ঢাকা, বুধবার 17 May 2017, ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কেসিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলীসহ চারজনকে আসামী করে মামলা

খুলনা অফিস : যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু সালেহ পাটোয়ারীসহ চারজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নির্যাতিত স্ত্রী মুসলিম নেওয়াজ অ্যানি বাদি হয়ে পৃথক এ দু’টি মামলা দায়ের করেন।
গত ২ মে নগরীর বানরগাতী মেটেপুল এলাকার বাসিন্দা আলি নেওয়াজের মেয়ে মুসলিম নেওয়াজ অ্যানি বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল খুলনায় মামলা দায়ের করা হয়। যার নং-পি-২১৭/১৭। ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০ সংশোধিত ২০০৩ এর ১১(গ)/৩০ দ.বি.। শুনানী শেষে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে মামলা হিসেবে রেকর্ড করার জন্য আদেশ দেন। মামলার অন্যান্য আসামীরা হলো রূপসা উপজেলার তিলক গ্রামের মৃৃত. হোসেন পাটোয়ারীর স্ত্রী ছালেহা বেগম, ইসরাইল হোসেনের ছেলে আনিছুর রহমান ও তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার মনি।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৩ জুন দেড় লাখ টাকা কাবিনমূলে তাদের বিয়ে হয়। পরে তাদের পরিবারে ছেলে সন্তান জন্ম হয়। যার এখন বয়স তিন বছর। বিয়ের সময় আবু সালেহকে যৌতুক বাবদ দু’লাখ টাকা বিভিন্ন জিনিসপত্র ও নগদ এক লাখ টাকা প্রদান করেন। যৌতুক লোভী আবু সালেহ অন্যান্য আসামীদের কু-প্ররোচনায় জমি ক্রয়ের জন্য দু’লাখ টাকা দাবি করেন। গরীব পরিবার টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় আবু সালেহ নানা অজুহাতে অ্যানির ওপর নির্যাতন শুরু করে। বাদিনী তার সন্তানের দিকে তাকিয়ে সকল নির্যাতন মুখ বুঝে সহ্য করে। এক পর্যায়ে আবু সালেহ তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মারপিট করে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় নির্যাতিত অ্যানি বাদি হয়ে যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করেন। যার নং-সিআর-১৩৯/১৭। আদালত আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। আবু সালেহ বিষয়টি জানার পর ঘটনা মিমাংসার নামে গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাদীনির বাড়িতে সালিশীর ব্যবস্থা করে। সালিশ চলাকালে আসামীরা বাদীনির ঘরে প্রবেশ করে তাকে মামলা দায়েরের অপরাধে বেধড়ক মারপিট করে। যাওয়ার সময় যৌতুকের দু’লাখ টাকা না দিলে রক্ষা হবে না বলে শাসিয়ে যায়।
এলাকাবাসী ভিকটিমকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা পুলিশ আদালতে মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেয়। সে মতে, আদালতে মামলা দায়ের করেন। বাদীর আইনজীবী এডভোকেট আব্দুল জলিল শেখ বলেন, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সোনাডাঙ্গা থানাকে মামলা হিসেবে রেকর্ড করার জন্য আদেশ দিয়েছে।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মমতাজুল হক বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। যার নং-৩.তাং-২/৫/১৭ইং। মামলা তদন্ত করছেন এসআই লুৎফুল হায়দার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ