ঢাকা, মঙ্গলবার 16 May 2017, ০২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ১৯ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের পরিণতি হবে সিকিম-কাশ্মীরের চেয়েও ভয়াবহ -শফিউল আলম প্রধান

২০ দলীয় জোটের শরীক দল জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান ভারতীয় আধিপত্যবাদী আগ্রাসন ও পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ সংগ্রামের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পানি বাংলাদেশের জীবন ও জীবিকা। ফারাক্কা, তিস্তাসহ বাঁধের পর বাঁধ দিয়ে নিঃশব্দে-নীরবে গণহত্যা চালানো হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রীর যে মর্যাদা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীরও তা নাই। তিনি বলেন, কথা হবে দিল্লী-ঢাকা। মোদি ও শেখ হাসিনার মধ্যে। অথচ মমতার কথায় তিস্তা চুক্তি হল না। শেখ হাসিনাকে বুঝতে হবে দিল্লীর কাছে মমতার যা গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রী হয়েও শেখ হাসিনার তা নেই। পুতুল সরকারের এটাই পরিণতি, এটাই ইতিহাস।
মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চ স্মরণে গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় আসাদগেট জিইউপি মিলনায়তনে জাগপা আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাগপার সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমানের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জাগপার সহ সভাপতি মাস্টার এম.এ মান্নান, যুগ্ম সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম, ডা. আওলাদ হোসেন শিল্পী, এম.এ হাফিজ, যুব বিষয়ক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মোড়ল, নগর জাগপার সহ সভাপতি হোসেন মোবারক, যুব জাগপার সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদউদ্দিন, সহ সভাপতি সাইদুজ্জামান কবির, যুগ্ম সম্পাদক ইব্রাহীম জুয়েল, জাগপা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক মিনহাজ প্রধান রাব্বি, প্রচার সম্পাদক আবু নাঈম প্রমুখ।
আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদ বিরোধী এই নেতা আরো বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে সাহায্য করেছেন এই জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কেন করেছেন এই প্রশ্ন না তুললেও আমরা বলতে চাই কৃতজ্ঞতারও একটা সীমারেখা আছে। ট্রানজিট-করিডোর দিয়ে আমরা দিল্লীর যুদ্ধকে আমার মাটিতে ডেকে আনলাম। সামরিক চুক্তির নামে কোন কারণ ছাড়াই পরীক্ষিত বন্ধু চীন বিরোধী জোটে সামিল হলাম। বিনিময়ে আমরা কি পেলাম ? আমাদের পানিতে মারা হচ্ছে, সীমান্তে আমাদের মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে, পিলখানায় সেনা ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে ভাড়া খাটানোর আয়োজন করা হচ্ছে। কি অপরাধ আমরা করেছিলাম। আমাদের ভোটের অধিকারকে বুটের তলায় পিষে ফেলা হল। দিল্লীর নজিরবিহীন হস্তক্ষেপে ভোটারবিহীন এক সরকার জাতির কাধে চাপিয়ে দেয়া হল।
প্রধান বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশের পরিণতি হবে সিকিম-কাশ্মীরের চেয়েও ভয়াবহ। এখনই সময় রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ। শহীদ জিয়ার মত সাহসী বাংলাদেশ গর্জে উঠুক- দেশ হিসেবে আমরা ছোট হতে পারি, কিন্তু জাতি হিসেবে আমরা ছোট নয়। মনে রাখবেন স্বাধীনতার ছায়া ছাড়া গণতন্ত্র বাঁচে না। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ