ঢাকা, বুধবার 17 May 2017, ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনার নির্মাণাধীন রেল স্টেশনের ছাদে ফাটলের ঘটনায় তোলপাড়

খুলনা অফিস : খুলনায় নির্মাণাধীন আধুনিক রেল স্টেশনের প্লাটফর্মের ছাদে ফাটলের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। এ বিষয়ে তিনি একটি প্রতিবেদনও দাখিল করতে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে নির্দেশ দিয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলবাসীর বহুপ্রতিক্ষিত স্টেশন নির্মাণ কাজ শেষের আগেই ফাটলে নির্মাণ কাজ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে আধুনিক রেল স্টেশনের প্লাটফর্মের ছাদে ফাটলের খবরে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনার আধুনিক রেল স্টেশন প্রকল্পের মূল স্টেশন ভবন এবং তিনটি প্লাটফর্মের নির্মাণ কাজ চলছে। এর মধ্যে স্টেশন ভবনের কাজ প্রায় শেষের পথে থাকলেও প্লাটফর্মগুলোর কাজ বেশ বাকি। তবে ২ ও ৩ নম্বর প্লাটফর্মের ছাদের ৭শ’ থেকে ৮শ’ ফুট করে ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে মূল স্টেশন ভবন থেকে ২ নম্বর প্লাটফর্মের দিকে কয়েকফুট এগোতেই কয়েকটি অংশে চোঁখে পড়ে পাচটি ফাটল। এর মধ্যে ডান দিকে তিনটি এবং বাম দিকে ২টি। যদিও ফাটলগুলোর ওপর প্লাস্টার করে ঢেকে দেয়া হয়েছে। তবুও স্পষ্ট হয়ে রয়েছে চিহ্নগুলো। 

অপরদিকে ফাটল দেখতে গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় রেল প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন রেল মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান। পরিদর্শন শেষে তিনি তাৎক্ষনিক বিষয়টি রেল মন্ত্রীকে অবহিত করেন।

প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে রেল মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান এমপি সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি তিনি রেলমন্ত্রী মুজিবুল হককে তাৎক্ষনিক জানিয়েছেন। বিষয়টি শুনে রেলমন্ত্রী সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পরিদর্শনকালে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ মোশারফ হোসেন, রেলওয়ে ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের কর্মকর্তারা ফাটলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, আবহাওয়াজনিত কারণে আশ জাতীয় ফাটল (হেয়ার ক্যাক) দেখা দিয়েছে। এটি তেমন কোন সমস্যা নয়।  

খুলনা রেলওয়ের সিনিয়র সাব-এসিসট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান বলেন, বৈদ্যুতিক পাইপ লাইনের কারণেই ফাটল ধরেছে। বিষয়টি তারা মনিটরিং করছেন। এভাবে আর ছাদ দিয়ে পাইপ নিতে নিষেধ করা হয়েছে। সামনে আর এ ধরণের সমস্যা হবে না। এ ধরণের ফাটলে কোন ঝুঁকি তৈরি হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে ‘খুলনার নির্মাণাধীন রেল স্টেশনের ছাদে ফাটল’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে নির্মাণাধীন ২ নম্বর প্লাটফর্মের পাঁচটি স্থানের ফাটল ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হওয়া এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন কর্তৃক প্লাস্টার দিয়ে ফাটলগুলো ঢেকে দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

রেলওয়ে পাকশির বিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল ওয়ার্কস) রিয়াদ আহমেদ বলেন, ফাটলের বিষয়টি সরেজমিনে না দেখলে বোঝা যাবে না। এছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করে দেখতে হবে। সরেজমিনে দেখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, খুলনার আধুনিক রেল স্টেশন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ২০১৫ সালের এপিলে শুরু হয়। ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮ মাস মেয়াদে গত বছরের অক্টোবরে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিদাকারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন নির্ধারিত সময় কাজ শেষ করতে না পারায় প্রকল্পে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে চার কোটি ৪৫ লাখ টাকা। নতুন রেল স্টেশনটি হচ্ছে তিনতলা বিশিস্ট। প্রথম তলায় স্টেশন ভবনে থাকছে ৬টি টিকেট কাউন্টার, ওয়েটিং রুম ও সহকারী স্টেশন মাস্টারের রুম। দ্বিতীয় তলায় স্টেশন মাস্টারের রুম, রেস্টুরেন্ট, তফসিলী ব্যাংকের শাখা, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ওয়েটিং রুম, ফাস্ট ফুডের দোকান এবং রেল কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা কক্ষ। তৃতীয় তলায় রেলওয়ের প্রকৌশলীদের কক্ষ। স্টেশন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে একসাথে ৬টি ট্রেন স্টেশনে প্রবেশ এবং বের হতে পারবে। ফলে প্রায় ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ