্ধ করে দেওয়া হবে কি হবে না, সেদিন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মসূচি দেব।

প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ডিইউজের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরীর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য কুদ্দুস আফ্রাদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব অমিয় ঘটক পুলক, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানী, যুগ্ম সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মানিক মুনতাসির, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কাফি কামাল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জামাল, আপ্যায়ন সম্পাদক, কামাল উদ্দিন সুমন, ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়া, প্রচার সম্পাদক আক্তার হোসেন, কল্যাণ সম্পাদক উম্মুল ওয়ারা সুইটি, কার্যর্নির্বাহী সদস্য ছলিমুল্লাহ সেলিম, ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি শহিদুল হক, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, সাবেক সভাপতি আশরাফুল ইসলাম এবং ইনকিলাব থেকে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের মধ্যে শামিম খান, রবিউল্লাহ রবি, তালুকদার হারুন, আফজাল বারী, আহমদ আতিক বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ