ঢাকা, বুধবার 17 May 2017, ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভারত থেকে আরো বিদ্যুৎ কিনছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার : ভারত থেকে আরো বিদ্যুৎ ক্রয় করছে সরকার। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এমন ঘোষণা দিয়ে বলেন, ভারতে বিদ্যুৎ অলস পড়ে আছে। সেখান থেকে আমারা আরো বিদ্যুৎ আমদানি করবো। এতে করে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো ভালো থাকবে। মন্ত্রী বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে জ্বালানি বাণিজ্যে ভারসাম্য আনা দরকার। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ আমদানি করছে। প্রয়োজনে ত্রিপুরা বাংলাদেশ থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) এর ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন: বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল পরিস্থিতি বিষয়ে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। আইইবির ঢাকা কেন্দ্রের সভাপত্তি মেজবাহুল রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আইইবির সভাপতি প্রকৌশলী কবির আহমদ ভূঞা, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ, প্রধান প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান, ওএনজিসি ত্রিপুরা পাওয়ার প্ল্যাণ্টের (ওটিপিসি) কর্মকর্তা সুধীন চট্টপধ্যায় সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে ত্রিপুরার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি‘র আহ্বায়ক প্রকৌশলী সপ্তদীপ সাহা গ্রিড সংযোগের উপর এবং পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী ড. অজয় কুমার চক্রবর্তী স্মার্ট গ্রিডের উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্যে ভারসাম্য থাকা উচিত। তাহলে বন্ধুত্ব আরো ভাল থাকবে। এক্ষেত্রে ভারতকে এগিয়ে আসতে হবে। ভারতের পাশ্ববর্তী চারদেশে প্রায় ১৫ লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আদান-প্রদান করা সম্ভব। এতে প্রত্যেক দেশের মাথাপিছু আয় বাড়বে। ভারত থেকে আমরা আরো বিদ্যুৎ আমদানি করবো।

সেমিনারে ভারতের প্রতিনিধিরা বলেন, ভারতে প্রায় ৪০ হাজার মেগাওয়াট অলস বিদ্যুৎ পড়ে আছে। বাংলাদেশ চাইলে আরো বিদ্যুৎ নিতে পারে। এজন্য প্রয়োজন যথাযথ দাম ও চুক্তি। বাংলাদেশের সেমিনারে উপস্থাপন করা এক প্রবন্ধকে ইঙ্গিত করে সুধীন চট্টোপাধ্যায় বলেন, শুধু পরিকল্পনা নয়, বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। 

ভারতের প্রতিনিধি প্রকৌশলী অজয় কুমার চৌধুরী বলেন, আধুনিক গ্রিড, মিটার এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়ানো দরকার বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে নতুন অর্থবছরের জন্য এক লাখ ৬৪ হাজার ৮৪ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এবার সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও জ্বালানি খাত। অনুমোদন পাওয়া এই এডিপি চলতি অর্থবছরের বরাদ্দের চেয়ে ৪২ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা বা ৩৯ শতাংশ বেশি। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ ও সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগ।

অগ্রাধিকার খাত বিবেচনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ খাত। বিদ্যুতে মোট আকারের ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের জন্যই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ