ঢাকা, মঙ্গলবার 16 May 2017, ০২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ১৯ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কলারোয়ায় বিষাক্ত ইথিপ্লাস এসএল-৪৮ দিয়ে অপরিপক্ক আম পাকানো হচ্ছে

কলারোয়ায় বিষাক্ত ইথিপ্লাস এসএল-৪৮ দিয়ে অপরিপক্ব আম কারেন্ট করে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে আম বাগানে ছড়িয়ে পড়ছে সুবাস। আম অত্যন্ত প্রিয় একটি ফল এবং এটি একটি অর্থকরী ও লাভজনক ফসল। সারাদেশের পুষ্টিমান সুস্বাদু ফল ও বাণিজ্যিক ভাবে কৃষির কাতারে পৌঁছে অর্থকরী সম্পদে পরিণত হয়েছে এ ফলটি। আম আমাদের জাতীয় ফল না হলেও ফলের রাজা হিসেবে অত্যন্ত সু-পরিচিত। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় নির্ধারিত সময়ের আগেই অপরিপক্ক আম গাছ থেকে তুলে নানারকম বিষাক্ত রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগ করে অসময়ে আম পাকিয়ে বাজারজাত করে অধিক মুনাফা লুফে নিচ্ছে। ব্যবসায়ীদের এসব পদ্ধতি যেমন বিপদজনক তেমনি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
ক্রেতা সাধারণ নিঃসংশয়ে বাহারী রঙের আম বাজার থেকে কিনে খাচ্ছে। এসব আম খেয়ে জনস্বাস্থ্য কি পরিমাণ হুমকিতে পড়ছে তা কখনো কেউ ভাবেনি। প্রাকৃতিকভাবে পাকার পরেই আম খেতে হয়। তা কী আমাদের দেশে একজনও মানে? গতকাল সোমবার সকালে সরেজমিনে কলারোয়া উপজেলার বেলতলা বাজারে গিয়ে দেখা যায় অসাধু ব্যবসায়ীরা এ কাজে নিয়োগকৃত অভিজ্ঞ শ্রমিক দিয়ে বিষাক্ত রাসায়নিক ইথিপ্লাস এসএল-৪৮ অপরিপক্ক ল্যাঙড়া আমে স্প্রে করছেন।
এসময় তার সাথে কথা হলে তারা জানালেন সব ব্যবসায়ীরা সময়ের আগেই অপরিপক্ক আমে বিভিন্ন রকম বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগের মাধ্যমে পাকিয়ে বাজারজাত করছেন। এছাড়া ওই বাজারে ৫১টি পাইকারী আম ব্যবসায়ীর দোকান রয়েছে। তারা দৈনিক বেলতলা বাজার থেকে ২০/২৫ ট্রাক আম ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে থাকে। তাদের কোন  আম কাঁচা নয়। সকালের কাঁচা আম বিকালে পাকা হয়। একই সাথে রাতে শত শত নছিমন যোগে ভারত থেকে আম আসছে। ভারতে প্রতিকেজি আম ৩০টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে কলারোয়া বাজারে বিষাক্ত রাসায়নিক ইথিপ্লাস এস.এল ৪৮ দিয়ে পাকানো আম ৭০ টাকায় বিক্রিয় হচ্ছে। এই আম খাবেন আর বিষ খাবেন একই কথা।  বাগুড়ি-বেলতলা আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহাজান কবির ও সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন বলেন, তাদের সমিতির মধ্যে ৫১টি আড়ৎ রয়েছে। বর্তমানে হিমসাগর আম-২৮শ’, গোবিন্দ ভোগ-২৪শ’ গোপাল ভোগ-১৬শ, সরি খাস-১৬শ’, গোলাপ খাস-১৫শ’ আটির আম-৮/৯শ’ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে গোবিন্দ ভোগ, সরি খাস, গোলাপ খাস আমে একটু রং চড়েছে। বাকী আমগুলো পাকতে আরো মাসখানেক সময় লাগবে।
এই আড়ৎ গুলোতে ব্যবসায়ীরা অসময়ে আম পেড়ে একই কায়দার বিশাক্ত স্প্রে করে রঙ চড়িয়ে রাজধানী শহরের আড়তে প্রতিনিয়ত বিক্রয় করছে। এদিকে একটি সূত্রে অভিযোগ করা হয় বিজিবি সদস্যদের সাথে নছিমন চুক্তিতে ভারত থেকে আম আনা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় বলেন, পরিপক্ক হবার আগে আম পাড়া সম্পূর্ণ অন্যায়। শুধু আম নয়, যে কোন ফল অসময়ে পেড়ে রাসায়নিক প্রয়োগ বিশুদ্ধ খাদ্য আইন পরিপন্থী। এ সবের প্রমাণ পেলে জেল-জরিমানা করার বিধান রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার মহাসিন আলী বলেন, তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছে বিধায় আম বাজারের খোঁজ খোবর নিতে পারছেন না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ