ঢাকা, বুধবার 17 May 2017, ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সৌরবিদ্যুৎ জনপ্রিয়তা পেলেও ভিত মজবুত হয়নি

জাফর ইকবাল : সৌর বিদ্যুৎ। বাংলাদেশে বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থা হিসেবে এর জনপ্রিয়তা বাড়লেও এখনো এর ভিত মজবুত হয়নি। ফলে ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার সরকারি মহাপরিকল্পনার অনেকটাই হোঁচট খাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত ৪৩০ মেগাওয়াট বিকল্প জ্বালানি যোগ হয়েছে। এর মধ্যে সোলার হোম সিস্টেম থেকে ১৭৫ মেগাওয়াট, সরকারি-বেসরকারি অফিসে সোলার সিস্টেম ৩ মেগাওয়াট, বাণিজ্যিক ভবন ও শপিং মলে সোলার সিস্টেম ১ মেগাওয়াট, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে সোলার পিভি স্থাপন ১১ মেগাওয়াট, সোলার ইরিগেশন ২ মেগাওয়াট, ২ মেগাওয়াটের বায়ুশক্তিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বায়োমাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ১ মেগাওয়াট, বায়োগ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ মেগাওয়াট এবং হাইড্রো পাওয়ার হচ্ছে ২৩০ মেগাওয়াট।
সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি কার্যক্রম থেকে জানা যায়, এই খাত থেকে সরকার ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ৩১শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে পাবলিক সেক্টর ১১শ’ মেগাওয়াট এবং বাকি অংশ বেসরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের এই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে মার্চ ২০১৬ পর্যন্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে মাত্র ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছে, যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই কম।
সরকার দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০০৮ প্রণয়ন করেছে। এই নীতিমালায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির মূল উৎস হিসাবে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, বায়োমাস, হাইড্রো, বায়ো ফুয়েল, জিও থার্মাল, নদীর স্রোত, সমুদ্রের ঢেউ ইত্যাদিকে শনাক্ত করেছে। ঘোষিত এই নীতিমালা অনুযায়ী ২০২০ সাল এবং তার পরবর্তী বছরগুলোতে নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোলার নিয়ে দেশে বেসরকারি খাতে যেসব কোম্পানি কাজ করছে তার মধ্যে রয়েছে- রহিমাফরোজের সোলার পিভি সিস্টেম, এলাইড সোলার এনার্জি লিমিটেড, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড (আইডিসিওএল), গ্রামীণ শক্তি, ব্র্যাক সোলার, ইলেক্ট্রোকম টেকনোলজিস লি., নেক্সট পাওয়ার লি., ইনজেন টেকনোলজি লিমিটেড, ফুজিতসু বাংলাদেশ লিমিটেড, ইনোভেটিভ টেকনোলজি, ইকো পাওয়ার কোম্পানী লিমিটেড (ইপিসিএল), আভা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, সোলার প্যাক, সোলার বাংলাদেশ, সনোস এনার্জি সেভিং টেকনোলজি, ঢাকা সার্ভিস কোম্পানী, ব্রাইট ইলেক্ট্রিক সেভার টেকনোলজি লি., গ্রীন এনার্জি সলিউশন লি., উত্তরণ টেকনোলজি, ডিজিটাল টেকনোলজি, আকাশ সোলার ইত্যাদি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক বিশ্বের উন্নয়শীল দেশগুলোতে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সোলার শক্তি একটি বিশাল অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিল্পখাতের উন্নয়ন ও প্রসার এবং নতুন টেকনোলজির এই বিকল্প শক্তির প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। বিশ্ববাজারে টিকে থাকার জন্য এদেশে সোলারের চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেয়া এবং ঘনঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং থেকে শিল্পখাতকে রক্ষায় বিকল্প এই শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। একইভাবে সরকার আবাসিক গ্রাহকদের যদি এই সিস্টেমের আওতায় আনতে পারে, তাহলে বিদ্যুৎ বিলের জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয় তা অনেকটাই কমে যাবে। নবায়নযোগ্য সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের পরিকল্পনা ধীরগতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। মূলত অধিকাংশ প্রকল্প পরিকল্পনা পর্যায়েই আটকে আছে। সোলার হোম সিস্টেমের (এসএইচএস) প্রসার ঘটলেও গ্রিডভিত্তিক টেকসই জ্বালানির নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। সৌর বিদ্যুতের দুইটি প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক চুক্তি হলেও বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা যায়নি। অর্থায়ন, ভূমি সংকট ও জমি নিয়ে বিরোধের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। তাদের মতে, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের যাবতীয় যন্ত্রপাতি দেশে উৎপাদন করা গেলে দাম অনেকটা কমে আসত। কিন্তু এখন পর্যন্ত দেশে যে পরিমাণ সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে তার সব যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকেই আমদানি করা হয়। তবে দেশীয়ভাবে তৈরি ব্যাটারি এ কাজে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ব্যাটারির দামও অনেক বেশি হওয়ার কারণে সৌর বিদ্যুতের দাম সেভাবে কমছে না। সরকার ২০০৯ সালে সোলার প্যানেল থেকে সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফলে সোলার প্যানেলের দাম কিছুটা কমলেও সার্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচের বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ খাতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার সোলার যন্ত্রাংশ থেকে শুল্ক প্রত্যাহার ছাড়া এ খাতের জন্য আর তেমন কিছু করেনি। তাদের মতে, সোলার প্যানেল আমদানির বিকল্প হিসেবে স্থানীয় বাজারে এর আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি তৈরির মাধ্যমেই এর উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব।
এদিকে সৌর বিদ্যুতের দাম বেশি হলেও সোলার হোম সিস্টেমে সৌর বিদ্যুতের ব্যাপক সম্প্রসারণ হচ্ছে। এর মাধ্যমে মূলত দেশের যেসব অঞ্চলে ভৌগোলিক কারণে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব নয়, সেসব অঞ্চলে আবাসিক বাড়ি, জনপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটে বসানো হচ্ছে সোলার হোম সিস্টেম। আর বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এ কাজে সহায়তা করছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি ইডকল। বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে তারা এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে গ্রামীণ শক্তি, ব্র্যাক, সৃজনী, ব্রিজ, রুরাল সার্ভিসেস বাংলাদেশ এবং সোনালী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনসহ ১৫টি বেসরকারি সংস্থা গ্রামাঞ্চলে এই সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনে কাজ করছে। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখের মতো সোলার হোস সিস্টেম উৎপাদনে ব্যবহার হচ্ছে। আগামী বছরের শেষ নাগাদ ইডকলের মাধ্যমে আরও সাড়ে ৬ লাখ সোলার হোম সিস্টেম বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে ইডকলের।
এ ব্যাপারে ব্রাইট গ্রীন এনার্জি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দীপাল চন্দ্র বডুয়া বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের সম্ভাবনা খুব বেশি। সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তিনি বলেন, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে সব যন্ত্রাংশ দেশেই ব্যাপকহারে উৎপাদন করা গেলেও দাম অনেকটা কমে আসত। কিন্তু এখন পর্যন্ত সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় তা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এজন্য খরচ পড়ছে বেশি। দীপাল বড়–য়া জানান, শহরবাসী গ্রিড-বিদ্যুৎ ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়ায় সোলার-হোম-সিস্টেমের স্বল্প সময়ের সৌর-বিদ্যুতে আগ্রহী নয়। ফলে শহরবাসীর ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সোলার-হোম-সিস্টেম হলেও তারা এটি ব্যবহারে অনিচ্ছুক। তিনি বলেন, শহরবাসী সহজেই এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করে জাতীয় গ্রিড লাইনের ওপর নির্ভশীলতা কমাতে পারেন।
বর্তমান আওয়ামী সরকারের সবচেয়ে আলোচিত নির্বাচনী অঙ্গিকার হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া। সরকার গঠনের পরে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী এমপিরা সর্বত্র ঝিকির গেয়ে যাচ্ছেন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ব্যাপারে। কিন্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ তথা দেশে তথ্য প্রযুুক্তির বিস্তার নিশ্চিত করতে হলে আগে নিশ্চিত করতে হবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ। আর এ কাজটি কোনদিনই সম্ভব হবেনা এ সরকারের আমলে। শুধু এ সরকার কেন আগামীতে যে সরকার আসবে তাদের পক্ষেও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভব নয়। সীমিত জ্বালানি সম্পদ তথা তেল, গ্যাস, কয়লা কেবল বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপীই ক্রমশ নিঃশেষ হয়ে আসছে। এমতাবস্থায় বিজ্ঞানীরা বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তির কথাই ভাবছেন। আমাদেরও এখন থেকে চিন্তাটা ওই খাতেই প্রবাহিত করা প্রয়োজন। যাতে করে তথ্য প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা কোনভাবেই ব্যাহত না হয়। বিকল্প বিদ্যুতের মধ্যে সহজ প্রযুক্তির কারণে বিশ্বে দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ।
বিজ্ঞানীদের হিসাব মতে, বিদ্যুতের চাহিদা যে হারে বাড়ছে তাতে বিকল্প জ্বালানি না হলে তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে আর মাত্র ৩৫ বছর,অত্থাৎ ২০৪৫ সাল পর্যন্ত। আর কয়লার মজুদ শেষ হয়ে যাবে ২১৫৯ সালের মধ্যে। অথচ সূর্য এক ঘণ্টায় পৃথিবীতে যে পরিমাণ শক্তি দেয় তা থেকে বিশ্বের সব মানুষের সারাবছরের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এটি কোন আজগুবি গল্প নয়, বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জানিয়েছেন এ তথ্য। বর্তমানে বিদ্যুতের বড় দুই কাঁচামাল জ্বালানি তেল আর কয়লার জোগান অফুরন্ত নয়, একদিন শেষ হয়ে যাবে সেগুলো। তবে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই বলেই মনে করেন বিজ্ঞানীরা। সূর্যের আলো থেকে যে পরিমাণ শক্তি পৃথিবীতে আসে তা পৃথিবীর সব ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি ও পরমাণু শক্তির মোট পরিমাণের কাছাকাছি। ডেজার্টটেক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুসারে পৃথিবীর সব মরুভূমিতে সারাবছর যে পরিমাণ সৌরশক্তি থাকে, তার এক শতাংশও যদি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানো যায়, তাহলে পুরো পৃথিবীর বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব। বিদ্যুৎ নিয়ে ভয়াবহ সংকট সমাধান নিয়ে বিকল্প জ্বালানির খোঁজে দেশে দেশে চলছে নতুন নতুন গবেষণা। বিকল্প বিদ্যুতের মধ্যে সহজ প্রযুক্তির কারণে বিশ্বে দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি কাউন্সিলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৮ সালে সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ ছাড়িয়েছে ৩৩৫০ কোটি ডলার। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ বছরে বেড়েছে ৬ গুণ, আর বিনিয়োগ বেড়েছে ১৭২ গুণ। উন্নত দেশগুলো প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে থাকলেও, সৌরবিদ্যুতের জনপ্রিয়তা বেশি বেড়েছে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। বিশেষভাবে চীন, ভারত ও বাংলাদেশে। ইউরোপের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সংগঠন ইপিআইএ স¤প্রতি জানিয়েছে, ২০০৯ সালে বিশ্বজুড়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে গত বছরই বেড়েছে ৬ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। সৌরবিদ্যুতের ২০১০ সালের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ বছরও বিশ্বে সৌরবিদ্যুতে প্রবৃদ্ধি হবে ৪০ শতাংশের বেশি। সৌরশক্তির প্রযুক্তি আর ব্যবহারে ইউরোপ আছে শীর্ষে। তবে পিছিয়ে নেই যুক্তরাষ্ট্রও। ইউরোপ আমেরিকাকে ছাড়িয়ে শীর্ষে আসার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে চীন।
কেবল নির্মাতা নয়, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারিদের তালিকায় দেশ হিসেবে শীর্ষে আছে জার্মানি। বিশ্বের বড় ৫০টি সোলার প্যানেলের তালিকায় আছে স্পেন আর জার্মানির দাপট। তবে এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৬০ মেগাওয়াটের সোলার প্যানেল আছে স্পেনের অমেডিলায়। সৌরবিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশ খুবই সম্ভাবনাময় একটি দেশ। কারণ এখানে বছরে ৩০০ দিনেরও বেশি রোদ থাকে। বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাবনাকে বাস্তব করতে ২০০৩ সাল থেকে কাজ করে আসছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)। সরকারি মালিকানার এ প্রতিষ্ঠান সারাদেশে সৌরবিদ্যুৎ প্রসারের জন্য অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছে।
নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ পরিবারের গ্রামীণ শক্তি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে সৌরশক্তির বিকাশে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। ইডকলের যে সাড়ে ৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেম এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত হয়েছে, তার মধ্যে সাড়ে ৩ লাখই করেছে গ্রামীণ শক্তি। ২০১৭ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ২০ লাখে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে প্রতিষ্ঠানটির। বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাহিদা এবং তার সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারায় ক্রমবর্ধমান ঘাটতিতে দেশ যখন ভয়াবহ সংকটে তখন সৌরবিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তার দিকটি আলোচিত হচ্ছে জোরেসোরে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল। কেবল গ্রামাঞ্চল বা বিচ্ছিন্ন জনপদ নয়, খোদ রাজধানীতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার উৎসাহিত করতে দেশের সবচেয়ে বড় সোলার প্যানেল স্থাপন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশ্বের বড় বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকেও যা নেই, এবার সূর্যের আলোয় নিজেরা আলোকিত হয়ে তা করে দেখিয়েছে তারা। বিশ্বে কোন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এই প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ২০০ কোটি টাকার একটি ফান্ড আছে, যা থেকে ২০টি ব্যাংক সৌরবিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাসের মতো প্রকল্পে সহজ শর্তে ঋণ দেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ