ঢাকা, বুধবার 17 May 2017, ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নতুন জগতে কেসিসির টেন্ডার প্রক্রিয়া

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) টেন্ডার প্রক্রিয়া নতুন জগতে প্রবেশ করেছে। এখন থেকে কাগজ-কলমে আর কোন কাজ থাকছে না।
ইজিপি প্রক্রিয়ায় দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে ঠিকাদার টেন্ডারে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন। টেন্ডার সিন্ডিকেটসহ নানা অনিয়ম দূর হলো এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টেন্ডার কার্যক্রম শুরু করায়। সোমবার প্রথম দিন নগর ভবনে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ১০কোটি টাকার টেন্ডার লটারির ঠিকাদার নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। ঠিকাদাররা উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে লটারিতে অংশ নেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী-২ লিয়াকত আলী খান বলেন, এ প্রক্রিয়ায় টেন্ডার শুরু হওয়ায় নানা অসঙ্গতি দূর হয়েছে। কেসিসি টেন্ডার প্রক্রিয়া নতুন জগতে প্রবেশ করেছে। ঠিকাদার ভয়ভীতি ছাড়াই ঘরে বসে টেন্ডারে অংশ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। টেন্ডার সিন্ডিকেট থাকছে না। রেট নিয়ে জালিয়াতি প্রক্রিয়া বন্ধ হলো। বিডি জালিয়াতি থাকছে না। তবে এতে করে কেসিসি রাজস্ব হারালেও সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঠিকাদারদের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত হচ্ছে সহজ প্রক্রিয়ায়, থাকছে স্বচ্চতা। সোমবার প্রথম দিন ৩২টি গ্রুপের লটারি হয়। এস্টিমেট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী-২ এর অধিনে ১৪টি গ্রুপের কাজ এবং নির্বাহী প্রকৌশলী-৩ এর অধিনে ১৭টি গ্রুপের কাজ। নির্বাহী প্রকৌশলী-২ এর অধিনে এডিপি প্রকল্পের আওতায় একটি গ্রুপের এক লাখ সত্তর হাজার টাকা কাজ রয়েছে। বাকী কাজ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি দুইশ’ কোটি টাকার সংশোধীত প্রকল্পের ৫০ কোটি টাকার অংশ। নির্বাহী প্রকৌশলী-৩ এর অধিনে এডিপি প্রকল্পের আওতাধীন ২টি গ্রুপের কাজ। প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকার কাজ রয়েছে। বাকী কাজ ২শ’ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতাধীন।
নির্বাহী প্রকৌশলী-৩ মশিউজ্জামান খান বলেন, আগে এনালগ জগতে ছিল কেসিসির টেন্ডার প্রক্রিয়া। এখন তা ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হচ্ছে। সাধারণ ঠিকাদারদের অংশ গ্রহণ করতে বাধা দেয়ার কোন সুযোগ থাকছে না। ঠিকাদার সশরীরে হাজির না হয়েও টেন্ডারে অংশ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। যেটা বিগত দিনে ছিল না। সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে, সাধারণ ঠিকাদাররা খুব সহজে টেন্ডারে অংশ গ্রহণ করতে পারছেন। এতে করে প্রতিটি কাজের বিপরীতে শতাধীক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহণ করছেন। যা সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এখন আর টেন্ডার লটারির সময় ফাইল পত্র বহন করতে হচ্ছে না। ঘুরাতে হচ্ছে না কোন মেশিন। স্বল্প সময়ে নির্ভুলভাবে টেন্ডার লটারি সম্পন্ন হচ্ছে। এমন কি ঠিকাদার নগরভবনে না এসেই নিজ বাড়িতে বসে ইন্টারনেটের মাদ্যমে তিনি কাজ পেয়েছেন কি না তা সহজে জানতে পারবেন। এছাড়া এখন সিডিউলের মূল্যও কম রাখা হচ্ছে। যা টেন্ডারের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো বলেন,কেসিসির পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম খঞগ গঊঞঐঙউ এ অনলাইন টেন্ডারের লটারি অনুষ্ঠিত হলো।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর ফারুখ হিল্টন, মাহবুব কায়সার ও ইমাম হোসেন চৌধুরি ময়না, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নাজমূল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী-২ লিয়াকত আলী খান, নির্বাহী প্রকৌশলী-৩ মশিউজ্জামান খান, নির্বাহী প্রকৌশলী(বিদ্যুৎ) জাহিদ হোসেন শেখসহ বিভিন্ন ঠিকাদাররা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ