ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 May 2017, ২৮ বৈশাখ ১৪২৩, ১৪ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তেরখাদার অধিকাংশ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা থাকেন না কর্মস্থলে

খুলনা অফিস : খুলনার তেরখাদা উপজেলার ৩০টি সরকারি দপ্তরের অধিকাংশ কর্মকর্তারা কর্মস্থলে অবস্থান না করার কারণে সেবা প্রত্যাশীরা সেবা থেকে দিনের পর দিন বঞ্চিত হচ্ছে। সরকার কর্তৃক নির্দেশিত অফিস আওয়ারের প্রতি বৃদ্ধাংগুলি প্রদর্শন করে এদের অধিকাংশ কর্মকর্তাই খুলনাসহ অন্যান্য স্থানে অবস্থান করেন। দায়সারা গোছে তারা অফিস চালাচ্ছেন এমন অভিযোগ সেবা প্রত্যাশীদের। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তেরখাদা উপজেলায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধিন ৩০টি জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রয়েছে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক জনসাধারণ উক্ত দপ্তরগুলি থেকে সেবা গ্রহণ করে থাকেন। এর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি), প্রাণি সম্পদ, মৎস্য, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কৃষি, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সমাজ সেবা, যুব উন্নয়ন, পিআইও, বিআরডিবি, মহিলা বিষয়ক, হিসাব রক্ষক, সাব রেজিস্ট্রি, প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা, প্রকৌশলী, আনসার ভিডিপি, একটি বাড়ি একটি খামার, সামাজিক বনায়ন, পরিসংখ্যান, ইউআরসি, খাদ্য নিয়ন্ত্রক, নির্বাচন, দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন ও সমবায় দপ্তর অন্যতম। আবার অনেক দপ্তরের মধ্যে রয়েছে একের অধিক কর্মকর্তা। এগুলোর মধ্য কৃষি, ভূমি, প্রাণি, প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য দপ্তর উল্লেখযোগ্য। যাদের অনেকেই প্রথম শ্রেণীর পদবীর মর্যাদা ভোগ করে থাকেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোটা উপজেলায় ৩০টি দপ্তরের মধ্যে একমাত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সফিকুল ইসলাম চৌধুরী, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম রফিকুজ্জামান, উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হাসান, নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুর রহমান ছাড়া বাকিরা খুলনাসহ অন্যান্য জায়গা থেকে এসে অফিস করেন। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অফিসে থাকার প্রবিধান থাকলেও প্রায় অধিকাংশ কর্মকর্তা আসেন সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে। আবার আবাসস্থলে ফিরে যান বিকেল ৪টার মধ্যেই।  অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ঐ সকল কর্মকর্তাদের কারো কারো ছেলে মেয়ে খুলনার বিভিন্ন স্কুলে কিংবা ব্যাচে পৌঁছে দিতেই অফিসে পৌঁছাতে এই অহেতুক বিলম্ব। ফলে দিনের পর দিন বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত উপজেলার সাধারণ মানুষ সেবা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আবাসিক এলাকার মধ্যে বসবাসযোগ্য কোন কোয়ার্টার না থাকার কারনে তাদেরকে কষ্ট করে খুলনা থেকে যাওয়া আসা করে অফিস করতে হচ্ছে। আবার আবাসিক ভবনসমূহ নতুন করে নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, চিঠিও দেয়া হয়েছে। দ্রুতই উপজেলার আবাসিক ভবনগুলো নির্মাণ হবে। তবে সরকার নির্ধারিত অফিস টাইম তাদেরকে অবশ্যই মানতে হবে। যদি কেউ না মেনে থাকেন, সে ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ