ঢাকা, শনিবার 13 May 2017, ৩০ বৈশাখ ১৪২৩, ১৬ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মাদক আর অসামাজিক কার্যকলাপের স্বর্গরাজ্য এখন সৈয়দপুর

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা : নীলফামারীর সৈয়দপুরে অলিগলিতে চলছে মাদকের কেনাবেচা। আবাসিক হোটেল এবং বাসা বাড়িতে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা। মাঝে মধ্যে পুলিশের তৎপরতা কিছুটা দেখা গেলেও তাদের কার্যক্রমে সন্তষ্ট হতে পারেছেন না নগরবাসী।

শহরের ২০টিরও বেশি স্পটে মাদক কেনাবেচা এবং আবাসিক হোটেলগুলোতে দেহব্যবসা চললেও পুলিশ প্রশাসন মাঝে মধ্যে খদ্দেরসহ পতিতা, সামান্য গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা জব্দ করলেও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারছেন না। 

সূত্র জানায়, প্রভাবশালী কয়েকজন মাদক সম্রাট পর্দার আড়ালে হুকুমদারি করলেও তাদের সহযোগীরা অসাধু কিছু পুলিশসহ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজনের সহযোগিতায় মাদক ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে মদ ব্যবসায়ী রাজু সরদার, হাতিখানার হেরোইন ও ইয়াবা ব্যবসায়ী ইসমাইল ও বদি, নিচু কলোনির ইউসুফ পকেটমার, মুন্সিপাড়ার জাসদ অফিস সংলগ্ন ইয়াবা ব্যবসায়ী ইমতিয়াজ, রেললাইন সংলগ্ন মদ ব্যবসায়ী ভলু, ইসলামবাগ এলাকার হেরোইন ব্যবসায়ী জহুরা, জাবেদ, আমেনা ও সেলিম, বাঙালিপুর নিজপাড়া এলাকার মদ ব্যবসায়ী মোখলেছ, বোতলাগাড়ীর মোন্নাফসহ হাতিখানা মহুয়া রেললাইন সংলগ্ন হেরোইন ব্যবসায়ী মালেক।

চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের নিযুক্ত করা বিক্রেতারা প্রতিদিন শহরের হাতিখানা কবরস্থান, রেললাইন এলাকা, রেলস্টেশন, রসুলপুর, গোলাহাট, মিস্ত্রিপাড়া, মুন্সিপাড়া জোড়াপুকুর, পুরাতন বাবুপাড়া, অফিসার্স কলোনি ডাক বাংলা সংলগ্ন, শহীদ স্মৃতি এলাকাসহ বাস টার্মিনাল ও আদানী মোড় এলাকায় ও গ্রামেগঞ্জে মাদক বিক্রি করছে।

মাদক পল্লী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে শহরের হাতিখানা, মুন্সিপাড়া, রসুলপুর, মিস্ত্রীপাড়া ও ইসলামবাগ এলাকা। এসব এলাকায় প্রতিদিন মাদক কেনা বেচার হাট বসছে। পুলিশ প্রশাসন মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিলেও সৈয়দপুর থানা পুলিশ বখরা আদায়ে থাকছে ব্যস্ত। মাঝে মধ্যে নীলফামারী র‌্যাব-১৩ অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের মাদকের বড় চালানসহ ব্যবসায়ীদের আটক করে থাকলেও পুলিশের কৌশলগত চার্জশিটের বদৌলতে তারা অল্প দিনে বেরিয়ে আসছে।

শহরের ক’টি আবাসিক হোটেল ও বিভিন্ন কার্যালয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত লাখ লাখ টাকার জুয়ার আসর বসাচ্ছেন বাদশা নামের এক ব্যক্তি। ওই ব্যক্তি প্রতিদিন ১২ ঘণ্টায় থানা পুলিশকে ১২ হাজার টাকারও বেশি উৎকাচ দিয়ে জুয়ার আসর পরিচালনা করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, জুয়া ও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের সখ্যের অভিযোগটি সত্য নয়। অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে অভিযান চলছে। পুলিশ যেভাবে চাইবে সেভাবেই মাদক নির্মূল অভিযান চালানো হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ