ঢাকা, বুধবার 17 May 2017, ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

১৪০০ বছর ধরে যে বিষয় চলছে তা কীভাবে অনৈসলামিক হতে পারে -অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড

১৬ মে,  পার্সটুডে : ভারতে গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে তিন তালাক নিয়ে বিশেষ শুনানিতে ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড’ বলেছে তিন তালাক গত ১৪০০ বছর ধরে চলছে,  "এটা ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়। তিনি বলেন,  যে বিষয় ১৪০০ বছর ধরে চলছে তা অনৈসলামিক কীভাবে হতে পারে? আপনারা কীভাবে বলতে পারেন এটা অসাংবিধানিক?"
গতকাল মঙ্গলবার মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী কপিল সিব্বল তার সাফাইতে ওই মন্তব্য করেন।  তিনি বলেন,  "যদি রামের অযোধ্যায় জন্ম হওয়া বিশ্বাসের বিষয় হতে পারে তাহলে তিন তালাক ইস্যু কেন বিশ্বাসের বিষয় হবে না? যদি ভগবান রামের অযোধ্যায় জন্ম নেয়া নিয়ে হিন্দুদের বিশ্বাস নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা না যায় তাহলে তিন তালাক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে কেন?" কপিল সিব্বল বলেন,  "ইসলাম ধর্মে নারীদের অনেক আগেই অধিকার দেয়া হয়েছে। পরিবার এবং পার্সোনাল ল’ সংবিধান মোতাবেক বিষয় এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ব্যাপার।" কপিল সিব্বল বলেন,  "পার্সোনাল ল’ কুরআন ও হাদীস থেকে এসেছে। আদালত কী কুরআনে লেখা থাকা বিষয়কে ব্যাখ্যা করবে? সাংবিধানিক নৈতিকতা এবং সমতার নীতিমালা তিন তালাকে প্রযোজ্য হতে পারে না কারণ এটি বিশ্বাসের ব্যাপার।" তিনি বলেন,  বিবাহ এবং তালাক যদি চুক্তি হয় তাহলে অন্যদের এতে সমস্যা হওয়ার কী আছে? এ সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আর এফ নরিম্যান বলেন,  আপনি কী বলতে চাচ্ছেন এই মামলার শুনানি হওয়া উচিত নয়? জবাবে কপিল সিব্বল বলেন,  হ্যাঁ আপনাদের তা করা উচিত নয়। কপিল সিব্বল এর আগে তার সাফাইতে বলেন,  সকল পুরুষশাসিত সমাজ পক্ষপাতদুষ্ট। হিন্দু ধর্মে বাবা তার নিজ সম্পত্তি কাউকে উইল করতে পারেন কিন্তু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তা নেই। আমি হিন্দু সমাজের এ রকম অনেক পরম্পরাকে নির্দেশ করতে পারি। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন,  এটা কী ঠিক যে,  কোনো নারী তালাকের জন্য আবেদন করবে এবং ১৬ বছর ধরে লড়াই করার পরে সে কিছু অর্জন করবে না? সিব্বল বলেন,  "হিমাচল প্রদেশের কিছু এলাকায় বহুবিবাহ প্রথা রয়েছে। কিন্তু তা ঐতিহ্য হিসেবে চলে আসছে এবং কেবল সমাজই সিদ্ধান্ত নিতে পারে কবে ওই প্রথা পরিবর্তন হবে।" পার্সোনাল ল’বোডের্র পক্ষ থেকে ওই ইস্যুতে আজ আদালতে সাফাই দেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ