ঢাকা, বুধবার 17 May 2017, ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় সিটি কলেজে কর্ম বিরতিরত শিক্ষকদের উপর ছাত্রলীগের হামলা

 

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজে কর্ম বিরতিরত শিক্ষকদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে তারা। এ সময় ক্যাম্পাসের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষকরা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেলে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষাসহ জাতীয় দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের উপর উপর্যুপরি বর্বরোচিত হামলা, মারাত্মক জখম ও সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির প্রতিবাদে সারা দেশের ন্যায় খুলনার সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষকরা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতি পালন করছিলেন। এ অবস্থায় মহানগর ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অর্পনের নেতৃত্বে ৪৫/৫০জন লাঠিসোঁটা নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। শিক্ষকদের আন্দোলন ছেড়ে চলে যেতে বলে ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। শিক্ষকরা দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যান। পরে দারোয়ান মো. মোতালেবের কাছ থেকে চাবি নিয়ে গেটে তালা লাগিয়ে দেয় তারা। এক পর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

শিক্ষকদের সূত্র জানিয়েছেন, সিটি কলেজে ছাত্রলীগের নেতারা কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই শ্রেণিকক্ষে এবং বিভিন্ন পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে। শিক্ষকরা এর প্রতিবাদ করলে গত ১৩ মে কলেজের গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল ওই ছাত্ররা। তারা ভেবেছিল গত শনিবার তাদের ওই ঘটনার প্রতিবাদে আজ (গতকাল মঙ্গলবার) শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। এই ভুল বুঝেই শিক্ষকদের ওপর হামলা করেছে তারা।

শিক্ষক পরিষদের সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক এবিএম অহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনা তো সব জানেন। এ বিষয়ে নতুন করে কিছুই বলতে চাই না।

খুলনা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইমান আলী বলেন, ‘কিছু তো একটা ঘটেছে, শুনেছেন। আমি জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যাচ্ছি। পরে কথা বলবো।’

খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আসাদুজ্জামান রাসেল বলেন, নিজেরা নিজেরা ছাত্রলীগ ছাত্রলীগ বাধাইছে। পরে আমি গিয়ে শিক্ষকদের নিয়ে সব মীমাংশা করে দিয়েছি। তেমন কিছু না।

খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমএম মিজানুর রহমান বলেন, তেমন কিছু ঘটেনি। ছাত্রদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে নিজেরাই ভুল বুঝতে পেরেছে। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ