ঢাকা, বুধবার 17 May 2017, ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চলতি বাজেটের ঘাটতি মেটাতে টার্গেটের ডবল ঋণ সঞ্চয়পত্র থেকে

স্টাফ রিপোর্টার : সরকার চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ৯ মাসেই টার্গেটের দ্বিগুণের বেশি অর্থ সঞ্চয়পত্র থেকে ধার করেছে। এতে সুদসমেত আসল পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে ইতোমধ্যেই হুঁশিয়ার করেছেন অর্থনীতিবিদরা। জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর জানিয়েছে প্রতিদিন এখন গড়ে দুইশ’ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচ্ছে। গত জুলাই মার্চ সময়ে ৩৭ হাজার ৬৪৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে যে পরিমাণ অর্থ ধার করার লক্ষ্য ধরেছিল, নয় মাসেই তার দ্বিগুণ নিয়ে ফেলেছে। গড়ে প্রায় প্রতিদিন ২০০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচেছ। সঞ্চয়পত্র বিক্রি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই সরকারকে এ ঋণ বহন করতে হচ্ছে; গুণতে হচ্ছে সুদ। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন অর্থনীতির গবেষক জায়েদ বখত।

এদিকে সূত্র জানায়, সরকার চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ১২ মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল। কিন্তু জুলাই-মার্চ সময়েই ৩৭ হাজার ৬৪৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর। সঞ্চয়পত্র বিক্রির এই উলম্ফনে উদ্বেগ রয়েছে খোদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের।

তিনি জানিয়েছেন, বিক্রি বাড়ায় সঞ্চয়পত্র খাতে আমাদের সুদ পরিশোধের পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদের হার কমার কারণেই এর বিক্রি বাড়ছে। তবে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বাড়ায় আমাদের (সরকার) এখন ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ নিতে হচ্ছে না।

সঞ্চয়পত্রের উচ্চ সুদ হার অর্থনীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী মুহিত।

আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে তাকে বলা হয় নিট বিক্রি। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

বিআইডিএস এর গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত এ বিষয়ে বলেন, ব্যাংকে আমানতের সুদের হার ক্রমাগত কমতে থাকায় সাধারণ মানুষ তাদের সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগের জন্য সঞ্চয়পত্র ছাড়া আর কোনো লাভজনক বিকল্প পাচ্ছে না। ফলে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে। এতে সরকারের ঋণের বোঝা ও সুদ বাড়ছে, সরকারের রাজস্ব বাজেটের ওপর পড়ছে চাপ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ৩৭ হাজার ৬৪৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। এ হিসাবে এই নয় মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি বেড়েছে ৬৩ শতাংশের মত।

সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মার্চ মাসে ৪ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে হয়েছিল ৪ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে বিক্রি হয় ৩ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা। নবেম্বরে বিক্রি হয় ৪ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। জানুয়ারিতে বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৪২০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। একক মাস হিসেবে যা ছিল রেকর্ড।

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাস জুলাই, অগাস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে বিক্রির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৩ হাজার ৪৯৮ কোটি ৩৭ লাখ, ৪ হাজার ২৯৭ কোটি ২১ লাখ, ৩ হাজার ৮৫৪ কোটি ৫০ লাখ এবং ৪ হাজার ২৬৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ