ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 May 2017, ২৮ বৈশাখ ১৪২৩, ১৪ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার‘ভিশন২০৩০’ভালো  চোখে দেখছে না আওয়ামী লীগ 

 

# খালেদা জিয়া শেখ হাসিনাকে অনুকরণ করেছেন : তোফায়েল 

# এই ভিশন মেধাহীন অন্তসারশূন্য : ওবায়দুল কাদের 

# ভুল শুধরাতে বিএনপির একটা প্রকল্প : শাজহান খান  

# এটা রাজনৈতিক ধাপ্পাবাজি : কামরুল 

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষিত ‘ভিশন ২০৩০’ ভালো চোখে দেখছে না আওয়ামী লীগ। গতকাল বুধবার বিকেলে বেগম জিয়ার আগামী দিনের এমন রূপরেখা ঘোষণার পর থেকে বিভিন্নভাবে সমালোচনা করেছে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। এনিয়ে দলে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিক সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আইডিয়া চুরি করেছেন। অপরদিকে দলের সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার রূপকল্প ঘোষণাকে শেখ হাসিনার অনুকরণ। এতে নতুন কিছু না পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির দেশ গঠনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ভিশন ২০৩০ আওয়ামী লীগের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ভিশন ২০২১ এবং ভিশন ২০৪১ থেকে চুরি করা হয়েছে । 

তিনি  অভিযোগ করেছেন, এর অনেকগুলো আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করেছে, বাকিগুলো চলমান রয়েছে। এর পরও বিএনপি তার অজ্ঞতার কারণে এগুলোই তার ভিশন ২০৩০তে তুলে ধরেছে।

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘বেগম জিয়ার আজকের বক্তব্য তার দলের অজ্ঞতাকে নগ্নভাবে প্রকাশ করেছে। তিনি অনেক কিছু উপস্থাপন করেছেন যেগুলো ইতিমধ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং চলমান রয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার এই ভিশন ২০৩০ একটি মেধাহীন অন্তসারশূন্য, দ্বিচারিতামূলক এবং জনবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দলের অসার প্রলাপ ছাড়া কিছুই নয়। প্রকৃতপক্ষে তাদের ভিশন হচ্ছে লুটপাট, দুর্নীতি আর এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার ভিশন।’

 তোফায়েল আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়া শেখ হাসিনাকে অনুসরণ ও অনুকরণ করেছেন। তারা কর্মসূচি ঘোষণা করতেই পারেন। এর মধ্যে, নতুনত্ব কিছু দেখিনি।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ কে ধাপ্পাবাজি বলে আখ্যায়িত করেছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বিএনপি যে রাজনীতি করছে সেটা স্টান্টবাজি। তিনি (খালেদা) যে রূপকল্প ঘোষণা করবেন, সেটা এক ধরনের ধাপ্পাবাজি। এই স্টান্টবাজি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। ক্ষমতায় যাওয়ার যে স্বপ্ন দেখছেন, সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থাকবে, কোনো দিনও তা পূরণ হবে না।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিএনপির দাবি প্রত্যাখ্যান করে মন্ত্রী কামরুল বলেন, আগামী নির্বাচন যথাসময়ে হবে। সেই নির্বাচন হবে সংবিধান সম্মতভাবে, সেই নির্বাচনকালীন সরকারের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।”

বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণে আপত্তি জানিয়ে আসছে। একারণে দশম সংসদ নির্বাচনও বর্জন করেছিল তারা।

 নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, খালেদা জিয়ার পক্ষে ভুয়া ভিশন ২০৩০ কোনোভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ দেখে বেগম খালেদা জিয়া ২০৩০ নামে ভুয়া ভিশনের ঘোষণা দিয়েছেন। মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হওয়ার ফলে জনগণ বিএনপির এই ভাঁওতাবাজি বুঝে গেছে। 

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে ধারা সৃষ্টি করেছেন তার ফলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিতি পাবে।

নৌমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বিগত দিনে যে রাজনীতিতে ভুল করেছে, সে ভুল শুধরে নিতে এখন নানা প্রকল্পের কথা বলছে। তার এসব কথা দেশের মানুষ এখন আর বিশ্বাস করে না।

বিএনপি’র সামনে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ ছাড়া কোন বিকল্প পথ খোলা নেই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে আসতেই হবে। পানি ছাড়া যেমন মাছ বাঁচতে পারে না, তেমনি নির্বাচন ছাড়াও রাজনৈতিক দল বাঁচতে পারে না। তাই বিএনপির সামনে নির্বাচনে অংশ নেয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ