ঢাকা, মঙ্গলবার 16 May 2017, ০২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ১৯ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নতুন রেশম পথ

গত পরশু চীনের রাজধানীতে ‘গ্রেট হল অব পিপুল’এ ‘বেল্ট এন্ড রোড ফরাম ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন’ সম্মেলনের উদ্বোধন হয়ে গেল। এই সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহসহ ২৯টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেন। এছাড়া একশ’র বেশি দেশের প্রতিনিধি এ সম্মেলনে যোগ দেন। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ব্যতিক্রম হিসাবে একমাত্র ভারতই এ সম্মেলনে যোগদান করেনি। বাংলাদেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান সম্মেলনে যোগদান করতে না পারলেও বাংলাদেশ থেকে উপযুক্ত প্রতিনিধি যোগদান করে। চীনের ‘এক অঞ্চল এক পথ’ শীর্ষক উদ্যোগের একটি প্রকল্প চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিসি) পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে গেছে বলে এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছে ভারত। এ বিরোধিতা করতে গিয়ে ভারত কার্যত একঘরে হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
চীনের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে একটা নতুন সহযোগিতার দিগন্ত উন্মোচিত হলো। সম্মেলনের উদ্বোধন করতে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ‘এক অঞ্চল এক পথ’ উদ্যোগে অতিরিক্ত ১২,৪০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত ও ইউরোপ পর্যন্ত বন্দর সড়ক রেলপথ পুনর্নিমাণ এবং শিল্পপার্ক তৈরির মাধ্যমে আফ্রিকা এশিয়া আর ইউরোপের সঙ্গে নিজের দেশকে সংযুক্ত করার উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে ‘শতাব্দীর পরিকল্পনা’ হিসাবে অভিহিত করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট। বলা হচ্ছে এই প্রকল্প বিশ্ব বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতিতে চীনের বিদ্যমান শক্তিশালী অবস্থানকে আরো দৃঢ় করবে।
তবে পুরনো রেশম পথের দৃষ্টান্ত সামনে রেখে নতুন রেশম পথের এ উদ্যোগে শুধু চীনই নয় সংশ্লিষ্ট সব দেশই উপকৃত হবে এবং তাদের পারস্পরিক বাণিজ্য ও উন্নয়নকে সাহায্য করবে। চীনের প্রেসিডেন্ট নতুন রেশম পথের এ অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ যাতে পূরনো বৈরিতা ও ক্ষমতার লড়াইতে পণবন্দী হয়ে না পড়ে সে আহ্বান জানিয়েছেন। আমরা মনে করি, এই উদ্যোগের প্রধান শত্রুই হলো পুরানো বৈরিতা এবং ক্ষমতার লড়াই। সংশ্লিষ্ট সকলের মত আমরাও চাই এশিয়া আফ্রিকা ইউরোপের নতুন রেশম পথের এ উদ্যোগ সকল বৈরিতাকে পেছনে ফেলে সকলের সহযোগিতাই সাফল্যমন্ডিত হক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ