ঢাকা, শনিবার 13 May 2017, ৩০ বৈশাখ ১৪২৩, ১৬ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ধানের ফলন কম হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি নেই

 

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারায় মওসুমের বোর ধান কাটা-মাড়ায় কৃষকরা ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। মাঠের পর মাঠ জুড়ে এখন বোর ধান  কাটার দৃশ্য। কৃষকরা চাষের শুরুতে বিদ্যুত সংকট, প্রচন্ড খরার কবলে পড়লেও পরবর্তীতে অনুকূল আবহওয়ায় বোরো আবাদ ভাল হলেও ধানের ব্লাস্টার রোগ, অসময়ে বৃষ্টি ও দু’ দফা  ঝড়ে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিতে কৃষকের মুখে হাসি নেই। সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধিতে ধানে উৎপাদন খরচ জুটছে না। এতসব মিলে এলাকার কৃষকরা চরম হতাশায় ভুগছেন।   

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১৯ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে বোর ধান চাষ করা হয়েছে। গত মওসুমে বোরো ও আউস ধানের ফলন বিপর্যয়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবারে এলাকায় অনেক বেশী জমিতে বোর  আবাদ করা হয়েছে। তবে অসময়ে অতিরিক্ত বর্ষণে নি¤œাঞ্চলের কিছু আধা-পাকা ধান তলিয়ে কৃষকরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে ছিল। সব কাটিয়ে এখন পুরোদমে ধান কাটা-মাড়ায় কৃষকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বালানগর, দেউলিয়া, শ্যামপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর বীজ সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধানের চাষ এবারের চেয়ে প্রায় অর্ধেক উৎপাদন হয়েছিল। এবারে কৃষকরা পুষিয়ে নিতে গত বছরের থেকে বেশী ধান চাষ ও উৎপাদনে তারা ঝুঁকে ছিলেন। কিন্তু অনুকূল আবহওয়ায় বোরো আবাদ ভাল হলেও অসময়ে বৃষ্টি, দু’ দফা  ঝড় ও ব্লাস্টা রোগে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিতে পড়ে। গ্রামের কৃষক আক্কাছ আলী জানান, ৪ বিঘা জমিতে এবারে বোরো ধান চাষ করা হয়। ইতোমধ্যে ১০ কাঠা জমির আগাম স্থানীয় বি-২৮ জাতের ধান কাটা হয়েছে। ধানের ফলন কম। একই ভাবে মোহম্মাদপুর গ্রামের জালাল উ্িদ্দন জানান, জমির ধান বেশী ভাগ পেকে গেছে, ধানের ফলন গত কয়েক বছর থেকে খুবই কম। যতটুকু আবাদ হয়েছে তাতে আবার ন্যায্য মূল্য পাবার সঙ্কায় রয়েছেন তিনি। সব জিনিসের দাম বেশী হবার কারণে শ্রমিকের দামও বেড়ে গেছে। ফলে ধানের ন্যায্য মূল্য না পেলে পুষাবেনা। গোপালপুর  গ্রামের কৃষক ফিরোজ উদ্দিন জানান, ১ বিঘা জমিতে এবারে বোরো ধান চাষ করতে ১২/১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে বাজারে ৭৫০/৮০০ টাকা দামে ধান বিক্রি চলছে। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধিতে ধান চাষে বিঘা প্রতি ২ হাজর থেকে ৩ হাজার টাকা লোকশান গুনতে হচ্ছে। একই ভাবে নন্দনপুর গ্রামের কৃষক আশরাফুল হোসেন, দেউলিয়া গ্রামের কৃষক মুকবুল হোসেন, শ্যামপুর গ্রামের কছির উদ্দিন জানান, গত বছরে তুলনায় বেশী লাভের আসায় এবারে ধান চাষে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্তে রয়েছেন তারা। প্রতি বিঘা ধান চাষে  ২ থেকে ৩ হাজার টাকা লোকশান গুণতে হচ্ছে। সরকার কৃষি উপকরণের দাম না কমিয়ে দফায় দফায় বাড়িয়ে বেকায়দায় ফেলছে কৃষকদের। সব জিনিসের মূল্য বেশী সেই তুলনায় ধানের দাম বাড়ছে না। অসাধু কিছু চাতাল ব্যবসায়ী চালের মূল্য সেন্ডিকেটে বাড়িয়ে দিলেও প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছে। মোহাম্মাদপুর গ্রামের কৃষক, আঃ রহমান, জেহের আলী, বাদল হোসেনসহ অনেকে জানান, ধান চাষে অতিরিক্ত খরচ বেড়েছে। এছাড়া শ্রমিক সংকটে বেকায়দা কৃষকরা। একজন শ্রমিক দিনে মজুরি ৫শত টাকা নিচ্ছে। এতে দিনে একজন শ্রমিক দু’ মন ধান কাটছে। উপকরণ ও শ্রমিক খরচে কোন লাভ মিলছে না। এছাড়া অসময়ে বৃষ্টি ও দু’ দফা  ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিতে লাভ তো দুরের কথা মুলধন সংকটটে রয়েছেন বলে জানান তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ