ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 May 2017, ২৮ বৈশাখ ১৪২৩, ১৪ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এফবিআই প্রধানকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

 

সংগ্রাম ডেস্ক : ভোটের আগে হিলারি ক্লিনটনের ইমেইল কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্তকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের প্রধান জেমস কোমিকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিবিসি জানিয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসের সুপারিশের ভিত্তিতেই প্রসিডেন্ট ট্রাম্প এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে হোয়াইট হাউজের ভাষ্য।

তবে ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগ নিয়ে তদন্ত করছিলেন বলেই জেমস কোমিকে বরখাস্ত হতে হল।

গত সপ্তাহে কংগ্রেসের শুনানিতে হিলারির ইমেইল নিয়ে কোমি পুরোপুরি সঠিক তথ্য দেননি- এমন তথ্য বেরিয়ে আসার পর হোয়াইট হাউজের এই পদক্ষেপ এল।

কোমিকে লেখা এক চিঠিতে ট্রাম্প বলেছেন, “অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আমিও একমত যে আপনি আর এফবিআইয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার উপযুক্ত নন।”

জেফ সেশনস বলেছেন, ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস সর্বোচ্চ পর্যায়ের শৃঙ্খলা, সততা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এ কারণেই ওই পদে নতুন মুখ প্রয়োজন।

সেই নতুন মুখের খোঁজে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে বলে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে।

মঙ্গলবার কোমি যখন লস অ্যাঞ্জেলেসে এফবিআই এজেন্টদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন, তখন একজন এসে তার হাতে একটি নোট ধরিয়ে দিয়ে যান। সেখানেই জানানো হয়, তার আর চাকরি নেই।

বিবিসি লিখেছে, ওই নোট পড়ে ৫৬ বছর বয়সী কোনি হেসে ওঠেন, প্রথমে তিনি ওই চিরকুটকে রসিকতা ভেবেছিলেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, জেমস কোমি এফবিআইয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে।

এফবিআই প্রধানরা সাধারণত ১০ বছরের জন্য দায়িত্ব পান। সেই হিসেবে তার মেয়াদ পূর্ণ হতে আরও ছয় বছর বাকি ছিল।

কোমিকে এমন আকস্মীকভাবে বরখাস্ত করায় বিস্মিত হয়েছেন অনেকেই। বিশেষ করে হিলারির ইমেইল তদন্তের বিষয়টি নিয়ে তাকে বরখাস্ত করার যুক্তি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর ঠেকেছে। কারণ, ট্রাম্পই তার নির্বাচনী প্রচারের শেষদিনগুলোতে কোমির ইমেইল তদন্তের বিষয়টি নিয়ে প্রশংসা করেছিলেন।

কিন্তু মঙ্গলবার মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রড রোসেনস্টেইন বলেন, কোমি তদন্তের শেষ দিকে এসে যা করেছেন সেটি তিনি সমর্থন করেন না। কোমি যে ভুল করেছেন সে ব্যাপারে প্রায় সবাই একমত পোষণ করবে বলে জানান রোসেনস্টেইন।

বিচারপ্রক্রিয়া ছাড়াই তদন্ত বন্ধ করার কথা বলে এবং হিলারি সম্পর্কে অযথাই ‘মর্যাদাহানিকর তথ্য’ দিয়ে কোমি ভুলের পাল্লা ভারি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ