ঢাকা, বুধবার 17 May 2017, ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রায়ই ঘটছে প্রাণহানিসহ ছোট-বড় দুর্ঘটনা পশ্চিম জোনের রেলক্রসিংগুলো অরক্ষিত

খুলনা অফিস: রেলওয়ের পশ্চিম জোনের রেলক্রসিংগুলো যেন একেকটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। খুলনা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ২৪৭ কিলোমিটার রেলপথের ১৩৭টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে ৮২টিই সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এ সকল রেলক্রসিংয়ে কোনো গেট বা গেটম্যান নেই। এ অবস্থায় প্রতিদিন শতশত মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেলক্রসিং পার হতে হচ্ছে। তাছাড়া এসব রেলক্রসিংগুলোতে প্রায়শই ঘটছে প্রাণহানিসহ ছোট-বড় নানা ধরনের দুর্ঘটনা। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে যশোরের অভয়নগর উপজেলার তালতলায় খুলনাগামী একটি রেল ইঞ্জিনের সঙ্গে শ্রমিকবাহী একটি বাসের সংঘর্ষে কদবানু ও নূরজাহান নামে ২ নারী শ্রমিক নিহত এবং অর্ধশত শ্রমিক আহত হয়। হতাহতরা সবাই স্থানীয় আকিজ জুট মিলের শ্রমিক এবং অধিকাংশই নারী শ্রমিক। কাজ শেষ করে শ্রমিকরা মিলের গাড়িতে পাশের উপজেলা মনিরামপুরের নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। রাত পৌণে ১১টার দিকে নওয়াপাড়া শিল্প শহরের তালতলা হাট রেল স্টেশনের রেলগেটটি অতিক্রমের সময় খুলনাগামী একটি ইঞ্জিনের সাথে শ্রমিকবাহী বাসের ধাক্কা লেগে বাসটি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। আহতদের মধ্যে ২জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২৩ মে প্রায় একই স্থানে মথুরাপুর-মানিকদিহি জামতলা রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেটকারের চালক ও যাত্রীসহ পাঁচজন নিহত ও আরেক যাত্রী গুরুতর আহত হয়। এছাড়া ২০১৫ সালের ২৫ জুন একই স্থানে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে একজন এবং ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ২ জন নিহত হয়। এভাবে প্রায় প্রতি বছরই ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। অচিরেই ঝুঁকিপূর্ণ এ সব রেলক্রসিংগুলোতে গেট বা গেটম্যানের ব্যবস্থা করা না হলে আরো জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলওয়ের পশ্চিম জোনের রেলগেটগুলো একেকটি মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে একটি করে দায়সারা গোছের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে রেল বিভাগ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। সাইনবোর্ডগুলোতে লেখা রয়েছে, ‘এটি অবৈধ রেলগেট, এখানে কোনো গেটম্যান নেই, নিজ দায়িত্বে পারাপার হোন।’ অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, যে সকল গেটে গেটম্যান আছে তারাও ঠিকমত তাদের দায়িত্ব পালন করেন না। রেলগেটগুলোতে ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় অনেক সময় গেট ফেলা হয় না। অভিযোগ রয়েছে, গেটম্যানরা অস্থায়ীভাবে কাজ করার জন্য অন্য কাউকে মাসোহারার বিনিময়ে দায়িত্ব দিয়ে থাকে। আবার দেখা গেছে,  অনেক রেলগেটে রেল কর্তৃপক্ষের সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া গেটম্যানরা কাজ করছে। তাই দায়িত্ব সম্পর্কে তারা খুব বেশি সচেতন নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ