ঢাকা, মঙ্গলবার 16 May 2017, ০২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ১৯ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এটর্নি জেনারেলের অপসারণ চাইলেন রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার : রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য হুমকি মন্তব্য করে তার অপসারণ দাবি করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসিচব রুহুল কবির রিজভী এ দাবি জানান।
রিজভী বলেন, সরকার এটর্নি জেনারেলকে দিয়ে বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, প্রধান বিচারপতিসহ বিচারপতিদের ধমকি দেয়ার মধ্য দিয়ে সরকারের রূপ ফুটে ওঠেছে। তারা যে বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের জেল-জুলুমসহ মিথ্যা মামলায় নানাভাবে হয়রানি করছে তা প্রধান আইন কর্মকর্তার হুমকি-ধমকির মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয়ে গেছে। আজকের (সোমবার) শুনানীতে মাননীয় প্রধান বিচারপতি বলেছেন-সরকার পক্ষে গেজেট প্রকাশের ফের সময়ের আবেদনে লজ্জিত হয়েছে আপিল বিভাগ। সরকার লজ্জিত না হলেও এ লজ্জা সারা জাতির। সরকারের এহেন আচরণ একদলীয় বাকশালী স্বৈরতন্ত্রকে পাকাপাকি একটি ভিত্তি দেয়ারই প্রচেষ্টা।
তিনি বলেন, সরকার এই এটর্নি জেনারেলকে দিয়েই বিগত কয়েকটি বছর বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর জেল-জুলুম দিয়ে পর্যদস্ত করার জন্য আদালতে নানা কারসাজি করার চেষ্টা চালিয়েছে। এটর্নি জেনারেল গণতন্ত্র নিধনে সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে আদালতে নিয়মিতভাবে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। এই এটর্নি জেনারেল স্বাধীন বিচার বিভাগের প্রতি এক হুমকি।
দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমানে বিচার বিভাগের যেকোনো স্বাধীনতা নেই সেকথা প্রধান বিচারপতি বারবার স্পষ্ট করে বলেছেন। এমনকি দেশের সাধারণ নাগরিকরাও প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত পোষণ করেন। দেশের প্রতিটি মানুষ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে থাকলেও বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার চায় না যে, বিচার বিভাগ স্বাধীন হোক।
বিএনপির এই মুখপাত্র  অভিযোগ করেন, নিষ্ঠুর রাজতন্ত্রের মতোই আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের সকল বিভাগের ওপর প্রভুত্ব করতে চান। এই প্রভুত্বে চ্যালেঞ্জ হচ্ছেন বলেই এখন তিনি সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে উচ্চ আদালতে যে শুনানী চলছে এবং নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধি বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনাকে বারবার উপেক্ষা করে সরকার তার চূড়ান্ত ক্ষমতা সর্বত্র জানান দিয়েছে।
সরকার দেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে মিথ্যাচার করছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার অর্থনীতিকে বারোটা বাজিয়ে দেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে এখন চরম মিথ্যাচার করছে। বাস্তবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবিদ্ধ বিশ্ব ব্যাংকের পূর্বাভাস থেকেও আরো কম। কারণ ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই লুটপাটের মাধ্যমে আর্থিক খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছে। রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধনও বর্তমান শাসকগোষ্ঠী খেয়ে ফেলেছে। আস্থার সংকটে বর্তমানে আর্থিক খাতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ শূন্যের কোঠায়।
তিনি বলেন, সরকারের তরফ থেকে প্রবৃদ্ধি নিয়ে যে পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে সেটি বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর মিথ্যাচারেরই একটি অংশ। সুতরাং নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষমতাসীনদের যে বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে এর সাথে বাস্তবতার  কোন মিল নেই। বরাবরের মতোই আসন্ন বাজেট যে ক্ষমতাসীন দলের লোকদের চাওয়া-পাওয়ার ওপর লক্ষ্য রেখেই রচিত হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীরা যে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে নির্দ্বিধায় মিথ্যার বিভ্রান্তি ছড়াতে পারেন তা দেশবাসী জানেন।
প্রবাসীদের পাঠানোর রেমিটেন্স এর পরিমান ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে রফতানী আয়েরও দুরাবস্থা। বর্তমানে ভয়াবহ দু:শাসনে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ না থাকায় পোশাক রফতানী খাত অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এরই মধ্যে লুটপাটের কয়েক লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে যাওয়ার খবরে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এর আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে- স্বয়ং অর্থমন্ত্রীও বলেছেন- দেশে কোন বিনিয়োগ হচ্ছে না, রেমিটেন্স কমছে, রফতানী কমছে। এই যদি আর্থিক চিত্র হয়, তাহলে উন্নয়ন কী আকাশে হচ্ছে? আসলে উন্নয়ন হচ্ছে সরকারী দলের নেতাকর্মীদের, রাষ্ট্রের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাক্ষিণ্যে তারা মোটাতাজা হচ্ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ