ঢাকা, সোমবার 15 May 2017, ০১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৩, ১৮ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

লঞ্চযাত্রীদের শতর্কতা অবলম্বন করা প্রসঙ্গে

এম এ হক : ২০১৭ সালের ২রা মে রাত ২:৪৫ টায় দোয়ারিকা ব্রিজের থামের সাথে ফারহান-৯ লঞ্চে আঘাত লেগে লঞ্চের সামনের অংশ ৪-৫ ফিট ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা টু হুলারহাটের উদ্দেশ্যে যাবে ফারহান-৯ লঞ্চ। ২রা মে বিকাল তিনটায় ঢাকার থেকে নাড়ীর টানে ঢাকা টু হুলারহাট গামী ফারহান-৯ লঞ্চে রওয়ানা হয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাই। ২০১৭ সালে দু’ছেলে ইন্টারমিডিয়েট ফাইনাল পরীক্ষার্থী। তাদের ২টি পরীক্ষা বাকী থাকতেই মেঝ ছেলে, ১ মেয়েসহ আমরা রওয়ানা হয়ে যাই। কিছুক্ষণের মধ্যে যাত্রী উঠে লঞ্চ ভরে যায়। লঞ্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ছাড়বে বলে জানান। ৬.১৫ মিনিটের পরে লঞ্চ ছাড়ে। আমরা লঞ্চের ডেগে বিছানা করে বসি ও যে যার অবস্থানে থেকে বসতে থাকি। শুনতে পারলাম লঞ্চটির মালিক  গোলাম কিবরিয়া টিপু ভাই। তিনি কয়েকবার জাতীয় পার্টি থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন বলে মনে পড়ে। তার সাথে ২/৩ বার নয়াপল্টন অফিসে দেখা করি। কিন্তু কোন কাজের জন্য নয়, এমনিতেই যোগাযোগ করতে ভাল লাগত।
আমরা প্রায় সময়ই লঞ্চের মাঝামাঝির দিকে বসি। ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয় লঞ্চে। কেউ ঘুমায়, কেউ গালগল্প করে এবং কেউ কেউ তাসও খেলে। কিন্তু ঐ দিন আমাদের চোখে মোটেও ঘুম আসছিল না। আমি মুন্সিগঞ্জ ও চাঁদপুর ছেড়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে হুলারহাটের নদীতে (সন্ধ্যা নদী) ঢুকতেই ঘড়িতে ২টার মত বাজে। আমি একটু ঘুম ঘুমভাব নিয়ে শুয়ে পড়ি এবং আমার স্ত্রী, মেঝ ছেলে ও ছোট মেয়েটি ঘুমিয়ে যায় আগেই। আমি লঞ্চে কাত হয়ে শুয়ে টিভির দিকে তাকিয়ে ঘুমঘুম ভাব নিয়ে বসি। হঠাৎ করে আমি একটু সামান্য গভীর ঘুমে পড়ে যাই। এমন সময় হঠাৎ করে ধাক্কা খেলো দোয়ারিকার ব্রিজের থামের সাথে আমাদের লঞ্চের। সাথে সাথে লঞ্চের মাথায় আঘাত খেয়ে থাম লঞ্চের আগা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে পড়ে ও ঝড় ঝড় শব্দ হতে থাকে লঞ্চের মধ্যে এবং লঞ্চের যাত্রীরা সবাই চিলাøপাল্লা করে দাঁড়িয়ে উঠতে থাকে ও লঞ্চ স্টাফরা তাদের থামাতে থাকেন। আমিও ঘুমঘুমভাব থেকে উঠে দেখি সবাই কান্নাকাটি করছে। লঞ্চের নীচতলায় বা ডেকে যারা ছিল তাদের কেউর মাথা কেটে গেছে, কেউ মাথায় আঘাত পেয়ে মাথায় কেটে যায় এবং রক্তে ধরিসন হয়ে যায় অনেকের, দেখে কিংকর্তব্য বিমুঢ় হয়ে পড়ি। কোন উপায় না দেখে আমিসহ কয়েকজন লোক নিয়ে সুকানি ও মাস্টারকে খুঁজতে যাই। তারা হেলপারের কাছে সুকানির দায়িত্ব দিয়ে দূরে সড়ে পরে। জিজ্ঞাসা করলাম কিভাবে লঞ্চে আঘাত লাগলো? একেক জন একেক রকম জবাব দিল। তারা বলেছেন, আমরা সবাই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম, আবার অন্য কয়েকজন বলেছেন, হেডলাইট বন্ধ করে দিয়ে সবাই নাকি মদ ও গাজা খাওয়ার ধান্ধায় থাকতেই এ ঘটনা ঘটে। তাই লঞ্চ চালু অবস্থায় নেশার জগতে যাবে মাস্টার, সুকানি ও কেরাণিরা তা ভাবাই যায় না। এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন বিহীত ব্যবস্থা করবেন কি?
দুর্ঘটনার স্থান : বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার দোয়ারিয়া ব্রিজের থামের সাথে ফারহান ৯ (ঢাকা টু হুলারহাট গামী) লঞ্চটি আঘাত করে তখন সময় রাত ২.৪৫ মিনিট। তাতে লঞ্চের সামনের অংশ ভেঙ্গে ৪/৫ ফিট ভিতরে ঢুকে যায়। যাত্রীর সংখ্যা অনুমান ৪/৫ শত। ডেকে লোকের সংখ্যা প্রায় ২ থেকে আড়াইশ এবং ১০/১২ জন লোকের মাথা কাটে, কপাল ফাটে এবং পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত খায়। লঞ্চে নেই ডাক্তার, নেই কোন  চিকিৎসার ব্যবস্থা, যার যার মতে গামছা বা কাপড় জড়িয়ে রাখে। লঞ্চ শিকারপুর লঞ্চ ঘাটে থামিয়ে যাত্রী উঠিয়ে দেয়। শিকারপুর থাকতেই আমি সাথে সাথে উজিরপুর ওসি সাহেবকে খবর দেই ও দ্রুত তিনি পুলিশ পাঠান এবং শিকারপুর থেকে সাথে সাথে লঞ্চ ছেড়ে দেয় এবং আমি ওসিকে খবর দিলে লঞ্চ সুকানি ও স্টাফ লঞ্চ দ্রুত ছেড়ে দিয়ে চৌধুরীরহাটে ঘাট দিয়ে রাজদূত লঞ্চে সব যাত্রী উঠিয়ে দেয়। চৌধুরীরহাট গিয়ে লঞ্চ থামিয়ে লোক নামিয়ে দেয় ও হাট বাজারের দোকানীদের লাখ লাখ টাকার মালসামানা না নামিয়ে চলে আসে রাতেই ঢাকাতে। ওসি সাহেবকে আমি আবারও রিং দিলে তিনি বলেন, লঞ্চ বানারীপাড়া গেলেই আটক করবে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ লঞ্চ নিয়ে চলে আসে ঢাকার উদ্দেশ্যে। উল্লেখ্য যে, লঞ্চের যাত্রীদের মধ্যে যারা দাঁড়ানো ছিল তারাই বেশী আহত হয়েছেন এবং যারা ঘুমিয়ে ছিল তারা কেউ আহত হয়নি।
২০১৬ সালের ঘূর্ণিঝড়ে পড়ে ফতুল্লা থানার অপজিটে : গত ২০১৬ সালের ১লা মে বিকেল ৩.০০ টায় নাড়ীর টানে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়ে যাই। ৬ সন্তানের জনক ও জননী। বড় ও ছোট ছেলেকে রেখে মেঝ, সেঝ ও ছোট মেয়েকে নিয়ে রওয়ানা হলাম ঢাকা থেকে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পয়সারহাটের উদ্দেশ্যে। বাবা-মা কেহই নেই। তার পরেও যেতে হয় বাড়িতে। আমরা সন্ধ্যা পৌনে ৬ টার দিকে ঢাকা টু পয়সার লঞ্চে আরহন করি।  [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ