ঢাকা, বৃহস্পতিবার 18 May 2017, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২১ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তৃণমূলে কোন্দল নিরসনে কঠোর হচ্ছে বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার : তৃণমূলে কোন্দল নিরসনে কঠোর হচ্ছে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। সারা দেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং সংঘর্ষের ঘটনায় এ প্রদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে নিজেদের মধ্যে মারামারিতে লিপ্ত হচ্ছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। ফলে কোন্দল নিরসনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে দলটির হাইকমান্ড। 

জানা গেছে, তারই অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য গাজী শাহজাহান জুয়েল এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী আব্দুল্লাহ আল হাসানকে দলের সকল পর্যায়ের পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে বিএনপির সহদফতর সম্পাদক বেলাল আহমেদ স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব কাজী আব্দুল্লাহ আল হাসানকে দলীয় গঠনতন্ত্রের ৫ (গ) ধারা মোতাবেক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সকল পর্যায়ের পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তারা দু’জনই এখন থেকে দলের কোনো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকতে পারবেন না। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এছাড়া বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান শামীমকে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে ও সতর্কতার সাথে পালনের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

সূত্র মতে, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কর্মিসভার সময় সংঘর্ষে আহত হন সহসভাপতি এনামুল হক চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কর্মিসভার সময় সংঘর্ষে আহত হন সহসভাপতি এনামুল হক উত্তরের গ্রুপগুলো আবর্তিত হচ্ছে ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মীর নাছির, চেয়ারপার্র্সনের উপদেষ্টা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এসএম ফজলুল হক, কারাবন্দী যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, চাকসুর সাবেক ভিপি নাজিম উদ্দিনকে ঘিরে। আর দক্ষিণে ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, দক্ষিণ জেলা সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল, সিনিয়র সহসভাপতি শেখ মহিউদ্দিন, সহসভাপতি এনামুল হক এনাম এবং গন্ডামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীকে ঘিরে আলাদা আলাদা গ্রুপ সক্রিয়। দলীয় এই কোন্দলের জেরে দুই সাংগঠনিক জেলার অধীনে উপজেলা পৌরসভা-ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ে একাধিক কমিটি রয়েছে। যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্র দল, মহিলা দল, কৃষক দল ও শ্রমিক দলের মত বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর পরিস্থিতিও একই রকম।

চট্টগ্রামের বিএনপির দুই সাংগঠনিক জেলার বিভক্তি নিরসনের দায়িত্ব নিজের কাঁধেই নিয়েছেন দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। সোমবার রাতে চট্টগ্রামের ১৫ নেতার সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয় চট্টগ্রাম ‘উত্তর’ ও ‘দক্ষিণ’ জেলা কমিটি কেন্দ্র থেকেই করে দেয়া হবে। বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রামের দুটি কর্মিসভা কোন্দলের কারণে প- হয়ে যাওয়ায় বৈঠকে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া। দুই জেলা শাখার কর্মিসভায় মারামারি এবং সংগঠনে বিভক্তির জন্য চট্টগ্রামের দায়িত্বে থাকা নেতাদের ব্যর্থতাকেই তিনি দায়ী করেন। গত ২ মে চট্টগ্রাম উত্তর এবং ৩ মে দক্ষিণের কর্মিসভা দলীয় কোন্দলের কারণে মারামারিতে প- হয়ে যায়। তবে ৪ মে মহানগর বিএনপির কর্মিসভা হয়। কেন্দ্র থেকে সারা দেশে সংগঠন পুনর্গঠনে কর্মিসভা করতে যে ৫১টি দল গঠন করে দেয়া হয়েছিল, সেখানে চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগরের দায়িত্বে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। কোন্দলে ওই দুই সভা প- যাওয়ার পর সেখানকার নেতাকর্মীদের নিয়ে সোমবার রাতে নিজের গুলশানের কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পর রাজশাহী নেতাদের নিয়ে বৈঠক করার কথা রয়েছে খালেদা জিয়ার। সেখানেও কেন্দ্রীয় নেতার উপস্থিতিতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে নেতাকর্মীরা। এছাড়া আরও যে কয়টি জেলায় সংঘর্ষ হয়েছে তাদের নিয়ে বৈঠক করবেন বেগম জিয়া। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে বহিষ্কার করে তৃণমূলের পরিস্থিতি সামাল দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ