ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 May 2017, ২৮ বৈশাখ ১৪২৩, ১৪ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আসামীরা শিগগিরই গ্রেফতার হবে

স্টাফ রিপোর্টার : অভিযুক্তরা ধরা পড়লেই বনানীতে দুই তরুণী ধর্ষণের প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল । গতকাল বুধবার দুপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের নামে এজাহার হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদেরকে ধরার প্রচেষ্টা চলছে আমাদের পুলিশের।তদন্তের পরে  কারা এখানে দোষী ছিলো, কারা এখানে কি পরিমাণ অন্যায় করেছে সেগুলির চার্জশিট সেভাবেই হবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, যেই অপরাধী হোক না কেন তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’ তিনি বলেন , দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামীদের শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে । আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা দিতে বাহ্যিক কোনও শক্তি কাজ করছে না। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। তবে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না বলে আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক ঘৃণ্য অপরাধীদের গ্রেফতার করেছি। এমনকি অনেক জঙ্গিকেও আমরা গ্রেফতার করেছি। একইভাবে এই ধর্ষণের মামলার আসামীরাও গ্রেফতার হবে।’

এই মামলাকে প্রভাবিত করতে কোনও মহল কাজ করছে কিনা, সে প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘ কোনও বাহ্যিক শক্তি এখানে কাজ করছে না। এ ধরনের ঘটনাকে প্রভাবিত করার মতো ক্ষমতা কারও নেই। পুলিশ কারও নির্দেশে প্রভাবিত হবে না। এই দেশে ক্ষমতা ও প্রভাব দেখানোর মতো কেবল একজনই রয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

 বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই শিক্ষার্থীদের জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। ওইদিনই তারা ওই ছাত্রীদের বনানীর কে-ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে দ্য রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে যায়। মামলার এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয় , সেখানে জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলাকালীন দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে মামলার সাফাত ও নাঈম।

ধর্ষণের শিকার তরুণীদের বক্তব্য, আসামীদের পরিচয় ও অবস্থানের সব তথ্যই পুলিশ জানে। কিন্তু আসামীদের পরিবার অনেক প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ। মামলার আসামীদের মধ্যে একজন সাফাত, সে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিদার আহমেদের ছেলে। অন্য এক আসামী নাঈম ই-মেকার্স বাংলাদেশ নামের একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাদের আরেক বন্ধু ও মামলার তৃতীয় আসামী  সাদমান সাকিফ রেংগুম গ্রুপের একজন পরিচালক। মামলার অন্য দুই আসামী হলো সাফাতের গাড়ির চালক বিল্লাল ও সাফাতের বডিগার্ড (অজ্ঞাত)।

এদিকে, ওই ধর্ষণের ঘটনায় আইজিপি একেএম শহীদুল হক গুলশান জোনের ডিসি এবং বনানী থানা ওসি তদন্তকে ডেকে নিয়ে আসামীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন। 

পুলিশ সদর দফতরে আইজিপি একেএম শহীদুল হক গুলশান জোনের ডিসি মোসতাক আহমেদ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত আবদুল মতিনকে তলব করেন। আইজিপি মামলার বিবিরণ সম্পর্কে বিস্তারিত শোনার পর গুলশান জোনের ডিসিকে বলেন, আলোচনা- সমালোচনা নিয়ে মাথা ব্যাথার দরকার নেই। আগে কাজটা কর। যে কোনো মূল্যে অবিলম্বে আসামীদের গ্রেফতার করে আমাকে জানাও।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ