ঢাকা, মঙ্গলবার 16 May 2017, ০২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ১৯ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যোগীর আগে আগে যাচ্ছে এসি কার্পেট সোফা

১৫ মে, ইন্টারনেট : সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে এক অদ্ভুত দেশপ্রেম আর জাতীয়তাবাদের জিগির তোলার চেষ্টা হচ্ছে। স্বচ্ছ ভারত অভিযান থেকে বেটি বাঁচাও-বেটি পড়াও, উন্নয়নের সব শ্লোগান বা প্রকল্পের প্রচারে স্পর্শ থাকছে জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেমের। আর সুযোগ পেলেই দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে লম্বা চওড়া ভাষণ দিয়ে দিচ্ছেন বিজেপি নেতারা।
সিয়াচেন থেকে কাশ্মীর রাজনীতির স্বার্থে ভারতীয় জওয়ানদের আত্মত্যাগকেও হাতিয়ার করতে ছাড়েন না। অথচ শহিদ পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানাতে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর আগে আগে যাচ্ছে এয়ারকন্ডিশন মেশিন, কার্পেট, সোফা। আর মুখ্যমন্ত্রী চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গে ফেরত চলে যাচ্ছে সেইসব আরামদায়ক সামগ্রী। কার্যত শহীদ জওয়ানের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে গিয়ে মানবিকতাকেই বিসর্জন দিচ্ছেন ওই সব নেতা মন্ত্রীরা।
রোববার এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। যে রাজ্যে গত এপ্রিল মাসেই বিপুল সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। গত ১ মে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে কাশ্মীরে ঢুকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হেড কনস্টেবল প্রেম সাগরের শিরচ্ছেদ করে পাকিস্তানের ব্যাট বাহিনী।
প্রেম সাগর উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ার বাসিন্দা ছিলেন। শহিদ প্রেমসাগরের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার আগে তাঁর পরিবার পরিজন ২৪ঘন্টা অপেক্ষা করে দাবি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে আসতে হবে দেওরিয়াতে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ফোনে শহীদের পরিবারকে আশ্বাস দেন খুব শীঘ্রই দেওরিয়া যাবেন তিনি। এই আশ্বাস পাওয়ার পরেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করে শহীদের পরিবার।
রোববার শহীদ পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর পরিবারকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই যাত্রা নিয়েই বিতর্ক শুরু হয়েছে। অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শহীদ পরিবারের লোকজনও। প্রেম সাগরের ছেলে ঈশ্বর জানিয়েছেন, ‘সমবেদনা জানাতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তিনি এসে বাড়িতে পা রাখার দু’দিন আগে থেকেই আমাদের অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতারা। আমাদের চার কামরার বাড়িতে এসে মুখ্যমন্ত্রীর আরামে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য দু’দিন আগে থেকে এসি, কার্পেট, সোফা এমনকি নতুন তোয়ালের ব্যবস্থা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন যাতে বিদ্যুৎ পরিসেবায় ব্যাঘাত না ঘটে তারও ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সব খুলে নিয়ে যাওয়া হয়।’
বাবার শেষকৃত্য ঘিরেও রাজ্য বিজেপি রাজনীতি করতে কসুর করেনি বলে অভিযোগ ঈশ্বরবাবুর। তার দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ফোনে তাদের সঙ্গে কথা না বলা পর্যন্ত শহীদ জওয়ানের শেষকৃত্য আটকে রেখেছিলেন স্থানীয় নেতারা। শহীদ পরিবারের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীকে সমবেদনা জানানোর কথা যাতে ভালোভাবে চাউর হয়, শেষকৃত্য দেখতে যাতে যথেষ্ট সংখ্যক লোক জড়ো হয়, সেজন্যই নাকি এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রেম সাগরের ভাই দয়াশঙ্করও একসময় সীমান্তরক্ষীবাহিনীতে ছিলেন। রাজ্য প্রশাসনের এমন আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনিও। প্রশ্ন করেছেন, ‘প্রচার তো হতোই। দু’দিনও কী তর সইছিল না সরকারের!’ তিনি বলেছেন ,‘যা হলো এটা আমাদের পরিবারের জন্য অপমানজনক।’
গত ১ মে কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে ২২তম শিখ রেজিমেন্টের নায়েব সুবেদার পরমজিত সিং এবং প্রেম সাগরের শিরচ্ছেদ করে পাকিস্তানি সেনার ব্যাট বাহিনী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ